দেবী দেখতে গিয়েছিলাম সাতজন একত্রে। চমৎকার ছবি। সাতজন, পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হলেও সবাই তো একরকম নয়। যে যেমনই হোক দেবীতে মুগ্ধ সবাই। এমনটা সাধারণত হয় না। কারও বেশি ভালো লাগে, কারও গলায় হয়তো উত্তেজনা বা উচ্ছ্বাস কম থাকে, কম করেই ভালো লাগার কথা বলে। কেউ কেউ দু-একটা ত্রুটির কথা বলে টলে, তারপর জানান দেয় ভালোই বা বেশ ভালো। অনেকজন মানে অনেক ধরনের মানুষ, অনেক রকমের মত। অমিলের মধ্যে মিল হচ্ছে দেবীর জাদু সবাইকে এক করে ফেলেছে। যে ক'জন একসঙ্গে গিয়েছিলাম, সিনেমা দেখা শেষে প্রত্যেকের দশা একরকম। সবাই বাকহারা। খানিক সময় চুপচাপ বসে থেকে একসময় ধীরে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো হয়। ক'মুহূর্ত কেউ কিছু বলে না, কিন্তু সবার চোখেমুখে হাসির যে ঝিকিমিকি- তা দেখে পরিস্কার হয়ে যায়, কার মনে দেবী দর্শনের কেমন অনুভূতি নড়াচড়া করছে।

সপ্তাহের শেষে দলেবলে দেবী দেখতে যাওয়া হয়েছে। তখনও সে ছবি দেখার জন্য মানুষের সমাগম দেখে মনে হলো- দেবীর প্রতি আগ্রহ, কৌতূহল সপ্তাহখানেকে কমেনি। ছবি দেখার পর ধারণা করে নেওয়া যায়, দেবী দেখে ভালো লাগার অনুভূতি মানুষ থেকে মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে। আরও ছড়াতে থাকবে মুখে মুখে।

ছবি দেখা শেষ করে হল থেকে বের হওয়া মানুষজনের মুখে মুখে পাওয়া যাচ্ছিল আনন্দময়তার ঝলকানি। লিফটের দরজা পর্যন্ত আসতে গিয়ে সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছিল এদৃশ্য্লওদৃশ্যের বর্ণনা। অজস্রজনের ভালো লাগার উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল চারদিক। লিফটে উঠে আর একরকমের মুখরতা। কে ভয় পেয়েছে আর কে পায়নি সে আলাপে চেনা-অচেনা দর্শক একাকার হয়ে যায়। এক স্বামী উপস্থিত সবাইকে নিজের বাম হাত দেখিয়ে বললেন, দেখেন সবাই আমার স্ত্রী শক্ত করে হাত চেপে ধরে ধরে তার নখের ধারে হাতের কী হাল করেছে। দেখা গেল ভদ্রলোকের হাতে অসংখ্য নখ বসানো দাগে রক্ত জমে আছে। দৌড়ে নিচে নামতে থাকা লিফটের ভেতর বিভিন্ন তলার আলোর ছোটাছুটি। সে অস্থির আলোয় ভদ্রলোকের পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী বেচারা মুখ নিচু করে লজ্জা আড়ালের চেষ্টা করেন।

দেবী সিনেমাটা ভৌতিক কি-না? দেবী দেখার আগে অনেক স্থানে আলোচনায় এ প্রশ্নটা উঠতে শুনেছি। এক এক মানুষের দেখা আর দেখে বোঝার ধরন একই রকম হওয়ার কথা নয়। কারও কারও মত, অনেক দৃশ্য ভয় পাওয়ার মতো। কেউ চোখ গোল করে বলতে পারে, অনেক ভয়ের ছবি। ভূত নিয়ে, ভয় নিয়ে বেশি মাথা ঘামানো মানুষেরা ছবির আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবেন। সেটা বড়সড় লোকসান। অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে ইস্‌ উফ্‌ করার চেয়ে দেবী কেন ভয়ের, কেন চমৎকার সেটা নিজে হলে গিয়ে, নিজের চোখ দিয়ে দেখে নিজের মন দিয়ে অনুভব করাই শ্রেয়তর।

