বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এ আয়োজন ঘিরে সবার থাকে নানা পরিকল্পনা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ সব ভুলে সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় দিনটিতে। করোনার কারণে গত বছরের মতো এবারও তারকাদের বৈশাখ কাটবে ঘরে থেকেই। এই বৈশাখে নিজ নিজ পরিকল্পনার কথা বলেছেন চার তারকা অভিনেত্রী-

পরীমনি

মানুষের জীবনের রং নানা সময় বদলায়। শৈশবের বৈশাখে এক রকম মজা হতো। এখন অন্য রকমভাবে উদযাপন করি। শৈশবে নানাবাড়ি পিরোজপুরে বৈশাখ উদযাপনের স্মৃতি কখনও ভুলতে পারব না। মেলায় যেতাম। বাতাসা, পিঠাসহ হরেক রকমের খাবার খেতাম। মেলায় নাগরদোলা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত। একা একা নাগরদোলায় চড়তাম। কাউকে উঠতে দিতাম না। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। প্রতিবছর বৈশাখ ভিন্নভাবে পালন হতো। করোনার কারণে এবার অন্যরকম পরিস্থিতি। বাসায় বৈশাখে ইলিশ রান্না করা হবে। এত উৎসব-আয়োজনের মধ্যেও মন খারাপের জায়গা রয়েছে। দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। মনে সব সময় আতঙ্ক কাজ করে।

মাহিয়া মাহি

বছর ঘুরে আবারও আসছে বৈশাখ। চৈত্রসংক্রান্তি, হালখাতা ও বর্ষবরণের উৎসবে মেতে উঠবে মানুষ। সিনেমায় অভিনয়ের আগে সব উৎসবই বেশ আয়োজন করে পালন করা হতো। কিন্তু নায়িকা হওয়ার পর ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফলে আগের মতো আর উৎসবগুলো পালন করা সম্ভব হয় না। অনেক বৈশাখ তো শুটিং স্পটেই উদযাপন করেছি। এবারের বৈশাখে শুটিং নেই। করোনাকালে বাইরে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব নয়। যেজন্য পুরোটা দিন বাসায়ই সময় কাটবে। ইলিশ আর পান্তা আমার খুবই প্রিয়। একবার শুটিংয়ে থাইল্যান্ডে 'অগ্নি' ছবির শুটিংয়ে ছিলাম। এমন একটা জায়গায় ছিলাম, যেখানে পান্তা আর ইলিশের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আমি ইলিশের একটি ছবি সামনে রেখে ভাতে পানি ঢেলে খেয়েছিলাম। বৈশাখে শৈশবকে ফিরে পেতে ভালো লাগে। আমার শৈশব কেটেছে উত্তরায়। স্কুলে নানা ধরনের আয়োজন থাকত। সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক আগে থেকেই রিহার্সেল করতাম। পাশেই ছিল মেলার মাঠ। বৈশাখ মানেই লাল-সাদা পোশাক। বৈশাখী সাজে মেলায় ঘুরতাম। পুতুলনাচ, নাগরদোলায় চড়াসহ অনেক স্মৃতি রয়েছে।

বিদ্যা সিনহা মিম

লকডাউনে সব বন্ধ। পহেলা বৈশাখ নিয়ে তাই বিশেষ কোনো আয়োজন কিংবা পরিকল্পনা নেই। জীবন আগে। বেঁচে থাকলে আবারও বৈশাখ উদযাপন করতে পারব। বাইরে কোথাও বের হওয়ার ইচ্ছা নেই। বাসায় থাকব। গত বছর বৈশাখে ঘরবন্দি ছিলাম। বাসায় রান্নাবান্না করেছি। এবারও তা করতে হবে। অভিনয় জগতে প্রবেশের আগে বৈশাখে বাসায়ই সময় কাটত। কিন্তু অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার পর এই উৎসবের দিনে বাসায় থাকা অসম্ভব ছিল। নানা রকম অনুষ্ঠানে দাওয়াত থাকত। বৈশাখী সাজগোজে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। গত বছর থেকেই এ বিষয়গুলো মিস করছি। বাবার চাকরির সুবাদে ভোলা, কুমিল্লা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বৈশাখের রঙিন সময় কেটেছে। এই সময়ে শৈশবের বৈশাখ উদযাপনের সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। আমি ও মা মিল করে পোশাক পরতাম। কী পরব-না পরব, তা সাত দিন আগে থেকে ঠিক হতো। গ্রামে বৈশাখ উপলক্ষে মেলা বসলেও ভিড় ঠেলে মেলায় যাওয়া একদমই পছন্দ করতাম না। তবে বাবা মেলা থেকে মিষ্টি আনতেন। মজা করে খেতাম। গত বছর অনলাইনে প্রচুর উপহার পেয়েছি। এবারও পাচ্ছি। নতুন বছরে আমার একটাই চাওয়া, করোনা পরিস্থিতি ভালো হয়ে দেশ আগের মতো হোক। আমরা যেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি।

মেহজাবিন চৌধুরী

বৈশাখ মানেই আমার কাছে নিজের ও নিজস্ব সংস্কৃতির একটি দিন। বাঙালির এই চিরায়ত উৎসবকে নানা রঙেই দেখেছি। বৈশাখের দিনটা বেশি আনন্দের। কারণ, এই দিন সাধারণত কোনো শুটিং থাকে না। বাড়িতে বৈশাখ মানেই আর সব বাঙালির মতো আয়োজন। পান্তা, মরিচ ও চিংড়ি বৈশাখে আমার প্রিয় খাবার। এদিনে বাসায় ভর্তা ও নানা পদের রান্নায় সময় কেটে যায়। কী রান্না করব, এখনও ভাবিনি। করোনার কারণে বাসায় সময় কাটবে। করোনার প্রকোপ বেড়েছে। সবাইকে বলব, জরুরি কাজ না থাকলে আপাতত কয়েক দিন বাসায় অবস্থান করুন। আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। সবাইকে বলব, যার যেমন সামর্থ্য আছে অসহায় মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। দোয়া করি করোনাকালে সবাই যেন সুস্থ থাকেন। এ সমস্যা যেন দ্রুত কেটে যায়। বাঙালির চেতনার এই নতুন দিনে সবাই যেন করোনামুক্ত নতুন পৃথিবীর দেখা পায়- এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন