নন্দন

নন্দন


এবার ওয়েব সিরিজে

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০      

এমদাদুল হক মিলটন

'এখন যেখানেই যাই, সবার মুখে একই প্রশ্ন- অভিনয় কেন কমিয়ে দিয়েছি? কী উত্তর দেব এই প্রশ্নের- তা নিজেও ভেবে পাই না। একনাগাড়ে অনেক কাজ করা যায় সত্যি, কিন্তু তা যদি দর্শকের মনে ছাপ না ফেলে তাহলে কি সেটা অর্থহীন হয়ে যাবে না? এই প্রশ্ন সামনে রেখে এটা প্রমাণ করতে চাচ্ছি না যে, ভালো কাজের সংখ্যা কমে গেছে বলে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভালো চিত্রনাট্য দেখে কাজ করার চেষ্টা করেছি। জনপ্রিয়তার জোয়ারে গা ভাসাতে চাইনি। এখনও সেটাই চাই। এ জন্যই পড়াশোনা, ঘর-সংসার সবকিছু সামলেও অভিনয় করে যাচ্ছি। তারপরও এ কথা সত্যি যে, কয়েক বছর আগে যেভাবে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, এখন সেভাবে একনাগাড়ে নাটক, টেলিছবিতে কাজ হয়ে উঠছে না। তাই চেষ্টা করি সংখ্যা কম হলেও সেই কাজটি করতে, যা দর্শকমনে দাগ কাটবে।' এক নিঃশ্বাসে এ কথাগুলোই বলে গেলেন নন্দিত অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু।

তার কাছে প্রথম প্রশ্ন ছিল আজকাল অভিনয়ে কম দেখা যাচ্ছে কেন? এর কারণ কী- এ প্রশ্নের উত্তরে শিমু জানালেন, কী কারণে তাকে অভিনয়ে কম দেখা যাচ্ছে। কারণ জানানোর পাশাপাশি ভক্তদের জন্য একটা সুখবরও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন তানিম পারভেজের পরিচালনায় 'ঘোলা' নামে পাঁচ পর্বের একটি ক্রাইম ওয়েব ফিকশনে। এতে তার সহশিল্পীরা হলেন এফএস নাঈম, ইয়াশ রোহানসহ অনেকে। 'তিথির সারা জীবন' নামে একটা টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। আসাদুজ্জামান সোহাগের চিত্রনাট্যে এ নাটকটি পরিচালনা করবেন সীমান্ত সজল।

প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় প্রসঙ্গে শিমু বলেন, প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতাই আলাদা। ভালো লাগছে। এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অনেক জনপ্রিয়। এটা সময়ের দাবি। আগে শুধু বিটিভিই আমাদের দেখতে হতো। এখন অনেক মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। সবার হাতে হাতে ফোন। এক সময় পুরো টিভিই হাতে চলে আসবে। সারাবিশ্বেই ওয়েব সিরিজ জনপ্রিয়। যেহেতু আমি অভিনয় করি, তাহলে কেন সময়ের সঙ্গে থাকব না? অবশ্যই এর পরে এ রকম ভালো কাজ করব। নাটকের সঙ্গে ওয়েব সিরিজের কাজের ধরনও আলাদা। সবকিছুতেই বৈচিত্র্য। গল্প বলার ধরনও ভিন্ন। সব মিলিয়ে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই অভিনয় করেছি। একটি মার্ডারকে কেন্দ্র করে এর গল্প এগিয়েছে। আমার ভাই মার্ডার হয়। মার্ডার-পরবর্তী যে ঘটনাগুলো ঘটে, তা দেখানো হয়েছে।

