নন্দন

নন্দন


শত্রুর মুখোমুখি

হ লি উ ড

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯      

সারাহ্‌ দীনা

শত্রুর মুখোমুখি

'মিডওয়ে' চলচ্চিত্রের দৃশ্য

১৯৪১ সাল, ৭ ডিসেম্বর। পার্ল হারবারে জাপানের অতর্কিত আক্রমণ। ইতিহাসের এ ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। আবারও এই ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র 'মিডওয়ে'। এবারের ছবিতে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধের প্রথম দিকে পার্ল হারবার পরিস্থিতির স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। একই সঙ্গে ছবিতে থাকছে ১৯৪২ সালের টোকিওর ডলিটেড রেইড এবং মে ১৯৪২ সালের কোরাল সমুদ্রযুদ্ধ ডুলিটলের রেইডও। 'মিডওয়ে' ছবির গল্প মূলত দু'জন আমেরিকান সৈন্যকে ঘিরে। পাইলট লে. ডিক বেস্ট এবং ইন্টেলিজেন্স অফিসার লে. এডউইন লেটন। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে এড স্ট্ক্রাইন ও প্যাট্রিক উইলসন। পাইলট লে. ডিক বেস্ট তার বোম্বার স্ট্ক্রোয়াডন উড়িয়ে ছিলেন মিডওয়ে চলচ্চিত্রের আকাশজুড়ে। আর ইন্টেলিজেন্স অফিসার লে. এডউইন লেটন কোড-ব্রেকার দলের সঙ্গে মিডওয়ের আক্রমণের পূর্বাভাস করেছিলেন। এ ছাড়াও পুরো সময় ধরে রয়েছে সাহসী যোদ্ধাদের কৌশল।

মিডওয়ে ছবিতে দেখানো হয়েছে জাপানের সামরিক বাহিনীর রণকৌশল দারুণভাবে সাবলীল। স্ট্ক্রিনিং টাইম বেশ খানিকক্ষণ। জাপানিজ আর্মির অনন্য সামরিক সংস্কৃতিও এই ছবিতে দারুণভাবে উপস্থিত। জাপানি নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতো [এতুশি তোকাওকা] এবং তাদের সম্মিলিত বহরের প্রধান সেনাপতিকে ধীর, শান্ত এবং মর্যাদার সম্পর্কে সচেতন হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। অন্যান্য জাপানি অফিসারও এখানে সপ্রতিভ। তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের নেতৃত্বের রিয়াল অ্যাডমিরাল ত্যামন ইয়ামাগুচি (তদানাবু আসানো), যিনি হাইরু, জাপানি ভাষায় যাকে উড়ন্ত ড্রাগন বলা হয়, সেই বিমানকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইস অ্যাডমিরাল চুইচি নাগুমো (জুন কুনিমুরা), যার বিতর্কিত যুদ্ধের সিদ্ধান্তগুলো জাপানের প্রচারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

এই চলচ্চিত্রের যুদ্ধের দৃশ্যায়ন মূল আকর্ষণ। গ্রাফিক্সে মুন্সিয়ানা আকর্ষণ ধরে রাখে সময়জুড়ে। পরিচালক এমিরেখ দারুণভাবে চিত্রিত করেছেন। বিস্ম্ফোরণ আর ধ্বংসযজ্ঞ দুর্বলচিত্তের জন্য অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু মিডওয়ের সমুদ্রযাত্রাকে চিত্তাকর্ষক বলতেই হবে। আকাশে সতর্ক দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। বিমানের গতি, প্রচণ্ড বিস্ম্ফোরণ, আগুনের লেলিহান শিখা আর মেঘের রং বদল, সব মিলেমিশে সিনেমাটোগ্রাফি এবং ভিজুয়াল ইফেক্ট দুই-ই প্রশংসার যোগ্য। দুই ঘণ্টা ১৮ মিনিট দৃষ্টি সরানোর কথা মনে থাকবে না দর্শকের। নেই কোনো কল্পকথার বয়ান। কিংবা অপ্রকাশিত প্রেমের গল্পের আভাস। বরং বাস্তব জীবনের নায়কদের বীরত্বের গল্প এখানে চিত্রিত হয়েছে। চিত্রনাট্য ওয়েস টোকি আর পরিচালক রোনাল্ড এমিরেখ ইতিহাসকে সেলুলয়েডে ধরে রেখেছেন। সিলভার স্ট্ক্রিনে ধ্বংস, রণকৌশল, দুই-ই দর্শক উপভোগ করবে।