নন্দন

নন্দন


অনিন্দ্য কণ্ঠস্বর...

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯      

কাদেরী কিবরিয়া

নব্বই দশকের কথা। যুক্তরাষ্ট্রে কাটছে প্রবাস জীবন। দেশে ফেরার টান প্রবল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নব্বই দশকের শুরু থেকে টানা ১৩ বছর দেশে ফেরা হয়ে ওঠেনি। তাই পরিচিত কাউকে পেলেই দেশের খবরাখবর নিতাম। গানের মানুষ বলেই হয়তো শিল্পীদের খোঁজখবর নেওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তখন কে কী আয়োজন করছে, তরুণদের মধ্য থেকে কেউ উঠে এসেছে কিনা- তা জানার কৌতূহল সবসময় ছিল। এভাবেই নব্বই দশকের শেষ প্রান্তে একটি নাম মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল, অদিতি মহসিন। অনেকের মুখে শুনেছি, অনিন্দ্য তার কণ্ঠস্বর। গায়কিতে আছে আভিজাত্যের ছাপ। কিন্তু তার নাম শুনলেও গান শোনা হয়ে ওঠেনি। সেটা হয়ে উঠেছিল নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে।

২০০৩ সালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে। ফেরার পরপরই টিভি চ্যানেলগুলো থেকে ডাক পেতে থাকি অনুষ্ঠান করার। সহজে কাউকে 'না' বলা যায় না, তাই ছুটে যাই টিভি চ্যানেলে। এমনই একদিন অনুষ্ঠান করতে একটি চ্যানেলে যাই। সেখানে নির্মাতাদের একজন পরিচয় করিয়ে দেন অদিতি মহসিনের সঙ্গে। তার নামটা এত পরিচিত যে, সাক্ষাতে মনেই হয়নি, এদিনই তাকে প্রথম দেখছি।

পরিচয়ের পর থেকে কৌতূহল, যার নাম এত শুনেছি, সে কেমন গায়, তা শোনার। অবশ্য দেশে ফেরার মতো সেবারের প্রতীক্ষা পর্ব দীর্ঘ হয়নি। যথাসময়ে অনুষ্ঠান রেকর্ডিং শুরু হয়। সংগীত মূর্ছনার সঙ্গে কানে ভেসে আসে অদিতি মহসিনের কণ্ঠ। থমকে যাই এই তরুণ শিল্পীর গায়কিতে। মনের অজান্তেই বেরিয়ে আসে একটি শব্দ অপূর্ব! কী অসাধারণ গায়কি!! মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে যাই তার পরিবেশনা- সেদিনই প্রমাণ হয়, অদিতিকে নিয়ে লোকমুখে যা শুনেছি, তা একবিন্দু মিথ্যা নয়। দেশের মিডিয়ায় একটা প্রবণতা, এর কর্মকর্তারা হাতে গোনা কিছু শিল্পীকে নিয়ে মাতামাতি করেন। আমি একটা প্রতিষ্ঠান চালাই, তাই সংগীত বুঝি বা না বুঝি নিজের পছন্দের শিল্পীদের প্রাধান্য দেব- এই হলো তাদের মানসিকতা। তারপরও প্রমাণ হয়েছে, যার প্রতিভা আছে, তার প্রতিভার দ্যুতি ছড়াবেই। অদিতি তাদেরই একজন, যে দিনের পর দিন আপন আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। তাই দুই দশক নয়, আরও কয়েক দশক সে গানে গানে সংগীতপ্রেমীর হৃদয় জয় করে যাবে- এটাই আমার বিশ্বাস।