'বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে প্রকৌশলী হবে। তার স্বপ্ন পূরণ করেছি। নিজে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। গান-বাজনাও করেছি। কিন্তু যা কখনও ভাবিনি সেটাই হয়েছি। এখন আমি অভিনয় ভুবনের বাসিন্দা। মন্দ লাগছে না, কারণ ফেলে আসার স্বপ্নের পথে পেয়েছি নতুন ঠিকানা। আমাদের চেনাজানা মানুষের গল্প নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে পর্দায় তুলে ধরছি প্রতিনিয়ত। সঙ্গে সঙ্গে পাচ্ছি দর্শক প্রতিক্রিয়াও। এখন দর্শকদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়েই অভিনয় জীবনের পথপরিক্রমা।' নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে এমন কথাই শোনালেন তৌসিফ মাহবুব। টিভি নাটকের এই সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা তিনি। গল্পের চরিত্র যেমনই হোক, নিজেকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন তাকে ঘিরেই চরিত্রের সৃষ্টি। গেল ঈদে প্রায় ৪৫টি নাটক-টেলিছবিতে ভিন্নধর্মী চরিত্রে তাকে দেখা গেছে। 'নাবিক' নাটকে জাহাজের ক্যাপ্টেন, 'ফরেন বাবুর্চি' নাটকে বাবুর্চি, 'রিকশাওয়ালা দুলাভাই' নাটকে রিকশাওয়ালা, 'উইল ইউ মেরি মি' নাটকে একেবারে ভিন্ন গেটআপে হাজির হয়েছেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে 'হারানো দিনের গান' নাটকে তাকে গানও করতে হয়েছে। শুধু দীপ্ত টিভিতে ছিল তার নাটক নিয়ে আয়োজন 'সেভেন শেডস অব তৌসিফ'। এতে 'মনের মতো বাগান', 'হ্যালো লেডিস', 'আওয়াজ', 'চান্স', 'পা', 'পাঁচ ভাই চম্পা', 'টোল' নাটকে সাত রকমের তৌসিফকে দর্শকরা দেখেছেন। সব মিলিয়ে এখন তার বৃহস্পতি তুঙ্গে। এবারই অভিনয় ক্যারিয়ারে কোনো ঈদে সর্বাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। বিষয়টি কেমন লাগছে?

তৌসিফ বলেন, 'আমার কাছে সংখ্যা কখনও গুরুত্বপূর্ণ নয়। কতগুলো ভালো নাটক- টেলিছবিতে অভিনয় করেছি সেটাই মুখ্য। গত ভালোবাসা দিবস ও কোরবানির ঈদে আমার ২০টি নাটক যায়নি। স্পন্সরসহ নানা জটিলতায় এগুলো আটকে ছিল। সব কাজ জমে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এর শুটিং করেছি। কাজগুলোতে দর্শক বেশ সাড়া দিয়েছেন, এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে।'

প্রায় দশ বছরের টিভি মিডিয়া ক্যারিয়ারে তৌসিফ নিজের একটা অবস্থান তৈরি করেছেন, যা বেশ ঈর্ষণীয়। এখন আজ উত্তরা, কাল পুবাইল, নয়তো অন্য কোনো জায়গায় শুটিংয়ে ব্যস্ত দিন কাটে তার। দিন-রাত এত ব্যস্ত সময় কাটে; ক্লান্তি এসে কখনও ভর করে না? তৌসিফ বললেন, দর্শকদের কথা ভেবেই সব সময় অভিনয় করি। শুটিংয়ে যতই চাপ থাকুক; বাসায় এসেও পরিবারের জন্য নিজের শতভাগ দিতে চেষ্টা করি। তবে বিশেষ দিবস ও উৎসব আয়োজনে যেন দম ফেলার ফুরসত থাকে না। তখন নিজের ওপর দিয়ে অন্যরকম চাপ বয়ে যায়। এটাও মাঝেমধ্যে উপভোগ করি। আসছে কোরবানির ঈদের জন্য পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অভিনেতা তৌসিফকে তার স্বনামের বাইরেও অনেকেই চেনেন 'ইমরান','নেহাল'সহ অনেক নামে। তাই তৌসিফের কাছে জানতে চাইলাম নামের বদলে দর্শক যখন চরিত্রের নাম ধরে ডাকে তখন কেমন লাগে? মুখের হাসির রেশ রেখেই বললেন, 'আমার চরিত্রগুলো মানুষ মনে রেখেছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! অভিনয়ের সার্থকতা তো এখানেই।' একজন তৌসিফ হয়ে ওঠার পেছনে মন্ত্র কী? 'দেখুন, আমি আমার কাজ সব সময় ঠিকঠাক মনোযোগ দিয়ে করেছি। ভক্তরা বলে যে, তারা আমার অভিনয়কে বাস্তব মনে করে। সম্ভবত, অন্য কারণটি হলো, আমি সর্বদা নানা চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার চেষ্টা করি। যখন কোনো গল্প মনে ধরেছে সেই গল্পে অভিনয় করেছি।' বললেন তৌসিফ।

ছোটপর্দায় ব্যস্ত থাকলেও বড় পর্দা নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনেমায় অভিনয় নিয়ে আপাতত ভাবছি না। করোনাকালে এ মাধ্যমের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। যারা সিনেমায় কাজ করতেন তারা এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি চাই ভালো গল্প ও অভিনয়ের সুযোগ। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সিনেমায় অভিনয় নিয়ে ভাবব।

জনপ্রিয়তার ডানায় ভর করে এগিয়ে চলছেন তৌসিফ। কিন্তু প্রায়ই তাকে নানা বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। এ নিয়ে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়েছেন কখনও কখনও। কী কারণে এমন হয়? হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, বিতর্ক আমার পিছু ছাড়ছে না। ভালো কাজ করেছি বলে অনেকের সহ্য হচ্ছে না। পেছন থেকে কেউ কেউ টেনে ধরতে চাইছেন। একটু খেয়াল করে দেখবেন, বিতর্ক কিন্তু একসময় বন্ধ হয়ে যায়। সবকিছু মিথ্যা প্রমাণ হয়। আলোচনা থাকলে সমালোচনাও থাকবে। তাই এটি মেনে নিয়েছি, বললেন তৌসিফ।

মন্তব্য করুন