মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে

দেশের প্রথম নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চায় রুমাইসা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

রুবেল খান চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশের প্রথম নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চায় রুমাইসা

দাবার চালে রুমাইসাকে গুনছে এখন বড় দাবাড়ূরাও

বুদ্ধির খেলা দাবা। মজার এই খেলায় জিততে হলে তীক্ষষ্ট বুদ্ধির পাশাপাশি জানা থাকতে হয় লড়াইয়ের নানা কৌশলও। মাত্র নয় বছর বয়সেই রুমাইসা দাবা খেলা বেশ রপ্ত করে ফেলেছে। নিজের এই দাবা প্রতিভার প্রমাণ রেখেছে সে এবারের চট্টগ্রাম জেলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টও। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৮৪ জন দাবাড়ূর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ূ হয়েও দুটি জয় ও একটি ম্যাচে ড্র করেছে রুমাইসা। সব মিলিয়ে তার অর্জন আড়াই পয়েন্ট। ক্ষুদে এই দাবাড়ূর বয়স বিবেচনায় নিলে স্বীকার করে নিতেই হবে, এত বড় দাবার আসরে এটি তার দারুণ পারফরম্যান্স। মেয়ের এই দাবা প্রতিভা দেখে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছেন বাবা কামরুল ইসলাম। মেয়েকে দেশের প্রথম নারী গ্র্যান্ডমাস্টার বানানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরীর রেড রোজ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রুমাইসা। এই বয়সে তার পুতুল খেলার কথা। কিন্তু তার বয়সী অন্য দশটা মেয়ের মতো হয়নি সে। বাবা কামরুল ইসলামকে দাবায় নিমগ্ন দেখে দেখে এই শিশুকালেই দাবার প্রতি ভীষণ টান জন্মেছে রুমাইসার। বাবার কাছেই দাবার হাতেখড়ি হয়েছে তার। এরই মধ্যে দাবা খেলায় বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে এই ক্ষুদে দাবাড়ূ। এবারের চট্টগ্রাম জেলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় এই বাপ-বেটি দু'জনেই অংশ নিয়ে আলাদা দৃষ্টি কেড়েছে সবার। প্রথমবারের মতো এই জেলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চমক দেখাতেও সক্ষম হয় ক্ষুদে দাবাড়ূ রুমাইসা। প্রতিযোগিতায় বড়দের বিপক্ষেও বেশ দাপটের সঙ্গেই লড়াই করেছে সে। সাত খেলায় দুটি জয় ও একটি ড্র করে অর্জন করেছে আড়াই পয়েন্ট। এই আসর থেকে শুধু আড়াই পয়েন্টই নয়, রুমাইসার অর্জন আরও অনেক। বড় আসরে খেলার এই অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে তাকে। সেই সঙ্গে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে তাকে বড় দাবাড়ূ হওয়ারও। বড় হয়ে কী হতে চাও? প্রশ্নটি করতেই ঝটপট রুমাইসার জবাব, 'বড় হয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই।' মেয়েকে নিয়ে এই স্বপ্ন দেখছেন রুমাইসার রেটিংধারী দাবাড়ূ বাবা কামরুল ইসলামও। দাবা নিয়ে নিজের অনেক স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দাবায় সেভাবে মনোনিবেশ করতে পারেননি। তাই দাবা নিয়ে তার বড় স্বপ্ন ফিঁকে হয়ে গেছে। এখন আর দাবা খেলায় নিজেকে ঘিরে স্বপ্ন নয়, বরং মেয়েকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দেশের প্রথম মেয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার বানাতে চান মেয়ে রুমাইসাকে। দেশে নারী দাবাড়ূদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই রানী হামিদ গ্র্যান্ডমাস্টার হতে পারেননি। এখনও তিনিই দেশের একমাত্র নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার। এখানেই নিজের মেয়েকে দেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার বানানোর স্বপ্নটা জোরালোভাবে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন কামরুল ইসলাম।
গ্র্যান্ডমাস্টার বানানোর স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এত অল্প বয়স থেকেই মেয়ে রুমাইসাকে দাবা খেলায় পারদর্শী করে তুলছেন কামরুল। মেয়েকে যেহেতু অনেক দূর নিয়ে যেতে চান, সেজন্য একেবারে পেশাদার দাবাড়ূদের দিয়েই নিয়মিত মেয়েকে দাবায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। চট্টগ্রামের দুই ফিদে মাস্টার আবদুল মালেক ও তনিমা পারভিনের কাছে নিয়মিত দাবার কলাকৌশল শিখে নিচ্ছে রুমাইসা। এ বছর সাব-জুনিয়র দাবা প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান লাভ করেছে সে। ক্রমে নিজেকে চৌকস দাবাড়ূ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে এই ক্ষুদে দাবাড়ূ। তারপরও মেয়েকে গ্র্যান্ডমাস্টার বানানোর জন্য প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জায়গায় রেটিং দাবা প্রতিযোগিতায় নিয়ে যাবেন বলে জানান কামরুল ইসলাম।