নন্দন

নন্দন

কিছু একটা নিজেই সিনেমা হয়ে উঠেছে: জয়া আহসান

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শিহাব উদ্দিন শিশির

কিছু একটা নিজেই সিনেমা হয়ে উঠেছে: জয়া আহসান

নাম চূড়ান্ত না হওয়া ছবির দৃশ্যে জয়া আহসান

করোনার গত ছয় মাস অভিনেত্রী জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিলেন ভীষণ সরব। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে থেকেছেন আলোচনাতেও। লকডাউনে জয়ার বাড়ির বারান্দা ও ছাদে নানা ধরনের গাছের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি লাগিয়েছেন নতুন চারাও। বিভিন্ন সময়ে খবরও হয়ে এসেছেন গণমাধ্যমে। কিন্তু নতুন চলচ্চিত্রটি নিয়ে 'টুঁ' শব্দও করেননি এ তারকা অভিনেত্রী। গত রোববার রাতে জানালেন নতুন ছবি নিয়ে। নাম চূড়ান্ত না হওয়া এই ছবির দৃশ্যধারণ হয়েছে গত জুনে। প্রথমে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা থাকলেও, কাজটি করতে গিয়ে হয়ে যায় ফিচার ফিল্ম। এটি নির্মাণ করেছেন পিপলু আর খান। তিনি এর আগে নির্মাণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে 'হাসিনা এ ডটারস টেল'। নতুন এই ছবি নিয়ে জয়া বলেন, প্যানডেমিকের সময়গুলোতে বাসায় বেশ অস্থিরতার সঙ্গে দিন পার করছিলাম। তখন পরিচালক পিপলু ফোনে বললেন- চলেন এই সময়টা ধরে 'কিছু একটা' করি। সেই কিছু একটা করার জন্য আমিও বললাম, চলেন শুরু করি। এরপর গল্পের মধ্যে গল্প। স্বল্পদৈর্ঘ্য থেকে তৈরি হলো পূর্ণদৈর্ঘ্য! এভাবেই কাজটি করা।

জয়ার মতে, ছবি অনেক সময় ছবি হয়ে ওঠে, বানাতে হয় না! অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটি প্রযোজনাও করেছেন জয়া আহসান। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'সি তে সিনেমা'র সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে 'অ্যাপেল বক্স ফিল্মস', 'বক্স অফিস মাল্টিমিডিয়া'। আপাতত তথ্য এটুকুই। নিজে প্রযোজক হলেও পরিচালকের অনুরোধে গল্পের রহস্যটা ধরে রেখেছেন। জয়ার ভাষ্যে- 'বেশি বলা বারণ। শুধু দর্শকদের জন্য আমার আগামী ছবির আগমনী বার্তা এটুকুই।'

জানা গেছে, জটিল মনস্তত্ত্বের নানা বিষয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে থ্রিলারধর্মী এই ছবি। এরই মধ্যে জয়া আহসান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ছবির বেশ কয়েকটি লুক প্রকাশ করেছেন। যেখানে কোনোটাতে মাস্ক পরে সহ-অভিনেতার সঙ্গে বসে আছেন, কোনোটায় সাজঘরের আয়নায় অবাক পানে তাকিয়ে আছেন, কোনোটায় বারান্দার গ্রিলের সামনে দাঁড়িয়ে কী যেন ভাবছেন। আবার কোনোটায় মেঝেতে ভয়ে সংকুচিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা গেল তাকে। তার সূত্র ধরেই ইঙ্গিত মিলল, এই ছবি পুরোদস্তুর থ্রিলার ঘরানার হতে চলেছে। জয়া বলেন, জীবনের খণ্ড খণ্ড না-বলা অনুভূতি আর বাকি গল্পটা একটু জটিল। আপাতত ছবিটি নিয়ে এতটুকুই বলছি। বাকিটা দর্শকরা পর্দায় দেখে নেবেন। জানা গেল, মাত্র ১০ জন শিল্পী আর কলাকুশলী নিয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৫ দিনে শেষ হয়েছে ছবির দৃশ্যধারণ। জয়া বলেন, ছবিটির জন্য এক ধরনের প্রস্তুতি ছিল। আর একেক ধরনের ছবির একেক রকম আয়োজন প্রয়োজন। এটাও ঠিক তেমনই। এই সিনেমাটা নিজে নিজেই সিনেমা হয়ে উঠেছে। আলাদা করে বানাতে হয়নি। শুটিংয়ের আগে প্রডাকশন বয় থেকে গাড়ির ড্রাইভার প্রত্যেকের দু'বার করে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ১৫ দিনের শুটিংয়ের বিষয়টি কিন্তু একটা পাগলামিই বটে? জয়ার ভাষ্য, এত কম মানুষ, আর এত কম সময়ে একটা ফিচার ছবি তৈরি করা যায়, সেটাও জানা হলো। অসাধারণ পরিশ্রমী কিছু মানুষের সঙ্গে একটা সুন্দর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলাম। অতিমারির মধ্যে দিয়ে চলা বিশ্বের যে কোনো মানুষ এই ছবির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারবেন বলে দাবি করেন জয়া। কবে মুক্তির কথা ভাবছেন? জয়া বললেন, দিন তো ঠিক হয়নি। তবে ছবি যাতে সবাই দেখতে পান, এর যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।