মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে

পাত্রী হবে সর্বগুণে গুণান্বিত...

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

তাওহিদা খানম তাসমিন

একজন পুরুষকে বিয়ের পাত্র হতে খুব বেশি গুণের অধিকারী হতে হয় না, তবে একজন নারীকে পাত্রী হিসেবে হতে হয় বহুগুণের অধিকারী। পাত্রীর গুণের চাহিদা যেন এখন আরও বেড়েছে। সদ্য পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কিংবা পড়াশোনা শেষ হওয়ার পথে এমন বেশ কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে কথা হয় -জীবন সঙ্গী হিসেবে কেমন মেয়ে তাদের পছন্দ, বিষয়টি নিয়ে । তাদের কথার মধ্য দিয়ে যে দিকটি স্পষ্ট হয় তা হলো, পাত্রী হবে সর্বগুণে গুণান্বিত।
মাস্টার্স পাস করে একটি সরকারি অফিসে সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন আরাফাত হোসেন। বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কেমন নারী তার পছন্দ ? বললেন, 'সব পুরুষই আশা করে তার স্ত্রী যেন অনেক গুণে গুণান্বিত হয়। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমার স্ত্রী যেন শুধু আমার স্ত্রী নয়, ভালো বন্ধুও হয়। তিনি তার স্ত্রীর মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেখতে চান তা হলো_ জীবনসঙ্গীকে হতে হবে বন্ধুসুলভ, সত্যবাদী, সবাইকে মানিয়ে চলা, সুখ-দুঃখের ভাগীদার, স্পষ্টভাষী, সর্বোপরি যে কোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে চলার মতো ক্ষমতা। তিনি তার স্ত্রীকে গৃহিণী হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করবেন। তবে স্ত্রীর যদি চাকরি করার খুব আগ্রহ থাকে, সেক্ষেত্রে সরকারি চাকরিই তার পছন্দ।
অন্যদিকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারা, সাংসারিক, সর্বোপরি পরিবারের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারে এমন মেয়েকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান একটি
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত
ইঞ্জিনিয়ার আবদুল করিম খান। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষিত ও চাকরিজীবী মেয়ে পছন্দ করেন।
এ দুটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাত্রী হিসেবে আমি অবশ্যই শিক্ষিত একজন মেয়ে চাই। তারপর অন্যকিছু। কেননা একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষিত হওয়ার ব্যাপারে এক ধাপ এগিয়ে যায়। একজন শিক্ষিত মা জানেন তার সন্তানদের কীভাবে মানুষ করে তুলতে হয়। চাকরিজীবী নারী পছন্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাকরি করলে কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না। সে বাস্তবতা ভালো বোঝে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার মধ্যে সহনশীলতা তৈরি হয়। মনটাও বড় হয়।
একটি সরকারি প্রকল্পে কর্মরত নজরুল ইসলামের মত হচ্ছে, তার স্ত্রীকে অবশ্যই নম্র, ভদ্র, শান্ত স্বভাবের হতে হবে, তার মধ্যে কোনো চঞ্চলতা থাকবে না। তার চাহিদাটা সে ভালোভাবে বুঝতে পারবে। তিনি বলেন, আমি স্ত্রীকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে থাকতে চাই। সেক্ষেত্রে আমি চাইব সে যেন পরিবারের সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলতে পারে। সবকিছু মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও যেন তার মধ্যে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সঞ্জীব কুমার বিশ্বাসের পাত্রী হিসেবে সুন্দরী, উচ্চ শিক্ষিত ও মার্জিত মেয়ে পছন্দ। তিনি ভবিষ্যতে এমন একজনকে স্ত্রী হিসেবে আশা করেন, যে তাকে বুঝবে, তার পেশা সম্পর্কে অবগত থাকবে, তার ভালো লাগা-মন্দ লাগাকে গুরুত্ব দেবে, না বললেও অপ্রত্যাশিত কিছু করবে, পারিবারিক সব রকম ব্যবস্থাপনা করবে, সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতার পাশাপাশি ধৈর্যশীল ও মিশুক স্বভাবের হবে। স্ত্রীকে চাকরিজীবী হিসেবে দেখতে চান কি-না_ এমন প্রশ্নে সঞ্জীব বলেন, 'আমার মা-বাবার মতো আমিও চাকরিজীবী মেয়ে পছন্দ করি। তবে পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার পর যে ধরনের চাকরি করা সম্ভব সে রকম।' স্ত্রীর মধ্যে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা কর্তৃত্ব, সন্দেহপ্রবণতা, অশোভন আচরণ, ভারতীয় সিরিয়ালের প্রতি আসক্তি_ এগুলো তার খুবই অপছন্দ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে সদ্য পাস করা শিক্ষার্থী সরওয়ার উদ্দিনেরও সঞ্জীবের মতো শিক্ষিত, সুন্দরী ও ভালো বংশের মেয়ে পছন্দ। মেয়েকে আর্থিক দিক দিয়ে অতটা সচ্ছল না হলেও চলবে। তবে তাকে হতে হবে উদার মনমানসিকতার। সমবয়সীদের বিয়ে করতে আগ্রহী নন অনেক ছেলেই। সদ্য যোগদান করা সরকারি কলেজের শিক্ষক নাজমুল হাসান বিয়ের জন্য অনেক পাত্রীই দেখেছেন। দু'একজনকে ভালোও লেগেছে কিন্তু সমবয়সী হওয়ার কারণে বিয়ে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে তাকে।
প্রেমের কিংবা পছন্দের বিয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই ধরনের চাওয়া থাকে। রাকিব কাজ করেন নামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে। রোজাও একই ব্যাংকে ছিল। রোজার সৌন্দর্য, মেধা আর ক্যারিয়ার সচেতনতার বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল বেশি। নিজেই উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তারপর পারিবারিকভাবে বিয়ে। স্ত্রী মেডিকেলের ছাত্রী তানিয়ার মেধাই বেশি আকর্ষণ করেছিল প্রকৌশলী জাহিদকে। তবে নম্র, ভদ্র এবং ওর শ্যামল সৌন্দর্যও আকর্ষণ করেছিল আমাকে বলেন জাহিদ।