একটা কথা আমাদের সবারই জানা। এ দেশে বর্তমানে বহু তরুণ নির্মাতা পরিবেশ-পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে ভালো সিনেমা বানানোর জন্য রক্ত-ঘাম একাকার করে চলেছেন। তাতে 'একলা চলো'র বাহাদুরি বা বাসনা নেই। থাকে সদিচ্ছা। এসব সাহসী তরুণ নির্মাতা বিশ্বাস করেন, দর্শকের মনে ভালোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। দর্শকের প্রতি ততটা আস্থা-সমীহ রয়েছে বলেই বিগত বছরগুলোতে বহু নির্মাতা চলচ্চিত্রের গৌরবকাল ফিরিয়ে আনার জন্য দৃঢ়চিত্তে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই চেষ্টায় প্রবল সাহস ও উদ্দীপনায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান। জয়া প্রযোজনা করেছেন দেবী। ছবি নির্মাণের শুরুর দিকে যখন খবরটা কানে আসে বিস্ময় জাগেনি, মনে হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্ত একজন নিবেদিত শিল্পীর পক্ষে খুবই স্বাভাবিক।

জয়া দীর্ঘকাল অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। সগৌরবে যুক্ত হয়েছেন ওপার বাংলার চলচ্চিত্রেও। অভিনয় করে সমালোচক, দর্শক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিতও হয়েছেন। মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করে ভালো রোজগেরে অভিনয়শিল্পী হয়ে উঠতে পেরেছেন- এখন পর্যন্ত বলা চলে না। তা না হয়েও জয়া এত বড় একটা ঝুঁকি আচমকা নিয়ে ফেলেছেন তেমন নয়, একজন প্রকৃত অভিনয়শিল্পীর মনে ভালো চরিত্রের জন্য ক্ষুধা থাকে। সেই ক্ষুধা হয়তো তাকে প্রযোজনার সাহস জুগিয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় যদি ভাবা হয়, সে সাহস যেনতেন সাহস নয়। অতি মাত্রার সাহসই বলা চলে। আবার অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এবং এরকম একটা চমৎকার চরিত্রের লোভ জয়ার মনে প্রযোজনার বাসনা জাগিয়ে দিয়েছে- এমনটা ভাবলে তার বড় সাহসটাকে খানিকটা ছোট করে দেখা হয়। প্রযোজনায় উৎসাহের সেটা একটা কারণ হতে পারে। এটাও বিবেচনায় আনতে হবে, ওপার বাংলার চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ততার কারণে সৃজনশীল এক পরিমণ্ডলে অনেকটা সময় কাটানোর সুযোগ মিলেছে তার। সে পরিমণ্ডলে চলে সুস্থ চলচ্চিত্র নিয়ে লাগাতার চর্চা ও অনুশীলন। সে প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে উপযুক্ত বোধ বিবেচনায় সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা।

প্রযোজনার চিন্তায় জয়ার সে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা টের পাওয়া যায়। জীবনে প্রথম যে নতুন ইচ্ছা জেগেছে- তা যেন আলাদা কিছু হয়। গল্প, চলচ্চিত্রের ধরন সবকিছুতে নতুনত্বের সন্ধান পেতে পারে দর্শক। এমন দৃঢ় বিশ্বাস মনে জেগেছে বলেই বোধ করি অভিনয়শিল্পী জয়া হতে চাইলেন প্রযোজক জয়া।

দেবী প্রযোজনায় সাহস দেখানোর জন্য প্রযোজক জয়া আহসানকে বিশেষভাবে তারিফ করতেই হয়। সাহসের কথা এ কারণে, হুমায়ূন আহমেদের দেবী প্রচলিত ধারণার গল্প নয়। আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি, যে সময়টাতে চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের আগ্রহ আছে এবং নেই, এরকম ত্রিশঙ্কু দশা। একসময় সিনেমার প্রতি দর্শকের এতটাই আগ্রহ ছিল, প্রেক্ষাগৃহে মাসের পর মাস সিনেমা চলেছে, প্রেক্ষাগৃহের পুরো কপালজুড়ে প্রিয় ছায়াছবির ব্যানার ঝুলে থেকেছে, জানান দিয়ে চলেছে সাফল্যের গৌরব। এ দেশেও দর্শক একসময় প্রতি শুক্রবার নতুন ছবি দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতেন।

