'নির্দিষ্ট ঘরানায় নিজেকে বন্দি করতে চাইনি কখনও। একজন শিল্পীর আত্মতৃপ্তি সেখানেই, যখন তার সৃষ্টি মনে আঁচড় কাটে, হাসায়-কাঁদায়-ভাবায়, ভ্রমণ করায় কল্পলোকে। সে কারণে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের গান করার চেষ্টা করি। আবার ভক্তদের আবদার পূরণ না করলেও নয়। এজন্য চেষ্টা থাকে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপনের। সেই ভাবনার জায়গা থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তুমি কোন কাননের ফুল' নতুন সংগীতায়োজনে গেয়েছি। রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার বাসনাও ছিল অনেক দিনের। সে হিসেবে একসঙ্গে দুটি ইচ্ছা পূরণ হলো এই গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত 'তুমি কোন কাননের ফুল' নিয়ে এভাবেই বললেন কণ্ঠশিল্পী কর্নিয়া। শুরুতেই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গানটি নিয়ে কতটা সাড়া পাচ্ছেন? 'নিজেকে নতুন রূপে তুল ধরতে যেমন আয়োজন চেয়েছিলাম, এই আয়োজনটি ছিল ঠিক তেমনই। একজন শিল্পী হিসেবে ততক্ষণ পর্যন্ত আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করিনি, যতক্ষণ শ্রোতা তাদের ভালো লাগার কথা বলেছেন। অল্প সময়েই অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। এই প্রাপ্তি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।' কর্নিয়ার প্রাপ্তির ঝুলি ভারী থাকুক, এটা তার গানের ভক্তরা সবসময় চান। এটা তারা চাইতেই পারেন। কারণ যিনি ভক্ত-শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণে ভিন্ন আঙ্গিকের আয়োজন করে যাচ্ছেন, তার এটা প্রাপ্য বৈকি। শুধু 'তুমি কোন কাননের ফুল' গানেই নয়, কর্নিয়া তার প্রতিটি গানে নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করতে চান। তার প্রমাণ দিয়েছেন আগেও। নতুন নতুন গানের পাশাপাশি টিভি ও ইউটিউব লাইভ নিয়ে সময় কাটছে কর্নিয়ার। তিনি বলেন, 'করোনার জন্যই এখন থেমে আছি বলতে হয়। মাঝে স্টেজ শো করেছি। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এখন স্টেজ শো হচ্ছে না। তা ছাড়া ঘরবন্দি সময়ে চুপচাপ বসে থেকেছি তা নয়, নতুন গান নিয়ে নানা পরিকল্পনা করেছি, যেগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আমার ইউটিউব চ্যানেলে গানসহ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কনটেন্ট তুলে ধরার চেষ্ট করেছি। আমার গানের জন্য যারা প্রতীক্ষায় থাকেন, তাদের জন্য কিছু করতে চাওয়া। শ্রোতাদের কথা ভেবে ইউটিউব লাইভে গান শোনাচ্ছি। নিজের এবং অন্যান্য শিল্পীর নতুন ও পুরোনো প্রিয় কিছু গান বিভিন্ন সময় শুনিয়েছি। সামনে লাইভ ছাড়াও আরও কিছু কনটেন্ট তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে।'

আগামীর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কর্নিয়া বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মতো সব মাধ্যমেই কাজ করব। ইউটিউবের বাইরেও আরও বেশি টিভি লাইভে অংশ নেব। স্টেজ শো ছাড়াও নিজের নতুন গানের ভিডিওর জন্য শিগগির শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবসময় সময় নিয়ে কাজ করি, কিন্তু এতটা সময় নিই না যে, শ্রোতা ধৈর্যহারা হয়ে যাবে। সংগীতাঙ্গনে যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে গান তৈরি করছি। আশা করছি, ভক্তরা আমার কণ্ঠে নতুন কিছু গান শুনতে পাবেন।' কর্নিয়া যে বসে নেই তার কাজের ফর্দ ঘাঁটলেই এর প্রমাণ মেলে। 'অন্ধ প্রহর' নামে নতুন একটি গান সম্প্রতি রেকর্ড করেছেন। সফট মেলোডি ধাঁচের এই গানের কথা লেখার পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সেতু চৌধুরী। তার গাওয়া তারেক আনন্দের লেখা 'খেয়ালি মন' নামে আরেকটি গানের সুর করেছেন হৃদয় হাসিন। গান দু'টি প্রকাশ হয়েছে। মার্সেলের সুর ও সংগীতে নতুন আরও একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গত বছর লকডাউনে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে 'থার্টি মিনিটস উইথ কর্নিয়া' নামে একটি অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন কর্নিয়া। লকডাউন শেষ হলে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এতদিন এটি বন্ধ ছিল। গতকাল থেকে এ অনুষ্ঠানটি আবারও শুরু করেছেন তিনি। বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে কর্নিয়া আরও বলেন, করোনায় এমনিতেই গান কম করছি। গানের বাইরেও এরই মধ্যে একটি পত্রিকায় ফটোশুটে অংশ নিয়েছি। ৩০ এপ্রিল এটিএন বাংলার একটি তারকা আড্ডা অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ে অংশ নেব। এত দিন ঘর থেকে বের হইনি। কাজও করতে হবে। দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি।

মন্তব্য করুন