কেউ জানে না, কবে থেকে ছবি তোলার নেশা পেয়ে বসেছে জেমসকে। এমনকি দু-তিন বছর আগেও অগোচরে ছিল তার ফটোগ্রাফার পরিচয়। শখের বসে যারা ছবি তোলেন জেমস তাদেরই একজন। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে জেমসের পার্থক্য এখানেই যে, তার প্রতিটি ছবিতে ধরা দিয়েছে নিজস্বতার ছাপ। সাম্প্রতিক সময়ে তাই গানের পাশাপাশি তার ফটোগ্রাফি হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার তোলা ছবিগুলো ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। সাধারণ দর্শক যেমন জেমসের ছবি তোলার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ আর প্রশংসা করেছেন, তেমনি যারা তার ক্যামেরার সামনে মডেল হয়েছেন, তাদের মুখে ছিল মুগ্ধতার কথা। জয়া আহসান, সোহানা সাবা, মিথিলা মারিয়া নূরের মতো তারকা থেকে শুরু করে আরও যারা মডেল হিসেবে জেমসের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, প্রত্যেকেই তার কাজের প্রশংসা না করে পারেননি। তাই গানবিষয়ক আলোচনার আগে জেমসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ফটোগ্রাফি নিয়ে। প্রশ্ন ছিল, ছবি তোলার ইচ্ছা সবসময় ছিল, নাকি হঠাৎ করেই এই কাজের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়েছে? এর জবাবে জেমস বলেন, 'মনের মধ্যে অনেক ইচ্ছা লুকানো থাকে। সময় বুঝে তা জেগে ওঠে।

ফটোগ্রাফির ইচ্ছা হয়তো আগে থেকেই মনে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। নইলে এই কাজের প্রতি এত আকর্ষণ তৈরি হবে কেন? আর এখন তো ছবি তোলা নেশায় পরিণত হয়েছে। যখনই সময় পাই ছবি তুলি।' জেমসের এই কথায় বোঝা যায়, আগে থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি দুর্বলতা ছিল। কিন্তু এই বাসনা কতদিনের তা নিজেও জানেন না। তাই যখনই মনে হয়েছে, মনের লুকানো ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব, তখনই হাতে তুলে নিয়েছেন ক্যামেরা। এটা জানার পরই তার কাছে প্রশ্ন ছিল, ফটোগ্রাফির বিষয়ে তার নির্দিষ্ট বাছ-বিচার আছে কিনা? এ নিয়ে তিনি বলেন, 'মডেল, নাগরিক জীবন আর প্রকৃতি আমার ছবি তোলার প্রধান বিষয়। এ ছাড়া ফটোগ্রাফি নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবিনি।' নিজের ছবিগুলো নিয়ে কোনো প্রদর্শনীর ইচ্ছা আছে কি? এর উত্তরে তার সোজাসাপ্টা উত্তর, 'ছবি তোলা আমার শখ; যা এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। গানের মতোই এই কাজটি ভীষণ ভালো লাগে। তারপরও পেশাদার ফটোগ্রাফি বা প্রদর্শনীর ইচ্ছা এখনও হয়নি। আগামী সময়ে কী করব- তা নিয়েও কিছু ভাবিনি।' এই হলো অন্য ভুবনের জেমসের কথোপকথন। এবার আসা যাক, চিরচেনা রক তারকা জেমসের প্রসঙ্গে।

জেমসের ক্যামেরায় সোহানা সাবা, মিথিলা ও সাদিয়া আফরীন মাহি


যার একেকটি গানের জন্য দিনের পর দিন প্রতীক্ষার প্রহর গুনে অগণিত শ্রোতা, সেই জেমসের নতুন কোনো গান প্রকাশ পায়নি অনেক দিন। এ বছর নতুন কোনো গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'দিনক্ষণ বলতে পারব না, তবে নতুন গান অবশ্যই প্রকাশ পাবে, এটা বলতে পারি।' তার এই আশ্বাসে ভক্ত-শ্রোতার মুখে হাসি ফুটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ এক বছর বিরতির পর তিনি যখন স্টেজ শোতে অংশ নেওয়া শুরু করেছিলেন, তখনই বোঝা গেছে, তার দরাজ কণ্ঠের গানের জন্য শ্রোতা কতটা ব্যাকুল হয়ে ছিলেন। ঝাঁকড়া চুলের সঙ্গে এবার গোঁফ-দাড়িতে নতুন অবয়বে তিনি যখন মঞ্চে উঠেছিলেন, তখন দর্শক গ্যালারি উল্লাস, উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা গেছে; যা থেকে এটাই প্রমাণ হয়েছে, জেমস এখনও অদ্বিতীয়। সবকিছুই ঠিক ছিল, কনসার্টে ফিরে জেমস শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণও করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। ঘরবন্দি হতে হলো নন্দিত এই শিল্পীকে। গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ওপেন এয়ার কনসার্টের জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে সংগীতপ্রেমীরা ছুটে এসেছিলেন। কিন্তু করোনা নতুন করে হানা দেওয়ায় এই আয়োজন স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে জেমসের কথা ছিল একটাই, 'জীবনের জন্য গান, তাই জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে আনন্দে মেতে ওঠা যায় না।

তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক থাকুন, দেখা অবশ্যই হবে, শুধু দুঃসময় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা।' তার এই কথায় একজন শিল্পীর পাশাপাশি মানবিক জেমসের পরিচয় উঠে আসে। গত এক বছর কোনো কনসার্টে অংশ না নেওয়ার বিষয়েও তিনি বলেছেন, 'গত এক বছর কোনো কনসার্টে অংশ নিইনি কেন, তা সবারই জানা। এই সময়ে এসে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হওয়ায় কনসার্টে ফিরেছিলাম। ক্লাসরুম এসএসসি-২০০১ ব্যাচের ২০ বছর পূর্তির কনসার্টে অংশ নিয়ে বিরতি ভেঙেছি। এরপর অংশ নিয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুর সিটি ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। নিয়মিত শোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আবার সব এলোমেলো হয়ে গেল। বাড়ল দুঃসময় কেটে সুসময়ের অপেক্ষা।' সুসময়ের এই অপেক্ষা আমাদের সবার। যে সময়ে আবার আমরা জেমসকে পাব নানা আয়োজনে। শুনব তার দরাজ কণ্ঠে গাওয়া 'দুঃখিনি দুঃখ করোনা', 'বাংলাদেশ', 'মা', 'বাবা', 'লেইস ফিতা লেইস', 'আমি তোমাদেরই লোক', 'যেদিন বন্ধু চলে যাব', 'দুষ্টু ছেলের দল', 'বিজলী', 'লিখতে পারি না কোনো গান', 'জনতা এক্সপ্রেস' 'তারায় তারায় রটিয়ে দেব', 'মিরাবাঈ', 'পথ', 'তোর কারণে অন্ধ হলাম'সহ আলোড়ন সৃষ্টিকারী গানগুলো।

মন্তব্য করুন