ডায়েরির পাতা থেকে

নায়িকা নায়িকা মনে হলো না তাকে!

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮      

আফজাল হোসেন

২৩ মে, ২০১৮

মৃত্যু কী?

একটা দুঃখজনক ঘটনা।

মৃত্যু জীবিতদের পীড়া দেয়, ব্যথিত হওয়ার সুযোগ দান করে। একই সঙ্গে বেঁচে থাকার কত মহৎ, প্রেমময় তাও জানান দেওয়ার উপযুক্ত উপলক্ষ মেলে।

মানবজীবনের প্রতি মানুষের অপরিসীম উদাসীনতা অজ্ঞাত নয়। যে জীবন আমরা বহন করে চলেছি, তা আপন আপন প্রাপ্তি ও আনন্দে আনন্দময়। তাতে কতখানি আলো আর কী পরিমাণ অন্ধকার, ভেবে দেখা হয় না। ভেবে দেখতে চাইও না।

কারও মৃত্যু হলে মুহূর্তেই মৃত মানুষটা বিশেষ হয়ে ওঠে। জীবিতকালে কর্মক্ষেত্রে, সম্পর্কে ও দীর্ঘ জীবন পরিসরে তাকে বিশেষ না হোক, মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে পেরেছে কতজন, সে হিসাব কেউ না করলেও চলে যাওয়া মানুষটার দুর্ভাগ্য, সততা, নিষ্ঠা, অনেক গুণপনা নিয়ে বুক খোলা কথা হয়, হবে নিয়ম এমনই।

বেঁচে থাকা কী?

শ্বাস ফেলতে পারা মানে কি বেঁচে থাকা?

মানুষ ও পশুর বেঁচে থাকার মধ্যে বিস্তর ভেদ রয়েছে। দায়, কর্তব্য এড়িয়ে যে বেঁচে থাকা, তা শরমের হলেও গৌরবের সঙ্গে উপভোগ করে মানুষ। নিজেকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানোর সামর্থ্য যার বা যাদের থাকে তাদের ভাবা হয় বিশেষ। যেসব মানুষ নিজের স্বার্থরক্ষায় নির্লজ্জ হতে পারেনি, চালাকি রপ্ত করে যারা সময়ের যোগ্য হয়ে উঠতে পারে না, তারা দিকহারা হয়ে ক্রমে গড়িয়ে যেতে থাকে পাতালের দিকে। হায়! সে পাতালযাত্রা টের পেলেও তাদের দিকে কোনো বাড়ানো হাতের দেখা মেলে না।

জীবন মাত্র একবারের। সে জীবন অজস্র সংকীর্ণতায় ডুবু ডুবু। হৈ হৈ রৈ রৈ স্বার্থোৎসবে আচমকা কারও মৃত্যু খবরে নড়েচড়ে বসে আহা উহু করে শান্তি লাভ হয়। দিন গেলে সব থাকে একই রকম। কেউ বদলাবে না, কিছুরই পরিবর্তন ঘটবে না। সাপ সিঁড়ির লুডু খেলা চলতে থাকবে, চলতে থাকবে, চলতেই থাকবে...

১৯ জুন, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি কানেকশনসের টার্গেটে ঢুকতেই মনা একজন ভদ্রমহিলাকে দেখতে পায়। ছবি তুলবে ভেবেছিল কিন্তু ধারেকাছে আমি ছিলাম না। প্রায় মিনিট কুড়ি পরে দেখা হলো দু'জনের। দেখা হওয়া মাত্রই মনার আফসোস, ইস্‌ আর একটু আগে দেখা হলে হেমা মালিনীর সঙ্গে ছবি তোলা যেত!

ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখে পড়ে সামান্য দূরে তিনি দাঁড়িয়ে। ছবি তোলার আগ্রহের কথা জানান দিতে চেনাজানা মানুষের মতো হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে গেলেন।

দু'জনের ছবিটা তুললাম আমি। তিনজনের ছবিটা তুলে দেওয়ার জন্য একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা মেয়েটাকে নাম ধরে ডাকলেন ড্রিম গার্ল। ছবি তুলে দিলে ধন্যবাদ জানিয়ে মনা বলে- অহনা, আমরা তোমাকেও চিনি।

মেয়ে অবাক, আগে কি কোথাও কখনও তোমাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল?

মনা হেসে জানায়, বিখ্যাত মায়ের মেয়ে বলে তুমি অখ্যাত নও...

