নন্দন

নন্দন


গণ্ডির পর...

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

এমদাদুল হক মিলটন

গণ্ডির পর...

অপর্ণা ঘোষ, ছবি ::রাজিব পাল

নানা চরিত্রে অসংখ্য দৃশ্যপটে নিজেকে মেলে ধরেছেন। সবাই যখন তথাকথিত বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যস্ত, তখন তার দৃষ্টি কেবল ভালো গল্প ও চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্রের দিকে। বলছি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষের কথা। তিনি গুণী অভিনেত্রী। ছোট থেকে বড় পর্দায় তার সমান দাপট।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ফাখরুল আরেফিন খান পরিচালিত তার অভিনীত ছবি 'গণ্ডি'। এতে তিনি অভিনয় করেছেন 'মিলি' চরিত্রে। নেতিবাচক এ চরিত্রে অভিনয় করে বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি। এ ছবিতে ওপার বাংলার গুণী অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনয় করেছেন।

একই সঙ্গে বরেণ্য অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকেও পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? যদিও সুবর্ণা আপার সঙ্গে এর আগেও অভিনয় করেছি। গুণী এ শিল্পীর সঙ্গে কাজের আনন্দই অন্যরকম। সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রথম কাজ। তাদের সঙ্গে কাজ করা মানে নিজের জন্য কিছু অর্জন করা। এর আগে তার সঙ্গে [সব্যসাচী] আমার শুধু দেখা হয়েছিল। যখন দেখেছিলাম তখন মনে হয়েছিল, একজন গুরুগম্ভীর মানুষ হবেন তিনি। অভিনয় করার পর এ ধারণা মিথ্যে হয়েছে। একই ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে তার সঙ্গে আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। এমন দু'জন মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। -বলেন অপর্ণা।

শুধু বড় পর্দায়ই নয়, ছোট পর্দায়ও অপর্ণা রেখেছেন ব্যতিক্রমী কাজের ছাপ। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি ক্যারিয়ারে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদের মতো খ্যাতিমান সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাসের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। অপর্ণা বর্তমানে অভিনয় করছেন 'তোলপাড়' ধারাবাহিকে। জাকির হোসেন উজ্জ্বল পরিচালিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুসাফির রনি। মেয়েদের একটি হোস্টেলকে কেন্দ্র করে এর গল্প। হোস্টেলে থাকা মেয়েদের নানা ক্রাইসিস তুলে ধরা হয়েছে এতে।

ইদানীং ধারাবাহিকে কম কাজ করছেন অপর্ণা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নতুন কোনো ধারাবাহিকে কাজ করা হচ্ছে না। সত্যি বলতে, আমি টায়ার্ড। নাটকের গল্পে নতুন কোনো চরিত্র তেমন পাচ্ছি না। একই ধরনের চরিত্রে কতবার অভিনয় করব বলুন? সংখ্যা বাড়ানের জন্য অভিনয় করার কোনো কারণ আছে কি? আমি তা মনে করি না। এ জন্য ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই। যতটুকু সুযোগ পাই বাছাই করে কাজ করার চেষ্টা করি। আমি বলব, যারা নতুন তাদের জন্য যে কোনো চরিত্র নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু আমি অনেক দিন থেকে নাটকে অভিনয় করছি। তাই চরিত্রগুলো একই ধরনের মনে হয়। তাই কাজের প্রতি অনীহা চলে এসেছে। এ কারণে আমার কাজের সংখ্যাও কম।

২০০৬ সালে অপর্ণার মিডিয়া ক্যারিয়ার শুরু। ওই বছর লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় ছিলেন সেরা পাঁচে। অভিনয় করেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক-টেলিছবিতে। এরপর বাকি ইতিহাস তো সবারই জানা। বিনিময়ে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অগণিত দর্শকের ভালোবাসা।

অভিনয়ের বাইরেও ঘুরতে পছন্দ করেন অপর্ণা। তাই তো সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্তে। এক চিলতে রোদ্দুরে নিজেকে মেলে ধরেন। অপর্ণা বলেন, 'পুরো পৃথিবী চষে বেড়াতে ইচ্ছা করে। যে জন্য একটানা কাজ করার পর, বেশ কিছুদিন ছুটি নিয়ে নিই। পরিকল্পনা করি কোথায় বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে। জলপ্রপাত আর সমুদ্র আমাকে অসম্ভব টানে। সে মায়াবী আকর্ষণে সুযোগ পেলেই সমুদ্রে ছুটে যাই।'