শিমুভক্তরা এমন খবরে খুশি হবেন এটাই স্বাভাবিক। কেননা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের গল্প ও চরিত্রে কাজ করে অগণিত দর্শকের হৃদয় কেড়েছেন এই অভিনেত্রী। 'এখানে আতর পাওয়া যায়' থেকে শুরু করে 'ইডিয়ট', 'মন কাঁদে', 'মিস্টার অ্যান্ড মিসের সরকার', 'কবি', 'দুষ্টু পাখি চন্দনা', 'আনন্দ', 'অসামাজিক', 'ব্রেইনওয়াশ', 'ও মাই গড', 'হ্যালো', 'সাদা গোলাপ', 'শিউলি অথবা রক্তজবার গল্প', 'লেক ড্রাইভ লেন', 'স্বপ্নচূড়া', 'হাউস ফুল', 'সবুজ দরজা', 'সাবলেট', 'আগাছা', 'দর্পহরণ', 'স্বপ্নজাল', 'ছোট্ট একটা ভুল', 'ব্ল্যাক নভেম্বর', 'শোয়া বাবা', 'শুভদৃষ্টি', 'অহর্নিশ ভালোবাসা'সহ প্রতিটি নাটক, টেলিছবিতে সুমাইয়া শিমু অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসায় মুগ্ধ নির্মাতারাও।

তাদের কথায়, সুমাইয়া শিমু প্রতিটি কাজে তার শিল্পীসত্তাকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণেই দর্শক বারবার তাকে নানা রূপে নানা চরিত্রে দেখার বাসনা লালন করেন। যাকে নিয়ে এত আলোচনা, যার অভিনয় দেখার আগ্রহ অগণিত দর্শকের, সেই সুমাইয়া শিমু কি আর দলছুট প্রজাপতি হয়ে একাকী ঘুরে বেড়াবেন! নাকি সাড়া দেবেন ভক্তদের ডাকে? এই প্রশ্নের উত্তরে শিমু বলেন, 'ভক্তদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। তাদের জন্যই তো অভিনয় জীবন বেছে নেওয়া। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে যাওয়া। তাই ভক্তদের কথা দিচ্ছি, তাদের জন্যই হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও অভিনয় করে যাব।'

মিষ্টি হাসির সরলতায় মুগ্ধতা ছড়ানো শিমুর বেড়ে ওঠা নড়াইলে। দু'দশকের বেশি সময় ধরে রয়েছেন অভিনয়ের উঠোনে। কখনও ব্যস্ত, কখনও ঢিমেতালে। তবে যে কোনো চরিত্রে মানানসই অভিনয়ের কারণে তিনি সব সময় ছিলেন আলোচিত অভিনেত্রীর তালিকায়। সমসাময়িক অন্যদের মতো একসঙ্গে খুব বেশি কাজ তিনি কখনোই করেন না। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের প্রতিই তার ঝোঁক বেশি। এক সময় ধারাবাহিক নাটকে শিমুকে দেখা গেলেও ইদানীং এতে অভিনয় করছেন না।

এ প্রসঙ্গে শিমু বলেন, আমি যে ধরনের নাটকে অভিনয় করতে চাই, সে ধরনের কাজ পাচ্ছি না। তবে ধারাবাহিকে আর অভিনয় করব না- এটা কখনও বলিনি। সে রকম গল্প পেলে অবশ্যই অভিনয় করব। তবে এখন তাড়াহুড়ো করে ধারাবাহিকের ফুটেজ নামানো হচ্ছে। মিডিয়ায় এখন বাজেট সংকট চলছে।

কম বাজেটের কারণে সব জায়গায় আমরা নিরুপায় হয়ে যাই। এত সীমাবদ্ধতা নিয়ে তো ভালো কাজ হয় না। এ কারণে শিল্পীদের কাজে অনীহা চলে এসেছে। এটা ক্রিয়েটিভ মাধ্যমে। এত বাধ্যবাধকতা নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। সবকিছুর দাম বাড়লেও নাটকের বাজেটই কমছে। এটা নিয়ে এখনই ভাবার সময়।

অভিনয়ের বাইরে সম্প্রতি 'বেটার ফিউচার ফর ওমেন' নামে নারী উন্নয়নমূলক একটি সংস্থা ও 'বেটার ফিউচার কমিউনিকেশন' নামে একটি যোগাযোগ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানও চালু করেছেন এ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন আলাদা। প্রথমটিতে অসহায় নারীদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। আরেকটিতে যোগাযোগের যত ধরন হয়, সব ধরনের কাজ এখান থেকে হবে। নারীদের নিয়ে এর আগেও আমি কাজ করেছি। সব সময় চেষ্টা করেছি অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের কোনো না কোনো বার্তা দিতে। সেটা আমি অব্যাহত রাখতে চাই।'