নন্দন

নন্দন


লকডাউনের ডায়েরি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২০      
জীবনে হঠাৎ যুক্ত হয়েছে নানা রকম বিধিনিষেধ। পাল্টে গেছে জীবনের অভ্যাস। অন্য সবার মতো তারকারাও এই সময়ের নানা ঘটনা লিপিবদ্ধ করছেন। আজ রইল তিন তারকার লকডাউন ডায়েরি



নুনা আফরোজ

ঢাকা। ২৬ জুন, ২০২০



হিরার ছবি তোলা যে কী কঠিন তা কাছের মানুষ, দলের বন্ধু মাত্রেই জানে! সব সময় ছবি তোলা থেকে দূরে থাকে। কখনও দলেবলে কোথাও তুলতে হলে দেখা যায় সবাই ক্যামেরায় তাকিয়ে আছে, হিরা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে বা কারও সঙ্গে কথা বলছে বা ফোনে কথা বলছে কিংবা মাথা চুলকোচ্ছে।

কখনও কোনো সাংবাদিক ছবি চাইলে বা দলের কোনো প্রকাশনায় দরকার হলে হিরার স্বাভাবিক ছবি খুঁজে পাওয়া সে এক মহা বিড়ম্বনা! অল্প কিছু স্বাভাবিক ছবি যা পাওয়া যায় তা একরকম জোর করেই তোলা।

আজ বারান্দায় বসে পড়ছিল, মাত্র রোদ পড়তে শুরু করেছে বারান্দায়, রোদ্দুর-ছায়ার খেলাটা ভীষণ ভালো লাগছিল। বললাম ছবি তুলে দেই কয়েকটা? কেমন করে যেন অনায়াসে রাজি হয়ে গেল, এটা বোধহয় লকডাউনের প্রভাব...। বাজারে যাওয়ার ফাঁকে ছবিগুলো ফেসবুকে শেয়ার করে দিলাম। জানি না কী রিঅ্যাকশন হবে! ও নিজে সাধারণত পারসোন্যাল ছবি কোথাও শেয়ার করে না। খুশিই হবে বোধহয়। লকডাউনের প্রভাব আছে যে!



আসনা হাবিব ভাবনা

ঢাকা। ২৯ জুন, ২০২০



আমার একজন কলিগ আমাকে বলেছিলেন আমার ইনস্ট্রাগ্রাম দেখলে তার মনে হয় শিল্পকলা একাডেমিতে এসেছে। তার কথার সঙ্গে আমি একমত নই। তবে হ্যাঁ, ইনস্ট্রাগ্রাম, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করতে হয় আমি তা জানি না। যখন যা মনে হয় তাই পোস্ট করি। যাই হোক, আমি খুব সিরিয়াসলি ব্যবহার করি না এবং খুবই বোরিং ছবি পোস্ট করি, আর এখন তো খালি পেইন্টিং। আমি বিশ্বাস করি, সবাই এক পথে হাঁটে না, আমার পথটা আমার মতো, অন্য কারও মতো নয়। তবে আমার ইনস্ট্রাগ্রাম দেখলে আমার মনে আমার সুন্দর এক ছবির বই, যা একেবারেই আমার নিজের মতো। ২ বছর পর ১ মিলিয়ন ফলোয়ার হওয়াতে আমি খুশি। যদিও আমি বিশ্বাস করি সব ফলোয়ারই আমার ফ্যান নয়। তবুও ভালো লাগে। ধন্যবাদ।





রওনক হাসান

ঢাকা। ২৬ জুন, ২০২০



আমিও বলছি, লিখছি বাবার কাছ থেকে আমি সততা, নিষ্ঠা, ভালোবাসা শিখেছি। আবার যে মানুষটাকে আমি চরম অসৎ ও খারাপ হিসেবে জানি সেও লিখছে সততা, ভালোবাসা ও নিষ্ঠা আমি বাবার কাছ থেকে শিখেছি। তাইলে বিষয়টা কী!

এমন মানুষ আছে যে আবার আমাকে চরম অপছন্দ করে এবং আমাকে খারাপ ভাবে, তো সে আমার লেখা পড়ে আমাকে গাল দিচ্ছে। বলছে হিপোক্রেট। আবার আমিও যাকে খারাপ জানি তাকেও একই কথা বলছি। তাইলে ঘটনাটা কী দাঁড়াল! ভালো মন্দ পুরো বিষয়টাই তো আপেক্ষিক। দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। আমি খারাপ বললেই তা সঙ্গে সঙ্গে খারাপ হয়ে যাচ্ছে না। আবার কেউ ভালো বললেই যে তা ভালো সেটাও নিশ্চিত নয়। আর তাই যদি হয়, তাইলে আমাদের যে কোনো বিষয়ে বলতে গেলে এত কনফিডেন্স আসে কোত্থেকে!