নন্দন

নন্দন

চি লে কো ঠা

বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যমঞ্চ থেকে শুরু

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২০

ফারুক আহমেদ

বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যমঞ্চ থেকে শুরু

ফারুক আহমেদ

আমার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। একসময় সেখান থেকে ঢাকায় আসি। ধানমন্ডিতে বেড়ে ওঠা। সেখানের অলিগলিতে কেটেছে ধুলোমাখা শৈশবের রঙিন দিনগুলো। ছোটবেলায় আবৃত্তিতে মনোযোগ ছিল বেশি। গ্রামের নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতাম। শহরে এসে কেমন যেন শূন্য লাগত। খেলার সঙ্গী কমে যাওয়ায় মন খারাপ হতো। ঢাকায় ছোট ভাই ছিল আমার একমাত্র খেলার সঙ্গী। ধানমন্ডি স্কুুলের মাঠে নিয়মিত টেনিস খেলেছি। এখনও সেই দৃশ্য চোখে ভাসে। মাঝে মধ্যে ফিরে পেতে মন চায় সেইসব দিন। একসময় অভিনয়ে আসার ইচ্ছা হলো। তবে অভিনয় করে সংসার চালাব, এটা কখনও ভাবিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মঞ্চে অভিনয় শুরু করি। দায়িত্ব পালন করেছি মীর মশাররফ হোসেন হলের নাট্য সম্পাদক হিসেবে। বাবা আমাকে অভিনয়ের ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। যখন কোনো পত্রিকায় আমার ছবি বা সংবাদ ছাপা হতো, তখন তা কেটে রেখে দিতেন তিনি। সে সময় চারপাশ থেকে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতা ছিল। কৈশোর-উত্তীর্ণ সে সময়টাই সবচেয়ে কঠিন ছিল আমার জন্য। আমি যেন নাটক না করতে পারি সেই চেষ্টা করেছেন কেউ কেউ। কেউ আবার চলার পথেও বাধা হয়েছেন। মনোবল হারাইনি কখনও। ১৯৮৩ সালে ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হই। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে 'কিত্তনখোলা', 'কেরামত মঙ্গল', 'হাত হদাই', 'যৈবতী কন্যার মন', 'প্রাচ্য', 'চাকা' 'বনপাংশুল' ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করেছি। বরেণ্য লেখক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করাই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত 'বারো রকম মানুষ' নাটকে 'রসিক লাল' নেতিবাচক চরিত্র আমাকে অন্যরকম পরিচিতি পাইয়ে দিয়েছে। বিটিভি থেকেই হুমায়ূন আহমেদের 'অচিন বৃক্ষ' নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যাই। এর মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। তিনি বেঁচে থাকাকালীন প্রায় সব নাটকেই অভিনয় করেছি। হুমায়ূন আহমেদ তার 'লিলুয়া বাতাস' বইটি আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন।

এটি আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করি। এ পাওয়া আমার কাছে বড় পুরস্কারের চেয়েও অনেক কিছু। মানুষ একটা বয়সে অনেক কিছু হতে চায়। আমিও হয়তো চেয়েছিলাম। কিন্তু একটা সময় পর আমি বুঝতে পারি, মঞ্চ আমার নিজের জায়গা, অভিনয়টাই আমার লক্ষ্য। কিন্তু সে সময় অভিনেতা হওয়া সহজ ছিল না। এত চ্যানেল, এত নির্মাতা ছিলেন না। একমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়া আর কোনো মাধ্যম ছিল না। জীবনের এ পর্যায়ে এসে দেখি, একসময় যারা আমায় নিয়ে নানা কথা বলতেন, এখন তারাই আমাকে নিয়ে গর্ব করেন। জীবনে যা চেয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। আমার অভিনয় জীবন নিয়ে আমি তৃপ্ত।