কিছু গল্প চলমান জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। সংগ্রামী পথ বেছে নেওয়ার সাহস জোগায়। তেমনই এক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে 'নোম্যাডল্যান্ড' ছবিটি। ৯৩তম অস্কার জয়ী এই ছবির গল্প দর্শকের কাছে এটাই প্রমাণ করেছে, প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে চলার নামই জীবন। এ ছবিতে আমরা দেখি, নেভাদার সাম্রাজ্যে মার্কিন জিপসাম প্লান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারান ফার্ন নামের ষাটোর্ধ্ব এক নারী। স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর সেখানে চাকরি করেছেন ফার্ন। স্বামী মারা যাওয়ার পর এই চাকরি ছিল তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাই চাকরি হারিয়ে কী করবে আগামী দিনে- সেটাই হয়ে ওঠে ফার্নের ভাবনার বিষয়। কিন্তু জীবনের কাছে হার মানবে না বলে একটি ভ্যানকে ভ্রাম্যমাণ বাড়িতে রূপ দিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো শুরু করেন। আয়ের জন্য জুটিয়ে নেন মৌসুমি চাকরি। যার সুবাদে তার জীবনযাপন হয়ে ওঠে যাযাবরদের মতো। মেলামেশাও শুরু হয় যাযাবরদের সঙ্গে। আর একের পর এক নানা ধরনের মৌসুমি চাকরি করতে গিয়ে মুখোমুখি হতে হয় নানা অভিজ্ঞতার। যেখানে এই বিধবা নারী তুলে ধরেছেন কীভাবে পরাজয় স্বীকার না করে জীবন-যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়। বিধবা নারী ফার্ন চরিত্রে ফ্রান্সেস ম্যাকডরম্যান্ডের অভিনয় ছিল অনবদ্য- এই কথা স্বীকার করেছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের অনেকে। যার স্বীকৃতি হিসেবে এবারের অস্কারের সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ফ্রান্সেস ম্যাকডরম্যান্ড। জেসিকা ব্রুডারের কাহিনি পর্দায় বাস্তব করে তুলে ধরার চেষ্টায় চীনা পরিচালক ক্লোয়ি ঝাও মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। যার সুবাদে দ্বিতীয় নারী নির্মাতা হিসেবে তার হাতে উঠেছে সেরা পরিচালকের একাডেমি অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কার না পেলেও 'নোম্যাডল্যান্ড' ছবিতে অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ কাড়তে পেরেছেন ডেভিড স্ট্র্যার্থেইন, বব ওয়েলস, পিটার স্পর্কসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পী।

মন্তব্য করুন