নন্দন

নন্দন


অরুণ আলোর অঞ্জলি

প্র চ্ছ দ

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯      

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

অরুণ আলোর অঞ্জলি

অদিতি মহসিন-ছবি ::রাজিব পাল

অদিতি মহসিন অনিন্দ্য এক কণ্ঠস্বরের নাম। যিনি গানে গানে এরই মধ্যে পাড়ি দিয়েছেন দুই দশকের পথ। রবীন্দ্রসংগীতের সাধনায় তার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সংগীত উৎসব। তার আগে নন্দনের সঙ্গে একান্ত আড্ডায় তিনি জানিয়েছেন দীর্ঘ সংগীত জীবনের অভিজ্ঞতা

'গানে গানে ২০ বছরের পথ পেরোনো কোনো বড় ঘটনা নয়। এ দেশেই অনেক শিল্পী আছেন, যারা গানে গানে ৩০, ৪০ এমনকি ৫০ বছরের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

শুরু থেকে জনপ্রিয়তা ধরে রেখে আমৃত্যু গান করে গেছেন- এমন শিল্পীরও দেখা পাওয়া কঠিন নয়। তাই আমার শিল্পী জীবনের ২০ বছর পূর্তি বিশেষ কোনো ঘটনা বলে উল্লেখ করতে চাই না।' যে কেউ অবাক হতে পারেন অদিতি মহসিনের মুখে এমন কথা শুনে। কেননা তার শিল্পী জীবনের ২০ বছর পূর্তি নিয়ে যেখানে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি এমন কথা বলবেন, তা অনেকের ভাবনার অতীত। কিন্তু যারা তাকে চেনেন, তারা ভালো করেই জানেন অদিতি কতটা স্পষ্টবাদী। মন থেকে যা বিশ্বাস করেন, সেটাই বলে যান অকপটে। সংগীতের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আছে বলেই তিনি এর সাধনা করে যাচ্ছেন। খ্যাতির মোহ তাকে অন্ধ করে দেয়নি। তিনি সুদূরের যাত্রী, তাই আজীবন গানে গানে শ্রোতার হৃদয় আন্দোলিত করে যেতে চান। হয়তো সে কারণেই শিল্পী জীবনের দুই দশকের পথ পরিক্রমাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু অদিতির কাছে যা সাধারণ তা অনেকের কাছে আলোচিত ঘটনা হয়ে ধরা দিয়েছে। যে জন্য অদিতির এই মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে এনার্জিপ্যাক ও পূর্বাণীর পৃষ্ঠপোষকতায় এক্সপ্রেস ইভেন্টস এক উৎসবের আয়োজন করেছে। যেখানে থাকছে অদিতির অনিন্দ্য কণ্ঠে রবি ঠাকুরের কালজয়ী গানের পরিবেশনা। আগামীকাল সন্ধ্যায় তার গানের 'অরুণ আলোর অঞ্জলি' উৎসবটি হবে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে।

এখন কথা হলো তার শিল্পী জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমা যদি সাধারণ ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে এমন বর্ণাঢ্য উৎসবের কারণ কী? এর উত্তরে অদিতি মহসিন বলেন, 'আমার গানের অনুরাগী কিছু মানুষ এই উৎসবের আয়োজন করেছেন। আমি শুধু চেয়েছি আমার গানের ভক্ত ও অনুরাগীদের গান শোনাতে। একটি গানের সন্ধ্যা তাদের উপহার দিতে। এটা জানার পর তারা যে আয়োজন করছে, তার কলেবর একটু বড় হয়ে গেছে।' তার এ কথায় অবশ্য অনুমান করা কঠিন, উৎসব আয়োজন ঠিক কতটা বড় হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর যেখানে অতিথি থাকবেন, সে আয়োজন নিশ্চয় সাদামাটা হবে না। শুধু তাই নয়, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সৈয়দ আপন আহসানের সমন্বয়ে 'অরুণ আলোর অঞ্জলি' এক ভিন্ন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। পাবে না কেন, উৎসব উদযাপন পর্ষদে যদি মামুনুর রশীদ, হাশেম খান, লুভা নাহিদ চৌধুরী, ম হামিদ, আনিসুল হক, আব্দুল হাই সরকারের মতো গুণী মানুষরা যুক্ত থাকেন, তাহলে সে আয়োজন যে বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে তা একবাক্যে স্বীকার করবেন অনেকে।
 

এর চেয়ে বড় বিষয় হলো যে শিল্পী সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিনিকেতনে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শান্তিদেব ঘোষের মতো প্রখ্যাত সংগীত গুরুর কাছে উচ্চতর সংগীত শিক্ষা নিয়েছেন, রবীন্দ্রসংগীতে যিনি বিশ্বভারতীতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ ও ভারতে ১১টি অ্যালবাম প্রকাশ করে মনোযোগ কেড়েছেন লাখো শ্রোতার- তার যে কোনো আয়োজন নিয়ে সংগীতপ্রেমীদের কৌতূহল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তার উৎসব যদি হয় একটি মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে, তাহলে তো কথাই নেই। তাই অদিতির 'অরুণ আলোর অঞ্জলি' সংগীত উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য এখন চাই শুধু কয়েক ঘণ্টার প্রতীক্ষা।

উৎসব নিয়ে অনেক কথা হলো। এখন জানতে চাই অদিতি যার গানের পূজারি, সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি তাকে কীভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে? এর উত্তরে অদিতি মহসিন বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ শুধু আমাকে নয়, সমগ্র বাঙালির জীবনে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলেছে। বুঝেশুনে সংগীতচর্চা শুরু না হলেও ধীরে ধীরে তার সৃষ্টির প্রতিটি দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রশ্ন করা যেতে পারে, তার সৃষ্টিতে কী উঠে আসেনি? তা খুঁজে বের করা যে কারও জন্য ভীষণ কঠিন। তাই এখন মানুষ ব্যক্তি ও জাতিগত সংকটে, সৃষ্টির নান্দনিকতা তুলে ধরতে এবং আরও অনেক বিষয়ে রবিঠাকুরের দ্বারস্থ হয়। তাই তার সৃষ্টি আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে- এটাই স্বাভাবিক।' এ কারণেই কি আজীবন রবীন্দ্রসংগীতের সাধনা করে যাবেন বলে থাকেন? শুধু নিজের মুগ্ধতার জন্য নয়, তার গানের বাণী ও সুর কীভাবে পূর্ণতা পেয়েছে এবং শত বছর পরও কেন এর আবেদন ম্লান হয়ে যায়নি, তা আগামী প্রজন্মকেও জানাতে চাই। এ কারণে গান করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের রবীন্দ্রসংগীত শেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। এভাবেই কবিগুরুর গানে গানে আনেকটা পথ পাড়ি দিতে চাই। কারণ তার সৃষ্টিকে এড়িয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়।