নন্দন

নন্দন


ক্যাঙারুর দেশে

পায়ের তলায় শর্ষে

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০      

চম্পা

ক্যাঙারুর দেশে

সিডনিতে তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা

ঘুরতে সবাই কমবেশি পছন্দ করি। বিশেষ করে সেটি যদি হয় বিশ্বের সুন্দরতম স্থানগুলোর একটি, তাহলে তো কথাই নেই। ব্যস্ততম প্রতিটি মুহূর্তে দম ফেলার ফুরসত খুব কমই মেলে। তাই দু'দণ্ড অবসর পেলেই হারিয়ে যেতে চাই আপন ঠিকানা ছেড়ে অনেক দূরে।

অভিনয় জীবনে পৃথিবীর অনেক দেশেই ভ্রমণ করা হয়েছে। স্মৃতিতে আঁকা হয়েছে নতুন নতুন আলপনা। কিছু কিছু দেশে ভ্রমণের স্মৃতি কখনই ভোলার নয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি আমার কাছে তেমনই একটি দেশ। কয়েক বছর আগে আমি, ববিতা ও সুচন্দা আপা মিলে গিয়েছিলাম সেখানে। একসঙ্গে তিন বোন মিলে বেড়াতে ভালোবাসি দেশে কিংবা দেশের বাইরে। অস্ট্রেলিয়ায় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে খেতে গিয়েছিলাম। ফাঁকে ঘোরাঘুরিও করেছি। ওই সিডনির পাশেই আরেকটি স্থানে গিয়েছিলাম। একটি পাহাড় কাটা হয়েছে বিশেষভাবে- মেয়েদের আকৃতিতে। কাছাকাছি গিয়ে দেখি তিনটি মেয়ে পাশাপাশি। আমরা তিন বোনও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এটা দেখছিলাম। সেখানকার একজন বলল, তারা ওটাকে থ্রি সিস্টার্স হিসেবেই জানে। আমরা তো বেশ অবাক হয়েছিলাম। বেশ আনন্দ পেলাম।

আপনজন কাছে থাকলে ভ্রমণের আনন্দই অন্যরকম হয়ে ওঠে। সিডনির সৌন্দর্যে চোখে ছিল বিস্ময় আর মুগ্ধতা। মনের মধ্যে কেবল এই প্রশ্নই উঁকি দিয়েছে- কোন কারিগর নিপুণ হাতে গড়েছেন এসব। অস্ট্রেলিয়া নাম শুনলেই আপনার হয়তো মনে হতো সিডনির অপেরা হাউসের কথা। এর বাইরেও সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। সিডনি ব্রিজ, গ্রেট ওশান রোড ভিক্টরিয়া, বোন্ডি বিচ, কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক, উলুরুসেন্টার ঘুরেও মন ভরে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু হচ্ছে ক্যাঙারু। ক্যাঙারুর দেশে খুব আনন্দ নিয়ে তিন বোন মিলে ঘুরেছি। পৃথিবী বিখ্যাত ব্রিজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে 'সিডনি হারবার ব্রিজ'। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের একক স্প্যানবিশিষ্ট সবচেয়ে প্রশস্ত সেতু হলো এটি।

বিশ্ববিখ্যাত আতশবাজির খেলা হচ্ছে সিডনি হারবার ব্রিজের মূল বিশেষত্ব। প্রতিবছর ইংরেজি নববর্ষের সময় সেতু, নিকটবর্তী সিডনি অপেরা হাউস ও তৎসংলগ্ন পোতাশ্রয়ের দুই প্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া আতশবাজির খেলা উপভোগ করতে সারাবিশ্ব থেকে এখানে ভিড় জমায় উৎসাহী পর্যটকরা। প্রতিবছরই ভ্রমণের জন্য আমরা দেশের বাইরে যাই।

আমেরিকায় বেশি যাওয়া হয়। সেখানে আমার ভাই থাকে। ভ্রমণের পাশাপাশি ভাইয়ের বাসায়ও বেড়ানোর আনন্দই অন্যরকম। সুযোগ পেলেই আমেরিকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখি। ভ্রমণের বাইরে কেনাকাটাও আমার খুব পছন্দের। সময় পেলেই পছন্দের কিছু জিনিসপত্রও কেনাকাটা করি। কলা বেচা আর রথ দেখার মতো অবস্থা। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত শহরের পাশাপাশি এই দেশটিতে রয়েছে ক্যাসিনো সিটি লস ভেগাস। টেকনোলজির রাজ্য সিলিকন ভেলিসহ মুভি তৈরির কারখানা খ্যাত হলিউড। এ ছাড়া এই দেশটিতে রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিখ্যাত সুন্দরতম স্থাপনা স্ট্যাচু অব লিবার্টি। শুধু বিদেশ নয়, আমাদের দেশের মধ্যে সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে ভ্রমণের।

কানাডাও আমার খুব পছন্দের জায়গা ছিল। কিন্তু এই ভালোলাগাটা ধীরে ধীরে পাল্টে গেল ববিতা আপার কারণে। তার বাংলাদেশের নীলগিরি খুব পছন্দের। আসলেই খুব আশ্চর্য রকম একটা আলাদা মজা রয়েছে। যারা উপভোগ করতে পারে, তাদের ভালো লাগে। একবার দু'বারে আমি এটি বুঝিনি। পরে বুঝলাম আপা আমাকে কেন বারবার টেনে নিয়ে যায় ওখানে। সে যখন আমাকে এটা উপলব্ধি করাতে সক্ষম হলো তখন আমিও নীলগিরির প্রেমে পড়ে যাই। এ ছাড়া রাঙামাটিও মন কাড়ে। সেখানে গেলেও জীবনের ক্লান্তি দূর হয়। মাঝে আমাদের সবারই দূরে কোথাও বেড়িয়ে আসার উচিত। তাহলে কাজের উদ্যম বাড়ে। এমন জায়গায় যাওয়া উচিত যেখানে গাছগাছালি, পাখি থাকবে। প্রকৃতির কাছাকাছি।

কোনো জায়গার গেলে প্রথমেই আমি জানতে চেষ্টা করি তাদের খাদ্যাভ্যাস। আমি লোকাল খাবার খেতে পছন্দ করি। যদি সেটা হালাল ও সাধ্যমতো হয়। আমার কাছে সমুদ্র ভালো লাগে না। ভয় ও ক্লান্ত লাগে। কিন্তু পাহাড় আমাকে বেশ টানে। পাহাড়ে অনেক বৈচিত্র্য আছে। প্রতি বেলায় আপনি যদি পাহাড়ের দিকে দৃষ্টি মেলে তাকান, তাহলে দেখবেন আলাদা আলাদা রূপ রয়েছে। পাহাড়ের মাঝে প্রকৃতির অনেক রূপ দেখতে পাই। খানিকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলেও নানান কল্পনা ভেসে বেড়ায় মনে। আকাশের মেঘের ভেতর অনেক চিত্র খুঁজে পাই। মনে হয় ঘোড়া দৌড়াচ্ছে। কখনও মনে হচ্ছে মানুষ। কখনও তীর-ধনুক। কখনও পাখি। এটা নিজের মনের ব্যাপার। একটি ফুটতে দেখলে আনন্দ পাই। তার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে। ফুলটি কীভাবে ফুটছে তা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই।