নন্দন

নন্দন


একটানা ঝগড়া আপসে...

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২০      
এক ছাদের নিচে বসবাস, একদিন-দু'দিন নয়, পুরো জীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্বিতীয় জীবন শুরু করেন অনেকে। তারকারাও আছেন সে দলে। হাসি, আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছেন বিবাহিত জীবন। এর মাঝেও আছে নানা বিষয় নিয়ে মতভেদ, ঝগড়া, খুনসুটি, মান-অভিমান পর্ব। তবুও একটানা ঝগড়া আপসে তারা পাড়ি দিচ্ছেন জীবনের চলার পথ। তৌকীর-বিপাশা ও ওমর সানী-মৌসুমী দম্পতির সেই গল্প নিয়েই এ আয়োজন...

মৌসুমী-ওমর সানী

'দোলা' ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রথম পরিচয়। সেই সময়ে তৈরি হয় ভালোলাগা। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বিয়ে। সেই তো শুরু। এরপর তাদের পথচলা আজও অমলিন। মিডিয়াতে বিচ্ছেদের ভিড়ে এখনও উজ্জ্বল এই তারকা জুটি। ওমর সানী বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে বা অনেকটা সময় পাশাপাশি থাকলে দু'জনের মধ্যে অন্যরকম একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনেক সময় প্রেমও হয়। আমার আর মৌসুমীর বেলায়ও এটাই হয়েছে। কাজের সুবাদে আমরা একে অন্যের কাছে এসেছিলাম। প্রেমে অন্ধ হয়ে শেষ পরিণতি বিয়েতে গিয়ে ঠেকে। এখন তো আমরা এক ছাদের নিচে দুই যুগেরও বেশি সময় রয়েছি। হয়তো মাঝে মধ্যে খুনসুটি, ঝগড়া, মনোমালিন্য হয়ে থাকে। তবে তা নিজেদের সংসার গণ্ডির ভেতরে। আমি অভিমান করলে মৌসুমী তা ভাঙায়। আর মৌসুমী অভিমান করলেও একই পন্থা অবলম্বন করি। সংসারে মান-অভিমান থাকেই, একজন রাগ হলে অন্যজন চুপ থাকি। এখন তো ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, মান-অভিমানের ব্যাপারটা কমে গেছে। ছেলেমেয়ের মান-অভিমান, কোথায় গেল, কী করল- এই টেনশন করতে করতে দিন চলে যায়। এ দীর্ঘ যাত্রায় টক-ঝাল-মিষ্টি নানা ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একবার মনে হচ্ছিল খুব তাড়াহুড়া করেই কি বিয়ে করে ফেললাম! তখন অনেকেই বুঝিয়েছিল, বিয়ে করলেই সব শেষ। বিয়ের পর আর এত জনপ্রিয়তা থাকবে না। মেয়ে ভক্তরা সব দূরে সরে যাবে। বিয়ের পরে দেখলাম সে রকম কিছুই হয়নি। মৌসুমী জানান, তাদের সংসারের এই দীর্ঘ যাত্রা পথে ওমর সানীর সঙ্গে বোঝাপড়া মজবুত হয়েছে, কারণ ওমর সানী বন্ধুর মতো একজন স্বামী। ওমর সানী ও মৌসুমীর মধ্যে রয়েছে নানা মিল-অমিল। এটি নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলেন ওমর সানী। তারপর বললেন, 'আমাদের সবচেয়ে বড় মিল হচ্ছে আমরা দু'জনেই আমাদের সন্তানদের খুব ভালোবাসি।'