ভালো সিনেমা, ভালো চলেছে সে উদাহরণ দু-চারটে হাতে থাকলেই বলা যায় না চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের সে রকম বিশেষ আগ্রহ এখনও রয়েছে। সিনেমা দেখার সংস্কৃতি এ দেশে ভালোমতোই ছিল, নেই হয়ে গিয়েছিল, এখন আবার তা ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে- এমন কথা বলাবলি হয় এখন। সেটা আশার কথা। সময়টাতে নানাবিধ অনিশ্চয়তা থাকলেও আশা সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়। আশাবাদই প্রথার বিপরীতে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়, মানুষকে পরম কিছু পাইয়ে দেয়। আশাবাদী ও সাহসী স্বপ্ন দেখা মানুষেরা সময়কে বদলে দেয়। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাসে এখনও ভাটা; তবু দর্শকের ওপর ভরসা করেছেন প্রযোজক জয়া এবং চিত্রনাট্যকার পরিচালক অনম বিশ্বাস। ভালো এবং নতুনত্বের প্রতি আগ্রহ, কৌতূহল নিশ্চয়ই রয়েছে দর্শকের। সে আগ্রহে কৌতূহল তাদের হলমুখো করতে পারবে। এমন হিসাব-নিকাশ এবং আশা ব্যর্থ হয়নি।

পুরো ছবিটা দেখার সময় একবারও মনে হয়নি নির্মাতা অনম বিশ্বাসের এটা প্রথম ছবি। নির্মাতা হিসেবে তার সবচেয়ে বড় গুণ পরিমিতি বোধ। কোথাও কখনও এক মুহূর্তের জন্য তা থেকে বিচ্যুত হতে দেখা যায়নি। অনম বিশ্বাসের দৃশ্যভাবনা মুহূর্তে মুহূর্তে মোহিত করে। নিপুণ বুনন শিল্পীর মতো তিনি গল্পকে ফ্রেমে ফ্রেমে বুনেছেন একই সঙ্গে মাত্র গুটিকয়েক চরিত্র, তবে সবগুলোকে বিশেষত্বদান করতে পেরেছেন। এ যোগ্যতা নিঃসন্দেহে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এ ছবির কাহিনী সোজা-সরল নয়। দর্শক ছবি দেখার সময় অনুভব করেন সহজ-সরল গল্পটি দেখছেন। তেমন বোধ হয় বলেই চরম উত্তেজনায় দর্শক পুরোটা সময় চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন এবং ছবি শেষ হয়ে গেলেও সেই জড়ানো থেকে সহসা আলগা হতে পারেন না।

বেশ জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক গল্পকে দর্শক আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে অনুসরণ করবেন- তেমন ঘটনা পর্দায় উপযুক্তভাবে উপস্থাপনার জন্য বিপুল সামর্থ্য থাকতে হয়। অনম বিশ্বাসের চিত্রনাট্যের পরতে পরতে এবং নির্দেশনায় সে সামর্থ্য অনুভব করা যায়। কিছু দৃশ্যকল্পে দর্শক নিজ আসনে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হন। সবগুলোই আচমকা এবং খুবই নিয়ন্ত্রিত। সংলাপ এবং দৃশ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেখে আনন্দ ও বিস্ময় জাগে। উচ্চমার্গীয় একটি বিষয়কে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে কীভাবে নিতে হয় সেই কলা অনম বিশ্বাস ভালো করেই জানেন। বিস্ময় জাগে, সাধারণভাবে পরিবেশনের চেষ্টায় দেবী মোটেও কোনো মুহূর্তে পানসে হয়ে যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেবীতে আধুনিকতা বজায় থেকেছে। চলচ্চিত্রের শিল্পিত, সমকালীন রূপেও মুগ্ধ হন, হতে থাকেন দর্শক। যারা প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছেন, ফিরছেন বিশেষ এক সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হলো- এমন চমৎকার অনুভব নিয়েই।

