বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিঠি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিঠিটা লিখেছিলেন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একজন নারী তার প্রেমিককে। তিনি ১৯৫২ সালে কোরিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে লেখেন ওই চিঠি। তখন তার প্রেমিক মার্কিন সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। সেই চিঠিটার দৈর্ঘ্য ছিল ৩ হাজার ২০ ফুট লম্বা, যা লিখতে সময় লেগেছিল এক মাস। আবার খুবই ক্ষুদ্র চিঠি লিখেছিলেন চমৎকার ভাষাতে ফ্রান্সের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো।



গুহার ভেতরে পোস্ট বক্স

মালয়েশিয়ার সারাওয়াতে আছে গুহার ভেতরে পোস্ট বক্স। গুনুং মুলু ন্যাশনাল পার্কে ডিয়ার কেভের ভেতর এই পোস্ট বক্সটি রয়েছে। এই ডিয়ার কেভ ইউনেস্কোর কাছ থেকে বিশ্ব হেরিটেজের তকমা পেয়েছে।



ভাসমান ডাকঘর

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডাকঘর রয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতে রয়েছে একটি ভাসমান ডাকঘরও। কাশ্মীরের শ্রীনগরে ডাল লেকের ওপর এই ভাসমান ডাকঘরটি রয়েছে। ২০১১ সালের আগে এই হাউসবোটের ডাকঘরটি পরিচিত ছিল 'নেহরু পাক পোস্ট অফিস' নামে। পরে এর নাম বদলে হয় 'ফ্লোটিং পোস্ট অফিস, ডাল লেক'। এই ডাকঘরে দুটি ঘর আছে। একটি ঘরে ডাকঘরের কাজকর্ম হয় এবং অন্য ঘরটি একটি ছোট মিউজিয়াম, জম্মু-কাশ্মীরের ডাক বিভাগে কিছু উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নথির প্রদর্শন করা হয়েছে।



ডাকে পাঠান নারিকেল

আমেরিকার হাওয়াইতে মোলোকাই দ্বীপের হুলেহুয়া শহরে এমন একটি ডাকঘর রয়েছে, যেখান থেকে চিঠির বদলে নারিকেল পোস্ট করা যায়। এখান থেকে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হাওয়াইয়া নারিকেল পাঠাতে পারেন আপনি। ১৯৯১ সালে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এই প্রথা শুরু করা হয়। এখানকার ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার নারিকেল এখান থেকে পোস্ট করা হয়।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডাকঘর

পোল্যান্ডের একটি পোস্ট অফিসে মনে করানো হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার ইতিহাস। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানকার ডাকঘরের কর্মীরা তাদের দেশের নাৎসি হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের স্মরণ করেই এই ডাকঘরটির বাইরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এ ডাকঘরটি এখনও চালু আছে এবং এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্থানীয় পোস্টার ইতিহাসের কিছু প্রদর্শনী রয়েছে।



জলের নিচে ডাক

মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল সাবাহতে রয়েছে পানির নিচে পোস্ট বক্স। সেখানে পানির নিচে একটি ডুবে যাওয়া পুরোনো মালবাহী জাহাজের গায়ে একটি পোস্ট বক্স লাগানো আছে। ড্রাইভাররা ওয়াটারপ্রুফ পোস্টাল ব্যাগে ভরে এখানে পোস্টকার্ড ড্রপ করে যেতে পারেন। সপ্তাহে দু'বার ডাক-ডুবুরি এসে পোস্ট বক্স থেকে যাবতীয় পোস্ট কার্ড নিয়ে যান।



এভারেস্টে ডাকঘর

চায়না এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে রয়েছে একটি পোস্ট অফিস। সমুদ্রতল থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এ ডাকঘরই সম্ভবত বিশ্বের উচ্চতম পোস্ট অফিস। এভারেস্টের বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছে কেমন লাগছে- সে কথাই আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লিখে যাতে জানাতে পারেন, সে জন্যই স্থাপিত হয়েছিল এই ডাকঘর। তবে আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত খোলা থাকে এ পোস্ট অফিস।

মন্তব্য করুন