নন্দন

নন্দন

এক অমাবস্যা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফারজানা মুক্তো

এক অমাবস্যা

নার্গিস ফাখরি

ভৌতিক চলচ্চিত্র নিয়ে সবারই কম-বেশি আলাদা রকমের আগ্রহ কাজ করে। দর্শকের আগ্রহের কথা চিন্তা করে বলিউডেও এ ঘরানার বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিটাউনে শিহরণ জাগানো ভৌতিক ছবির নাম এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে '১৯২০ :এভিল রিটার্নস', 'অ্যালোন', 'রাগিণী এমএমএস-২'-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো। তবে মজার ব্যাপার হলো, উল্লিখিত প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই নির্মাতা ভূষণ প্যাটেল। হরর ছবি নির্মাণে সিদ্ধহস্ত এ পরিচালক আবারও আসছেন তার নতুন চলচ্চিত্র 'অমাবস্যা' নিয়ে। নাম শুনেই বোঝা যায়, নিকষ অন্ধকারে দর্শকের জন্য গা ছমছম করা জমাট রহস্য অপেক্ষা করছে। যদিও অনেক সমালোচকের ধারণা, এ হরর সিনেমাটি ২০০২ সালে আমেরিকার একটি সিনেমার রিমেক। তবে ছবির ট্রেলার কিংবা গান দেখে অবশ্য এ সন্দেহের যৌক্তিকতা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ছবিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এ ছাড়াও এরই মধ্যে ছবিটির 'জাব যে মেরা দিল', 'ধারকান', 'ভিগে ভিগে' গানগুলোও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এ ছবির সবচেয়ে বড় চমক অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি। কারণ বলিউডের লাস্যময়ী অভিনেত্রীর এমন চরিত্রায়ণ দেখে যে কেউই ভড়কে যেতে পারে।

চিরচেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে 'অমবস্যা'য় তিনি সম্পূর্ণ নতুনভাবে হাজির হয়েছেন। বলিউডে অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরির অভিষেক হয়েছিল 'রকস্টার' ছবির মাধ্যমে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ অভিনেত্রী হলিউডে অভিনয়েরও সুযোগ পান। 'ব্রাইডস সেডস' খ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার পল ফেইগ পরিচালিত একটি ছবিতে গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। নার্গিস ২০০৪ সালে আমেরিকায় নেক্সট মডেল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আলোকোজ্জ্বল রঙিন জগতে প্রবেশ করেন। তবে ২০০৯ সালে কিংফিশার সুইটফট ক্যালেন্ডারের প্রচ্ছদকন্যা হয়ে নজর কাড়েন তিনি। ফিল্ম ফেয়ার অর্জনেরও কৃতিত্ব দেখান এ অভিনেত্রী। এর পর 'মহেঞ্জোদারো', 'স্পাই', 'হাউসফুল থ্রি', 'বাস তেরা হিরো' ছবিতে অভিনয় করেও আলোচিত হন তিনি। এদিকে ছবির প্রচারণায় বেশ অভিনবত্ব দেখিয়েছে এর কলাকুশলীরা। কিছুদিন আগেই কলকাতায় ছবির প্রচারে এসেছিলেন তারা। মুম্বাই থেকে গোপনে কলকাতার হানাবাড়িতে ছুটে এসে যেন অশরীরীদের সঙ্গেই কলাকুশলীরা একাত্ম হতে চাইলেন। এ নিয়ে পরিচালক ভূষণ প্যাটেল জানান, 'গত কয়েক বছর ভূত আমার পিছু ছাড়ছে না।' '১৯২০ :এভিল রিটার্নস', 'অ্যালোন', 'রাগিণী এমএমএস-২' আমার নির্মিত প্রতিটি ভূতের ছবি হিট হয়েছে। সত্যি বলতে কি, অন্য গল্প আমাকে সেভাবে টানে না। এর আগে সানি লিওন, বিপাশা বসুদের নিয়ে চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস, এবার নার্গিস ফাখরিকেও দর্শক নতুনভাবে আবিস্কার করতে পারবেন। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, কলকাতায় হানাবাড়িতে এভাবে প্রমোশনের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। এখন মনে হচ্ছে এটি অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড ছিল।

সত্যিই এভাবে কোনো ভূতের ছবির প্রমোশন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আগে কখনও হয়নি। সেদিন রাতে বলিউডের ইউনিটের সঙ্গে ছিল কলকাতার ডিটেকটিভস অব সুপারন্যাচারালস টিমের সদস্যরাও। ভুতুড়ে পরিবেশ বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানতে তাদের সঙ্গে ছিল আধুনিক গ্যাজেট। কলকাতার দক্ষিণদাঁড়ির রানী কুঠিবাড়ির অন্ধকার ঘুপচি থেকে বাদুরঝোলা কার্নিশে বসানো হয় সেই গ্যাজেট। রাত পর্যন্তই এ বাড়িতে চলে ভূত নিয়ে গবেষণা। ছবির অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি তো বলেই ফেললেন, 'এভাবে গা ছমছমে ভুতুড়ে বাড়িতে আমাদের ছবির প্রমোশন করতে হবে ভাবতেই পারিনি। সত্যি এটা নতুন অভিজ্ঞতা।' ছবির বেশিরভাগ অংশের দৃশ্যায়ন হয়েছে লন্ডনের সাসেক্সের গোরিং দুর্গে। এই লোকেশনটিও নাকি বেশ ভুতুড়ে ছিল। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে 'অমাবস্যা'।