কথোপকথন শুনে মিটি মিটি হাসেন ড্রিম গার্ল। নায়িকা নায়িকা মনে হলো না তাকে।

কন্যাটিও তেমন, একেবারেই সাধারণ।

২৯ জুন, ২০১৮

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য মানুষ মানুষের পিণ্ডি চটকায়, চুলে টেরি কেটে পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গের আশায় কোমর বেঁধে নামে।

ঠকিয়ে, শাসিয়ে, চেঁচিয়ে, দাপিয়ে, অনেকে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে আমোদ লাভ করে। জোর খাটিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই তামাশা বিশেষ। তা হালুম হুলুম করে জাহিরের বিষয় নয়। মানুষকে মর্যাদা দান, সম্মান করতে পারার সামর্থ্য থাকাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।

যে চার তলাতে থাকছি- তার জানালা বা বারান্দায় দাঁড়ালে মনে হয়, রয়েছি জমিন আর সবুজ ঘাসের কাছাকাছি। বাগান যেন শ্বাসের নাগালে। বিস্ময়ের বিষয়, চোখে দেখা বাগানটা মাটি থেকে তিন তলা উপরে।

সবকিছু সহজে বিশ্বাস করার অভ্যাস নেই বলে প্রথম দিন কলা পাতা ছুঁয়ে, গন্ধ নিয়ে দূর করতে হয়েছে অবিশ্বাস। অবিশ্বাস ছুঁচোর মতো পালিয়ে গেলে জেগেছে বিস্ময়।

মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব। সবই পারে মানুষ, যদি সাধ জাগে মনে, যদি মন চায়।

মনে উঁচু তলায় বাগান রচনার সাধের কারণ, মানুষ যেন ভালো থাকে। উঁচুতে বসবাসের কারণে কাউকে যেন মাটি, সবুজ, প্রশান্তির অভাববোধে ভুগতে না হয়। এই হচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা ও শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ। মানুষের প্রতি সম্মান জানানোর এও এক ধরন। জগৎসংসারে মানুষ ও মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এইভাবে সগৌরবে টিকে আছে, থাকবে, থাকবে...

৪ জুলাই, ২০১৮

ছেলের চুল কপালে গড়াগড়ি। বললাম, চল পাপা চুল কাটিয়ে আসি। অবাক করা ঘটনা, বলা মাত্র রাজি হয়ে গেল। সোফা থেকে খেলা ছেড়ে উঠে সোজা গিয়ে দাঁড়ায় একত্রে তোলা দুই ভাইয়ের একটা ছবির সামনে। বড়টার ছবি দেখিয়ে বলে, ভাইয়ার চেয়ে ছোট করব না।

গেলাম সেলুনে। ওরটা কাটানো শেষ হলে দেখি মুখে নবীন দাড়ি-গোঁফের সাম্রাজ্যে হাত লাগাতে দেয়নি। অবাক হই, কিরে দাঁড়ি-গোঁফ কাটলি না! নির্বিকার চেহারায় ছোট্ট উত্তর, না থাক।

-থাক মানে!

-থাক মানে থাক।

প্রসঙ্গের এখানেই ইতি।

ফেরার সময় ভাবি, সময় বদলেছে। এক সময় আমাদের কারও পছন্দ অপছন্দের দাম ছিল না। দাদার হুকুম, আদেশ নির্দেশ মেনে সবাইকে চলতে হতো। তারপর এলো আব্বার কাল। বিনা বাক্যে তার হ্যাঁ বা না মেনে চলতে বাধ্য ছিলাম। সে দিন আর নেই। নেই। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর হবু স্ত্রী জানান দিয়েছিল, নিজ নামের পেছনে পিতার নামের যে অংশ রয়েছে তা বদলানোর ইচ্ছা তার নেই। বদলায়নি।

সবাই আলাদা মানুষ। বয়সে বড় বা ছোট হলেও ভাবনায়, চিন্তায়, দর্শনে কারও মতো কেউ নয়। একেকজন একেক রকমের।

কারও মত ও পথ কারও সঙ্গে না মিললে সে মানুষ মন্দ, সর্বনাশা, শায়েস্তার উপযুক্ত হয়ে ওঠে না। ভিন্নতায়, বৈচিত্র্যেই মানুষ এবং এই জগৎ সংসার অতীব সুন্দর। া

পরবর্তী খবর পড়ুন : সাত সুরের প্রজাপতি

ইশতেহার কি আমাদের জন্য

ইশতেহার কি আমাদের জন্য

আমরা ভাসতে ভাসতে ডুবতে ডুবতে সময়ের গ্রন্থিগুলো পার হচ্ছি। অনেকটা ...

জাপার কৌশল নাকি বিদ্রোহ

জাপার কৌশল নাকি বিদ্রোহ

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থেকেও দলটির বিপক্ষে ১৪৮টি আসনে প্রার্থী ...

বিদ্রোহীদের নিয়ে তবুও অস্বস্তি দুই জোটে

বিদ্রোহীদের নিয়ে তবুও অস্বস্তি দুই জোটে

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আনোয়ারুল আবেদীন ...

ফয়সালা আজই!

ফয়সালা আজই!

ঐচ্ছিক অনুশীলনে সিনিয়রদের কেউই আসেননি। ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ...

প্রথম স্বীকৃতিদাতা ভুটান

প্রথম স্বীকৃতিদাতা ভুটান

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ ...

শেষ মুহূর্তের মনোনয়ন পাল্টে দিল সমীকরণ

শেষ মুহূর্তের মনোনয়ন পাল্টে দিল সমীকরণ

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ ...

ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল 'বোমা লিটন'

ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল 'বোমা লিটন'

পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সহিদ 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হওয়ায় দলছুট ...

ঢাকার ২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৪ প্রার্থী

ঢাকার ২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৪ প্রার্থী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে (ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮) ...