নন্দন

নন্দন


স্বতন্ত্র গায়কি

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯      

রামেন্দু মজুমদার

কিছু গান অনেকের কণ্ঠে শুনেছি। কিন্তু অদিতি মহসিনের স্বতন্ত্র কণ্ঠশৈলীতে তা সবসময় নতুন বলে মনে হয়েছে। গায়কিতে তার আলাদা এক বৈশিষ্ট্য আছে, যা থেকে সহজেই তাকে আলাদা করা যায়। অদিতি অনুভব করে গান গায়। দেশে-বিদেশে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারার পেছনে হয়তো এটাও একটা কারণ। মনে আছে, ২০০৩ সালে যখন বেঙ্গল থেকে তার প্রথম একক অ্যালবাম 'আমার মন চেয়ে রয়' প্রকাশ পায়, তখনই মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল অদিতি। তরুণ এই শিল্পী সে সময়ই প্রমাণ করেছিল, সে অন্যদের চেয়ে আলাদা। রবীন্দ্রসংগীতের ভাব ও ভাষা সে যেন আলাদা করে বুঝতে পারে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় তার গায়কিতে। যেজন্য প্রথম একক অ্যালবামের গানগুলো শোনার পর থেকেই তার গানের অনুরাগী হয়ে উঠেছি এবং সেই থেকে আজও মুগ্ধ হয়ে তার গান শুনে আসছি। এখন পেছন ফিরে তাকালে অবাক লাগে, দেখতে দেখতে অদিতিও তার সংগীতজীবনের ২০ বছর পূর্ণ করল। যখনই এটা জেনেছি, তখন খানিকটা অবাকও হয়েছি। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, আমরা যারা তার গানের অনুরাগী, তারা এ নিয়ে একটা উৎসব উদযাপন করতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই 'অরুণ আলোর অঞ্জলি' নামের গানের উৎসবের পরিকল্পনা।

অবাক করা বিষয় হলো, অদিতির সংগীতজীবনের ২০ বছরের এই আয়োজনে অনেক গুণীজন পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, যা নিয়ে একটি পর্যদ গঠন করা হয়েছে এবং সবাই মিলে উৎসব উদযাপনের মতো করেই অদিতির গান শুনব কাল। ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিল্পীর জন্য এ ধরনের আয়োজন করা হয়ে উঠবে কি-না জানি না। আয়োজন হোক বা না হোক, স্মৃতিপটে থেকে যাবে অদিতির গানের উৎসব 'অরুণ আলোর অঞ্জলি'র প্রতিটি মুহূর্ত- এটুকু অনুমান করতে পারছি। কারণ একজন অদিতির আগমন প্রতিদিন হয় না। এক বা দুই দশকের মধ্যে তার মতো শিল্পীর পথচলা ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম শতবর্ষ পরেও যেমন অম্লান রয়ে গেছে, তেমনি তার গানের কিছু শিল্পী আছেন, যারা শ্রোতার মনে সুরের অনুরণন তুলে যাবেন যুগের পর যুগ। অদিতি যে সেই মাপের শিল্পী নন, এটাও কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না।