নন্দন

নন্দন

স্টেজ ওয়ান ঢাকার 'দ্য জু স্টোরি'

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নন্দন প্রতিবেদক

স্টেজ ওয়ান ঢাকা একটি পেশাদারি থিয়েটার চর্চার কোম্পানি। ২০০৭ সাল থেকে এ দলটি বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকেই তারা প্রতিষ্ঠিত কুশীলবদের মধ্যে মেধাবী ও সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করে স্টেজ ওয়ান ঢাকা নামে একটি বিশেষ অঙ্গন তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে মঞ্চনাট্য চর্চায় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উৎসাহিত করা হয়। এ দলের পরিবেশনায় লক্ষণীয় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিবিধ নাট্যরীতি এবং কাহিনীর সমাহার। স্টেজ ওয়ান ঢাকা এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় যেখানে বাংলাদেশের প্রতিভাসম্পন্ন নাট্যশিল্পীরা তাদের সৃষ্টিশীল কাজের পাশাপাশি যথাযথ সম্মানী অর্জন করবেন। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা হলেন- মিতা চৌধুরী, শাহিদুর রহমান ও ডমিনিক গোমেজ। এ পর্যন্ত দলটি ৯টি নাটক প্রযোজনা করেছে। এগুলো হলো- 'গুড নাইট মা', 'জুলিয়াস সিজার', 'সোনাটা', 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট', 'সূচনা', 'আজকের বৈঠক', 'জনি গট হিজ গান', 'মিথোলজি' ও 'স্ত্রীর পত্র'।

আজ মঞ্চে আসছে তাদের দশম প্রযোজনা 'দ্য জু স্টোরি'। এডওয়ার্ড এলবি রচিত এ নাটকটির রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন ডমিনিক গোমেজ।

অভিনয়ে বাপ্পাদিত্য চৌধুরী ও তন্ময় বিশ্বাস। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চায়িত হবে। 'দ্য জু স্টোরি' নাটকে সামাজিক অসমতা, অমানবিকীকরণ, নিষ্ঠুর নিয়তির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে বস্তুবাদী বিশ্বের বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব। একাকিত্বে গ্রাস করা একজন পার্কে বসে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে এবং অবশেষে তাকে সহিংসতার একটি কর্মে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করে। এই নিয়েই গল্প।

নির্দেশক বলেন, 'বাস্তব ও বিমূর্ত উভয় উপাদানে মিশ্রিত এ গল্পে এডওয়ার্ড এলবি মানবিক বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব, শ্রেণিবৈষম্য এবং সমাজের মধ্যে নিষ্ফ্ক্রিয়তার ঝুঁকি সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত অথচ বহুমাত্রিক খেলা খেলেছেন। তিনি মানুষকে একে অপরের পার্থক্য বুঝতে এবং বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর দৃষ্টি দিয়েছেন।'

ডমিনিক গোমেজ আরও বলেন, 'থিয়েটার অব দ্য অ্যাবসার্ড-এর আন্দোলনে শ্রেণিভুক্ত এমন নাটকগুলো সাধারণত মানুষের অস্তিত্বকে অস্বাভাবিক এবং প্রায়ই বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখায়। এই শ্রেণির নাটক সাধারণত সহজ অথবা স্পষ্ট নয় এবং নাটকে যা ঘটে তা সাধারণত নাটকের চরিত্রগুলোকে [এবং সেই অর্থে মানব জাতিকে] নিয়ন্ত্রণ ছাড়া, অজানা শক্তি, নির্বিচার বাহিনীর নিছক শিকারের অনুভূতিকে উঁচু করে তোলে। কথোপকথন প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় অথচ ঘটনাবহুল, ঘটনার সময়কাল অস্পষ্ট এবং এসবের মধ্যে প্রকাশ পায় ঈশ্বরের অস্তিত্বকে নিয়ে গভীর হতাশা।