মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে

পরিবর্তন আসবেই

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

আমি নেতৃত্ব দেব কী করে? আমাকে তো জন্মের পরপরই বলা হয়েছে, মেয়ে তুমি উচ্চ স্বরে চিৎকার কোরো না, সূর্যের আলো দেখো না, ওখানে যেও না, এটা খেও না, ওদের সঙ্গে মিশো না। পেটে খাবার তুলে দেওয়ার সময় মাংসের বড় টুকরাটি, মাছের মুড়োটি মা সবসময় আমার ভাইয়ের পাতেই তুলে দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে শিখেছি সন্তান হিসেবে নয়, ঘরে আমার মূল্যায়ন একটি কন্যাশিশু হিসেবে। কখনও আমার কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তো আজ আমি নেতৃত্ব দেব কোন শক্তিতে? আমাকে তো দাবিয়ে রাখা হয়েছিল সেই আঁতুড় ঘরেই।
পেশাদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বায়নের লক্ষ্যে 'নারীকে নেতৃত্ব গ্রহণে উদ্ভূতকরণ' প্রকল্পের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ৭ জুন ওমেন হরলিক্স প্রেজেন্টস 'ওমেন লিডারশিপ সামিট ২০১৪' শীর্ষক অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কথাগুলো বলছিলেন প্রফেসর লতিফা শামসুদ্দিন। অনুষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগদান করেন। মোট সাতটি সেশনে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ পেশ করেন শীর্ষস্থানীয় নারীরা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেনের উপাচার্য ড. ফাহিমা আজিজ 'হাই পার্টিসিপেশন লো প্রেজেন্টেশন অব ওমেন : ডেঞ্জারস ডেমোগ্রাফি' শীর্ষক নিবন্ধ পেশ করেন। আইনজীবী ও পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান 'এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস দ্য কজ অব ওমেন' বিষয়ে আলোচনা করেন। প্যানেল আলোচনায় আলোচকরা বলেন, একজন মা শুধু নিজের জন্যই সন্তান জন্ম দেন না। বস্তুত তিনি সমাজকে একটি মানবসম্পদ দান করেন। মা হওয়া নারীর সামাজিক কর্ম। অথচ মায়েদের স্বাস্থ্য রক্ষায় পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র কেউই বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। পরিবার থেকেই নারী বৈষম্যের মাঝে বড় হন। শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার এবং নারীর প্রতি চিরন্তন অবজ্ঞার ফলস্বরূপ নারী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
প্রধান এজেন্ডাগুলো ছিল_ ওমেন অব টুমরো :হেলথ অ্যান্ড সাইকি-উই আর ডুইং এনাফ? দ্য রাইট পলিসি-প্রসেস টু সাপোর্ট ফিমেল লিডারশিপ ইন অর্গানাইজেশন, ওমেন লিডারস :দ্য রোড টু দ্য টপ, চেঞ্জিং ফিমেল পারসেপশন ইন সোসাইটি-রোল দ্য মিডিয়া, ড্রামা, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অ্যান্ড স্টোরিটেলিং শুড পে এবং এবিসি টু ভিকটোরি। আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর অ্যামেরিটরস ড. আনিমুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান, ড. জেবা মাহমুদ, ডাক্তার মেহতাব খানম, ড. হাসান জামান, শিপা হাফিজা, নাজনীন করমালী, আনিসুল হক, আলী যাকেরসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি, নেতৃত্বায়ন, সুস্থতা_ এসব নিয়ে আলোচনা তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন সমস্যা চিহ্নিত করে মাঠ পর্যায়ে নারীকে সচেতন করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সব নারীকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে, সম্পত্তিতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সর্বোপরি নারীকে 'মানুষ' ভাবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নারীকে স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে, আত্মবিশ্বাসী নারী এগিয়ে যাবে পরিবর্তনের দিকে। পরিবর্তন একদিন আসবেই-এমন আশাবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
মেহেরুন নেছা রুমা