নন্দন

নন্দন


একই সঙ্গে তৃপ্ত ও অতৃপ্ত অভিনয় জীবন

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯      

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

একই সঙ্গে তৃপ্ত ও অতৃপ্ত অভিনয় জীবন

মামুনুর রশীদ

মামুনুর রশীদ। বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক। নাট্যদল বটতলা আয়োজিত 'বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৯'-এর আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। এই প্রাপ্তি, এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

নাট্যদল বটতলা আয়োজিত 'বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৯'-এ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন। এ নিয়ে আপনার অনুভূতির কথা জানতে চাই...

কাজের স্বীকৃতি এবং সম্মাননা আগেই পেয়েছি। তার পরও ভালো লাগছে এটা ভেবে যে, নবীনদের একটি নাট্যদল আমাকে আজীবন সম্মাননা দিতে যাচ্ছে। এই বয়সে এমন সম্মাননা পাওয়ায় আরও কাজ করার অনুপ্রেরণাও পাচ্ছি।

নাট্যদল আরণ্যক সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে গেছে। পথচলার এই দীর্ঘ সময় কখনও কী মনে হয়েছে, যে স্বপ্ন নিয়ে এই নাটকের দলের যাত্রা, তা এখনও পূরণ হয়নি?

একটি নাটকের দলের সঙ্গে ৪৭ বছর ওতপ্রোতভাবে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দলটি যেমন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে আমাদের মাতিয়ে রেখেছে, তেমনই অগণিত নাট্যপ্রেমীর ভালোবাসায় সিক্ত করেছে। আর স্বপ্ন পূরণের কথা যেটা বললেন, তা অপূর্ণ আছে এটা কখনও মনে হয়নি। স্বপ্ন তো প্রতিনিয়ত ডালপালা মেলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এর একটি শাখা থেকে আরেকটি শাখায় পৌঁছাতেও সময় লাগে। তাই সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যেমন অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, তেমনই জন্ম হয়েছে আরও অনেক স্বপ্নের। এভাবেই একটি স্বপ্ন থেকে আরেকটি স্বপ্ন পূরণের দিকে আমরা ছুটছি। এভাবেই রজতজয়ন্তীর পর সুবর্ণজয়ন্তী এবং কোনো এক সময় আরণ্যক হীরকজয়ন্তীও উদযাপন করবে। তার আগে 'নাটক শুধু বিনোদন নয়, শ্রেণিসংগ্রামের সুতীক্ষষ্ট হাতিয়ায়'- এই স্লোগান নিয়ে নাটক করে যাব।

পরিচিত অনেকে নাটকের দল ছেড়েছেন, কেউ কেউ চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। এতে কি দলে কোনো প্রভাব পড়েছে?

দলে কর্মীদের আসা-যাওয়া চলতেই থাকে। একজনের শূন্যস্থানে অন্য কেউ এসে কাজ করে। এটা রীতি হয়ে গেছে। আবার যারা চিরবিদায় নিয়েছেন, তাদেরও জায়গায় কেউ না কেউ কাজ করছে। কাজ কিন্তু থেমে থাকে না। তবে কারও কারও চলে যাওয়া এমন শূন্যতা তৈরি করেছে, যা হয়তো কখনই পূরণ করা সম্ভব নয়। শুধু মঞ্চ নয়, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রসহ প্রতিটি অঙ্গনের পরিচিত এমন অনেকে গুণী মানুষকে হারিয়েছি, যাদের কথা মনে হলে প্রতিনিয়ত কষ্ট পাই।

'সত্যবান' নামে আরণ্যকের নতুন একটি প্রযোজনার কথা বলেছিলেন। এটি কবে মঞ্চে আসবে?

ডিসেম্বরে কাজ শুরু করব, সে হিসাবে এ বছর হয়তো নাটক মঞ্চে আনা সম্ভব হবে না।

তবে 'সত্যবান'-এর আগে অন্য একটি নাটক মঞ্চে নিয়ে আসতে পারি। কাহিনী লেখাও শুরু করেছি। এখন দেখি কী হয়।

মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করছেন। একসঙ্গে তিন মাধ্যমে কাজের প্রক্রিয়া কীভাবে রপ্ত করেছেন?

শুধু অভিনয় নয়, নাটক রচনা, নির্দেশনাও দিচ্ছি। এর বাইরেও পত্রপত্রিকায় লিখছি। এটা সম্ভব হচ্ছে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলার কারণে। তা ছাড়া যা কিছু করছি, সবই প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ের কাজ। অভিনয়ের কথা ধরুন, মঞ্চ, চলচ্চিত্র, টিভিতে একই কাজই করছি। কাজের আঙ্গিক শুধু আলাদা।

অনেক দিন ধরে টিভি নাটক নির্মাণ করছেন না। টিভি নাটক পরিচালনা থেকে কি সরে এসেছেন?

টিভি নাটক পরিচালনা করছি না, এটা ঠিক। কিন্তু চিরদিনের জন্য সরে এসেছি কিনা- তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমাদের নাটকের ইন্ডাস্ট্রি অনেক বদলে গেছে, যেখানে পরিচালক হিসেবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না। তবে পরিচালনা না করলেও নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছি। এখনও হাতে বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকের কাজ আছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নাটকে অভিনয় করছি।

চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্য হিসেবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

অনুদান কমিটি সবসময় চেষ্টা করছে, কাজের বিষয়ে স্বচ্ছ থাকতে। আমরা যে ছবিটি অনুদানের জন্য নির্বাচন করছি, তা নিয়ে বিতর্ক হবে না- এটা ভাবাও ভুল। কারণ পৃথিবীর কোনো কিছুই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।

শিল্পী জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ করেন কখনও?

শিল্পী জীবনে অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি- এটাই বড় প্রাপ্তি। আর কী পেলাম, কী পেলাম না- তা নিয়ে সত্যিই ভাবি না। আজীবনের চাওয়া এটাই, ভালো কিছু কাজ করে যাওয়া। কিছু কাজ আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। তবু অনেক কিছুই করা বাকি আছে। তাই একই সঙ্গে তৃপ্ত ও অতৃপ্ত, অভিনয় জীবন আমার।