নেত্রকোনা থেকে ঢাকা

চি লে কো ঠা

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

ন্যান্সি

নেত্রকোনা থেকে ঢাকা

ন্যান্সি

ঘরোয়া গানের আসর। স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে কোনো বড় শিল্পীর আসার কথা নয়। কিন্তু পৃথিবীতে কখন কী ঘটবে- তা অনুমান করা কঠিন। সেদিনের ঘটনাটাও ছিল অকল্পনীয়। কথা না বাড়িয়ে এবার সেই ঘটনাই বলি। তখন আমরা থাকতাম নেত্রকোনায়। আমরা ঘরোয়া গানের এক আসর বসিয়েছিলাম। সেখানে হঠাৎ উপস্থিত বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি কোথা থেকে কীভাবে এলেন ! বিস্ময়ে এই প্রশ্নই সবার আগে উঠে এসেছিল মনের মধ্যে। পরে অবশ্য জেনেছি, মামা নজরুল ইসলামের সঙ্গে তিনি সেই গানের আসরে এসেছিলেন। তারচেয়ে বড় কথা, সেদিন আমার গায়কী ভালো লেগেছিল ফেরদৌস ওয়াহিদের। খুশি হয়ে আমার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদও করেছিলেন। এ পর্যন্ত সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নেয় আরও কিছুদিন পর। তখনও জানতাম না নেত্রকোনা টু ঢাকা হবে আমার নতুন সফরের রুট। সেদিন থেকেই যেন ভাগ্যবিধাতা আমার শিল্পী হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। যদিও সবকিছুই হয়েছে আমার অগোচরে, কিন্তু আমাকে কেন্দ্র করে। কীভাবে সেটাই এবার বলি। নেত্রকোনা থেকে ফেরদৌস ওয়াহিদ ঢাকা ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমার কণ্ঠ এবং গায়কীর কথা যে তখনও তার মনে গেঁথে ছিল।

যেজন্য ঢাকায় ফিরে আমার কথা বলেছিলেন তার উত্তসূরী হাবিব ওয়াহিদকে। যদি কিছু করার থাকে তাহলে তা হাবিব করতে পারবে- এই ধারণা ছিল তার। কারণ সেসময় হাবিব নতুন ধারার সঙ্গীত সৃষ্টি আর গায়কী দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলে যাচ্ছেন। নিরীক্ষাধর্মী কাজও থেমে ছিল না তার। অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও ভিন্ন ধাঁচের কিছু করা যায় কিনা- তা নিয়ে অনেক নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় 'হৃদয়ের কথা' ছবির 'ভালবাসবো বাসবোরে' গানটি তৈরি করেছেন। কিন্তু খুঁজে পাননি মনের মতো কোরাস শিল্পী। এমন সময় তার বাবার কাছে আমার সম্পর্কে জানতে পারেন। দেরি না করে আমাকে ডেকে পাঠান তার ষ্টুডিওতে। দেখা করি। আমার গায়কী শুনে কোরাস শিল্পী হিসেবে নির্বাচন করেন। তখনও ভাবিনি, এর কিছুদিন পরেই আবার হাবিবের ডাক পাব। কিন্তু সেবার কোরাস নয়, আমার কণ্ঠে একটি জিঙ্গেল [বিজ্ঞাপনের গান] রেকর্ড করেন। এই জিঙ্গেল দারুণ সাড়া জাগায় দর্শকের মাঝে। সেই সুবাদে আমাকেও আর বিরতি নেওয়ার সুযোগ দেননি হাবিব। নাটক, চলচ্চিত্র, অ্যালবামের গান ছাড়াও আমার কণ্ঠে রেকর্ড করতে থাকেন একের পর এক জিঙ্গেল, টিভি প্রোমোশনসহ নানা ধরনের গান। যেজন্য নেত্রকোনো থেকে ঢাকার বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টা হয়ে ওঠে বাধ্যতামূলক।

পরবর্তী খবর পড়ুন : পূজার ছুটে চলা

অন্যান্য