ব্যাপারটা মজারই। আমরা একসঙ্গে সাতজন সিনেমাটা দেখেছি। দেখা শেষ হলে যার যার বাড়ির দিকেই চলে যাওয়ার কথা। তা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। সবারই মনে হচ্ছিল- অনেক কথা আছে। ছবিটি কেন্দ্র করে অনেক ভালো লাগার কথা পরস্পরকে বলতে হবে, শুনতে হবে। সে-সব কথা বলাবলির জন্য একত্রে একটি বাসায় মিলিত হলাম। দেবী নিয়ে অনেকক্ষণ আলোচনা, আড্ডা চলল- মধ্যরাত পর্যন্ত।

জয়া আহসানের অভিনয়ে সবাই মুগ্ধ। দেবীর রানুতে পুরো মিশে যেতে পেরেছেন বলে কখনও কখনও কারও কারও লোম দাঁড়ানো অনুভূতি হয়েছে। অবাক হওয়ার মতো- কে কেমন অভিনয় করেছেন, সেই আলাপে গিয়ে সবার কথাই আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়েছে। তারুণ্য ঢেকে মিসির আলিতে প্রবেশ সহজ নয়। চঞ্চল চৌধুরী অনায়াসে, অবলীলায় সেই চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। একেবারে সাদামাটা একটি চরিত্র মনে হতে পারত নীলুকে। স্বাভাবিক একটি চরিত্রে অতি স্বাভাবিক অভিনয়ের বিশেষ গুণে কোনো চমক লাগা মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়, শবনম ফারিয়ার সেই সামর্থ্যে দর্শক বিস্মিত হলো। ইরেশ যাকের, অনিমেষ আইচ কেমন অভিনয় করেছেন তা বর্ণনা করার চেয়ে আনন্দের সঙ্গে বলা যায়- নিজেদের নাম, পরিচয় টপকে দু'জনই চিত্রকাহিনীর চরিত্র বনে যেতে পেরেছেন। যে চরিত্রের জন্য যাকে নির্বাচন করা হয়েছে, একেবারে নির্ভুল এবং উপযুক্ত মনে হয়েছে।

অদ্ভুত কাণ্ড। অতটা সময়ে আড্ডায়, মন ভরে শুধু দেবীর প্রসঙ্গই হলো, কেউ দু-চারটি দোষ-টোষ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে না বা ভুল বের করে দু-চারবার তা নিয়ে বলার ইচ্ছাও মনে জাগে না কারও।

সবাই চিত্রগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করবেন। চিত্রনাট্য, নির্মাণ, অভিনয় যতটা প্রাণবন্ত, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান আলো নিক্ষেপণ ও চিত্রগ্রহণের। ঘটনা, চরিত্র, সময়, আবহ- সব কিছু যথাযথ না হলে দেবী বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারত না- বড়জোর একটি ভালো কাহিনীচিত্র মনে হতে পারত। ভালোকে ছাপিয়ে দেবী বছরের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে বৈশিষ্ট্যে, সামগ্রিক ভাব ও ভাষায়। দেবীর সেই ভাব ও ভাষা সম্পূর্ণতা পেয়েছে কামরুল হাসান খসরুর চিত্রগ্রহণে।

দেবীর শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, আবহ সঙ্গীত ও শব্দ গ্রহণ- সবই বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। প্রতিটি ক্ষেত্রে যত্ন, নিষ্ঠা ও কুশলতায় দেবী দর্শকপ্রাণে দিয়েছে পূর্ণতার অনুভব।

এদেশে দর্শকের ভাগ্যে এমন সিনেমা অহরহ আসে না। যখন আসে, সেই সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয়। দর্শক হুড়মুড়িয়ে ছবিঘরের দিকে যাচ্ছেন, হতাশ না হয়ে ফিরছেন। না দেখাদের জানান দিচ্ছেন- 'যাও দেখে এসো'। এটা আমাদেরও কথা। আশার কথা, চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরছে। আমরা ঠিক করে নিয়েছি সাতজনের প্রত্যেকে দশজন দশজনকে বলব, দেবী দেখে এসো। া

লেখক : নাট্যব্যক্তিত্ব
afzalhossain1515@yahoo.com

মন্তব্য করুন