মান-অভিমান ঝগড়া আমাদের জীবনেরই একটি অংশ। সব মিলিয়ে মিলেমিশে থাকাটাই হচ্ছে সুখী জীবন। আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গেও অনেক মান-অভিমান হয়। কিন্তু সেসব আমরা কখনই মনে রাখি না। ঠিক তেমনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও ঝগড়া হয়। আবার আমরা সেসব ভুলেও যাই। এই তো জীবন। এমনই তো হওয়া উচিত। মৌসুমী বলেন, 'আমরা দু'জন কেউ কারও ওপর বেশিক্ষণ মন খারাপ করে থাকতে পারি না। ওর [ওমর সানী] বেশিক্ষণ অনুপস্থিতি আমার ভালো লাগে না। সব মিলিয়ে আমরা অনেক ভালো আছি।' বলা হয়ে থাকে, বিয়ের আগে ভালোবাসার এক রূপ আর বিয়ের পর অন্যরূপ। কেউ কেউ বলেন, বিয়ের পর ভালোবাসার রং ধূসর হয়ে যায়। কিন্তু ওমর সানীর ভাষ্য অন্যরকম। তিনি বলেন, 'বিয়ের আগে প্রেম-ভালোবাসায় নানারকম সামাজিক বাধাবিপত্তিও থাকে। যেটা বিয়ের পরে থাকে না। যাই বলেন, বিয়ের পরে প্রেম করে শান্তি আছে [হা...হা...হা...]।

দাম্পত্য জীবনে সফলতার মন্ত্র নিয়ে ওমর সানী বলেন, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিশ্বাস, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর বিশ্বাস থাকাটা খুবই জরুরি। দু'জনকে কিছুটা ছাড় দিতে হয়। এ মন্ত্রই আমি আর মৌসুমী বেছে নিয়েছি। আমার স্ত্রী একজন চিত্রনায়িকা। অন্য পুরুষের সঙ্গে তাকে কাজ করতে হবে। এটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে লাভ নেই। আমিও অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে শুটিং করেছি। রাতের পর রাত শো করেছি। আউটডোরে ছিলাম। আমাকে মৌসুমী এ বিষয়ে কোনো দিনই কিছু বলেনি। আমার প্রতি তার প্রবল বিশ্বাস ছিল বলেই এটি হয়েছি। আর আমি ব্যক্তিগত জীবনে কখনও কোনো কিছুই লুকাইনি। তৌকীর আহমেদ-বিপাশা হায়াত

দাম্পত্য জীবনে মান-অভিমান পর্ব থাকবেই। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে, তাদের কখনও কোনো বিষয়ে দ্বিমত কিংবা ঝগড়া হবে না। বিপাশা এবং আমার সম্পর্কের শুরু বন্ধুত্ব থেকে। এখনও আমরা একে অপরের ভালো বন্ধু, এমনকি আমাদের সন্তানদের কাছেও আমরা ভালো বন্ধু। তারপরও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হয়নি- এটা কখনও বলব না। হয়েছে, আবার মিটেও গেছে। ঘর-সংসারের বাইরে আমাদের অভিনয় জীবন, নির্মাণ পরিকল্পনা ও অন্যান্য কাজকর্ম করি। যা নিয়ে কখনও একমত হয়েছি, কখনও মতভেদও হয়েছে। আবার ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কখনও কখনও মান-অভিমান হয়েছে। কে আগে বা পরে কার মান ভাঙিয়েছি- এটা বড় বিষয় নয়। অনেকটা পথ একসঙ্গে পাড়ি দেব- এই ছিল প্রতিশ্রুতি। যে জন্য একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করেছি সবসময়। বন্ধু বলেই আমরা নিজেদের সম্পর্কে ভালো জানি, একে অপরের পাশে থাকি। জীবনকে গুছিয়ে নেওয়া, সুন্দরভাবে সংসার ধর্ম পালন করে যাওয়ার এটাই মূল মন্ত্র। তৌকীর আহমেদের এ কথার সঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন বিপাশা হায়াত নিজেও। তার কথায়, বন্ধুদের মাঝে যেমন মান-অভিমান হয়, তেমনি সংসার জীবনেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কখনও কখনও খুনসুটি, রাগ, মান-অভিমান চলে। আবার তা মিটেও যায় একে অপরের বোঝাপড়ায়। আমদের দাম্পত্য জীবন তার বাইরে নয়।