আমার দেখা অন্যতম সেরা রোমান্টিক ছবি 'রোমান হলিডে'। ১৯৫৩ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর থেকে টিভিতে ছবিটি বহুবার প্রচার হয়েছে। এখনও হচ্ছে। তবু দর্শকের ছবি দেখার আগ্রহে ভাটা পড়েনি। সেসব দর্শকের মতো আমারও ভীষণ প্রিয় অড্রে হেপবার্ন-গ্রেগরি পেকের এই ছবি। ছবিটি যতবারই দেখি ততবারই যেন নতুন লাগে। এ ছবিটি যে কতবার দেখিছি তার ইয়াত্তা নেই। এত বছর পরও ছবির প্রতিটি দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। বারবার দেখেও চোখে ক্লান্তি আসে না।

উইলিয়াম ওয়াইলারের ভালোবাসার গল্প বলার ভঙ্গি বদলে দিয়েছিলেন 'রোমান হলিডে' ছবিতে। রাজকীয় জীবনের একঘেয়েমিতে হাঁপিয়ে ওঠা এক রাজকন্যাকে মুক্তির আলোয় নিয়ে যান এক তরুণ সাংবাদিক। বিদায়বেলায় রাজকুমারী বলেন, 'আমি জানি না কীভাবে বিদায় বলতে বলব।' তরুণটি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, 'চেষ্টা করো না'। এই যে দৃশ্য- এটা কখনও পুরোনো হওয়ার নয়। বারবার তাই মনের পর্দায় দৃশ্য ভেসে ওঠে। একই সঙ্গে মুগ্ধতায় ভরে যায় মন। পেকের পৌরুষদীপ্ত অবয়ব, গভীর কণ্ঠস্বর এবং শক্তিশালী অভিনয় তাকে হলিউডের সর্বকালের সেরা নায়কদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এতে অভিনয় করে অড্রে হেপবার্ন চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার পেয়েছিলেন। পেক এবং হেপবার্নের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা সারা জীবন স্থায়ী হয়েছিল। অড্রে হেপবার্ন হলিউডের স্বর্ণালি যুগের সেরা অভিনেত্রীদের একজন। তিনি একজন ফ্যাশন আইকন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাদামাটা পোশাকেও অড্রে ছিলেন সুন্দর। এখনও তার পোশাকের স্টাইল হারিয়ে যায়নি। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তার মানবতাবাদী জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড। এজন্য তিনি মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের আপন করতে হয়তো আর কোনো অভিনেত্রীই এভাবে পারেননি। এটিই তাকে অনন্যসাধারণ করেছে।

মন্তব্য করুন