মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে

বউ বিক্রি!

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

আহমদ উল্লাহ পটিয়া

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ভাণ্ডারগাঁও গ্রামের মৃত নুরুল আবছারের ছেলে এমদাদুল হক একই ইউনিয়নের মহিরা পেরপেরা গ্রামের ইউনুছের মেয়ে আয়েশা আকতার ঊর্মির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঊর্মি ও এমদাদ দূরসম্পর্কের খালাতো ভাইবোন। ঊর্মি স্থানীয় এবিটস এনজিও সংস্থায় চাকরি করত। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই ঊর্মি ও এমদাদ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে অ্যাডভোকেট পুলিন রঞ্জন দাশের সাহায্যে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্ন করে। এর পর উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঊর্মি ও এমদাদ দু'জন এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়। গত ২১ জানুয়ারি মেয়ের মা জাহান আরা বেগম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। যার নং ৬৮/১৪। এতে স্বামী এমদাদুল হক, রিদুয়ানুল হক, তসলিমা আকতার, মোসাম্মত হালিমা বেগমকে আসামি করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে এমদাদ বাড়ি এলে মেয়ের মা তার কাছে ঊর্মি কোথায় জানতে চাইলে এমদাদ জানায়, সে একটা কোম্পানিতে চাকরি করছে। আগামী মাসে বাড়ি আসবে। ঊর্মির বাবা না থাকায় তার পরিবারটি খুবই গরিব ও অসহায়। ঊর্মির ভাগ্যে কী জুটেছে, খবর নেওয়ার কেউ নেই। গত জুনে মোবাইল ফোনে ঊর্মির মাকে জানানো হয়, ঊর্মিকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাকে পেতে চাইলে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। এ খবর শুনে এমদাদকে আটক করতে চাইলে সে পালিয়ে যায়। জুলাইয়ে এভাবে আরও দু'তিনবার বিভিন্ন নম্বর থেকে ঊর্মির মাকে ফোন করা হয়, টাকা দিয়ে তাকে ফেরত নিতে। কিন্তু এসব ফোনের সঠিক কোনো ঠিকানা নেই।
আয়েশা আকতার ঊর্মিকে বিয়ে করে দুষ্টচক্রের হাতে বিক্রি করে দিয়েছে প্রতারক স্বামী এমদাদুল হক। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতারক স্বামী তাকে চাকরির নামে বিক্রি করে দেওয়ার পর ৮ মাস পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ভাণ্ডারগাঁও গ্রামে। এদিকে গত জুনে ০১৮১৮৮৩৬৮৩৭ নম্বর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোনে ঊর্মির মাকে জানিয়েছে, উর্মিকে ৮০ হাজার টাকায় এমদাদ তাদের (অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের) কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিলে ঊর্মিকে তারা ফেরত দেবে। ঊর্মির মা জাহানারা বেগম গত ১২ জুন পটিয়া থানায় এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন। আট মাস ধরে মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ঊর্মির মা ২০ আগস্ট পটিয়া নারী জাগরণ সংস্থায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নারী জাগরণ সংস্থার সভানেত্রী পারভীন আকতার বলেন, ঊর্মি আকতারকে নারী পাচারকারী চক্রের হাতে তার স্বামী বিক্রি করে দিয়েছে, তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছি।