২০০৯ সালে কন্নড় ভাষায় নির্মিত 'গিল্লি' ছবির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল রাকুল প্রীত সিংয়ের অভিনয়ের পথচলা। যদিও এরপর আর কন্নড় নয়, একের পর এক তেলেগু ও তামিল ছবিতেই অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে 'ইয়ারিয়া'র মাধ্যমে বলিউড ছবিতে তার অভিষেক। তারপরও তেলেগু ছবিতে অভিনয় ছাড়েননি। হিন্দির পাশাপাশি নিয়মিত কাজ করছেন দক্ষিণ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার ছবিতে। এসব কথা নতুন করে না বললেও চলে, কারণ রাকুলের ক্যারিয়ার বিষয়ে কম-বেশি সব খবরই ভক্ত-দর্শকের জানা। তবে সবার কাছে যেটা অবাক করা বিষয়, সেটা হলো রাকুলের দক্ষিণ ভারতীয় ছবির প্রতি দুবর্লতা। তার জন্ম নয়াদিল্লিতে। পড়াশোনাও সেখানে; কিন্তু অভিনয় ক্যারিয়ারের জন্য দক্ষিণ ভারতীয় ছবিকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পাঞ্জাবি পরিবারে বেড়ে ওঠা রাকুলকে পাঞ্জাবি ভাষার ছবিতেও চোখে পড়েনি। এর কী কারণ, সেটাও আজ পর্যন্ত খোলাসা করেননি এই অভিনেত্রী। নিজের অতীত পেছনে রেখে দক্ষিণী ছবির অভিনেত্রীর পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন সবসময়। বলিউড ছবির মাধ্যমে দর্শক মনোযোগ কাড়লেও ঘুরেফিরে তেলেগু ও তামিল ছবিতেই নিয়মিত অভিনয় করে গেছেন। বরাবরই দেখা গেছে, যখন কেউ বলিউডে প্রতিষ্ঠা পান, তখন হিন্দির বাইরে আঞ্চলিক ভাষার ছবিতে খুব একটা কাজ করতে চান না। হয়তো পরিচিত কিংবা ঘনিষ্ঠ কোনো নির্মাতা বা চলচ্চিত্রকর্মীর অনুরোধে মাঝে মাঝে আঞ্চলিক ছবিতে কাজ করেন। কিন্তু এদিক থেকে রাকুল অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। তিনি বলিউড এবং দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে সমান্তরালভাবেই অভিনয় করে যাচ্ছেন। যার দরুন অনেকে তাকে দক্ষিণী ছবির কন্যা হিসেবেই জানেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাকুল প্রীত সিংয়ের একাধিক বলিউড ছবি আলোচনায় এলেও দক্ষিণ ভারতীয় ছবিকেই তিনি প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও রাকুলকে নিয়ে বলিউড ছবির দর্শকের আগ্রহে কমতি দেখা যায়নি। তাই তো সদ্য মুক্তি পাওয়া তার নতুন ছবি 'সর্দার কি গ্র্যান্ডসন' নিয়েও আলোচনার কমতি নেই। কাসভি নায়ার পরিচালিত এ ছবিতে রাকুলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন অর্জুন কাপুর। মজার বিষয় হলো, এ ছবিতে অর্জুনের দাদা-দাদির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন আব্রাহাম ও অদিতি রায় হায়দারি। যদিও অতিথি চরিত্র তাদের, তারপরও অনেকের কাছে বিষয়টি বেশ মজার মনে হয়েছে। কারণ বলিউডের আলোচিত দুই অভিনেতা-অভিনেত্রী জন আব্রাহাম ও অদিতি রায় হায়দারিকে বৃদ্ধার চরিত্রে এখনকার কোনো ছবিতে দেখা যাবে- এটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। রাকুল, অর্জুন, জন ও অদিতি ছাড়াও 'সর্দার কি গ্র্যান্ডসন' ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিনা গুপ্তা, কানওয়াজিৎ সিং, সনি রাজদান, কুমুদ মিশ্র, রঞ্জিত সিং, দিব্যা শেঠ প্রমুখ। এ ছবি নিয়ে বেশ আশাবাদী রাকুল প্রীত সিং। তার কথায়, দর্শক বিনোদনের নানা উপকরণ আছে এ ছবিতে। দর্শক আনন্দ নিয়েই ছবিটি দেখবেন- এটাই তার বিশ্বাস। যদিও করোনায় ভারতজুড়ে যে বিপর্যস্ত অবস্থা, তাতে দর্শক সিনেমা দেখার কতটুকু সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। এর পরও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা যায়নি, বরং দুঃসময়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সিনেমা খানিকটা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। রাকুলের এই আত্মবিশ্বাসী কথার পেছনে বড় কারণ 'সর্দার কি গ্র্যান্ডসন' ছবির কাহিনি। তার কথায়, গল্পই এ ছবির প্রাণ। পাশাপাশি শিল্পীদের অভিনয় কাহিনিকে বাস্তব করে তুলেছে। এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক কাহিনি নিয়ে রাকুলের আত্মবিশ্বাসী বয়ান- কী আছে সেই গল্পে। রাকুল প্রীত সিং কন্নড় ছবি 'গিল্লি' থেকে শুরু করে তেলেগু ও তালিমা 'কেরাটাম', 'থাডাইয়ারা থাক্কা', 'ভেনকাটাদ্রি এক্সপ্রেস', 'লৌক্যাম', 'নান্নাকু প্রেমাথো', 'কারেন্ট থিগা', 'ধ্রুব'সহ বলিউড ছবি 'দে দে পেয়ার দে', 'মারজাওয়া', 'সিমলা মির্চি'তে অভিনয় করে দর্শক মনোযোগ কেড়েছেন। নানা চরিত্রে দর্শক তাকে দেখেছেন এবং প্রশংসা করেছেন অভিনয়ের। তারপরও ভিন্ন সব চরিত্রের প্রতি রাকুলের আকর্ষণ একবিন্দু কমেনি। যে জন্য আরও একবার নতুন ধাঁচের কমেডি গল্পের ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। 'সর্দার কি গ্র্যান্ডসন' নামের তার এই হাসির ছবিটি নতুন করে দর্শকের সামনে তাকে পরিচয় করিয়ে দেবে- এমনটাই মনে করেন রাকুল। তিনি বলেন, 'দর্শক যখন অভিনীত চরিত্র দেখে পাত্র-পাত্রীর প্রকৃত পরিচয় ভুলে যান, তখনই শিল্পী ও শিল্পীর কাজ সার্থক হয়ে ওঠে। এ কথা সত্যি বলে মানি। এ জন্যই ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চেষ্টা করে গেছি এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে, যা আমাকে দর্শকের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরবে।' দক্ষিণী কন্যা বলে পরিচিতি পাওয়া নিয়ে রাকুল বলেন, 'বলিউড ছবিতে ক্যারিয়ার গড়া চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমি সেই সুযোগ পেয়েছি দক্ষিণ ভারতীয় ছবির কল্যাণে। এ জন্য দক্ষিণী ছবির প্রতি এত দুর্বলতা। সবকিছুর পর এটাই সত্যি যে, টিকে থাকতে হলে ভালো কাজের বিকল্প নেই।'

মন্তব্য করুন