মাত্র একটি সংলাপ নিয়ে এত আলোচনা হতে পারে, তা নির্মাতা থেকে শুরু করে শিল্পীদের কেউ-ই হয়তো অনুমান করতে পারেননি। বাস্তবে সেটাই হয়েছে, 'দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা' ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর। যেখানে অভিনেত্রী নাজিফা তুষির মুখে শোনা গেছে এই সংলাপ- 'এটা তো ট্রেলার, সিনেমা তো এখনও বাকি আছে।' শুধু সংলাপ নয়, ট্রেলারে তুষির অবয়বেও ছিল ভিন্নতার ছাপ। যা দেখে বোঝা যায়, ভিন্ন ধরনের এই চরিত্রের জন্য তুষি একরকম চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করেছেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন সে কথা। বলেছেন, "অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে সব সময় নতুনভাবে তুলে ধরতে চাই। এ জন্য চাই সেই কাজগুলো করতে, যেখানে নিজেকে ভিন্নরূপে তুলে ধরা যাবে। অদেখা চরিত্রগুলোয় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। এটা ঠিক যে, 'দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা' ওয়েব সিরিজের অভিনয়ের প্রস্তুতিতে যতটা সময় নেওয়া প্রয়োজন ছিল, ততটা নিতে পারিনি। তারপরও নির্মাতা রায়হান রাফির সহযোগিতায় যতটা পেরেছি, চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়ে তা বাস্তব করে তোলার চেষ্টা করেছি। এখন কতটা পেরেছি, সেটা দর্শকের মুখে শোনার অপেক্ষা।" নাজিফা তুষির এ কথায় বোঝা যায়, কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের চরিত্রের সঙ্গে মিশে থাকাই তার লক্ষ্য। হয়তো সে কারণেই প্রতিটি কাজে দর্শক তুষিকে নতুনভাবে আবিস্কার করতে পেরেছেন।

এখন যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাই, ২০১৪ সালে 'লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার' প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন নাজিফা তুষি। এর দুই বছরের মাথায় তার অভিষেক হয় চলচ্চিত্রে। রেদওয়ান রনি পরিচালিত 'আইসক্রিম' ছবিতে অভিনয় করে অনেকের প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন তুষি। এরপর ক্লোজআপের 'কাছে আসার গল্প' সিরিজের নাটক 'অথবা প্রেমের গল্প' এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেও দর্শক মনোযোগ কেড়েছিলেন। তারপরও সমসাময়িক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তুলনায় তাকে পর্দায় কমই দেখা গেছে। এর কারণ জানতে চাইলে তুষি বলেন, 'আমি সব সময় কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দিয়েছি। চাইলে গত কয়েক বছরে অনেক কাজ করা যেত, কিন্তু আমি স্রোতের জোয়ারে গা ভাসাতে চাইনি। অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সেই কাজগুলো বেছে নিয়েছি, যা দর্শকের মনে ছাপ ফেলতে পারে বলে মনে হয়েছে। এ কথা সত্যি যে, আমরা যারা তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রী, তাদের জন্য বাছাই করে কাজ করার সুযোগ খুব একটা থাকে না।

যেজন্য আমার কাজ অন্যদের তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু এ নিয়ে আমি হতাশ নই। আমি বিশ্বাস করি, সংখ্যায় কম হলেও ভালো কাজের মধ্য দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।' কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কাজের সংখ্যা একটু বেড়েছে, এতে কি প্রমাণ হয় এখন ভালো কাজের সংখ্যাও বেড়েছে? উত্তরে তুষি বলেন, 'অনলাইন আমাদের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের গল্প নিয়ে ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। একসময় যখন সবকিছু টিভিনির্ভর ছিল, তখন এই সুযোগ ছিল না। তাই কাজের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভালো কাজের সংখ্যা। যেজন্য আমার ব্যস্ততা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তাই অদেখা আর চ্যালেঞ্জিং সব চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই মুখিয়ে আছি, যেখানে দর্শক নতুন এক তুষির দেখা পাবেন।'

মন্তব্য করুন