প্রস্তাব লোভনীয় ছিল। কারণ বলিউড ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ সবার হয় না। তাও বিশাল ভরদ্বাজের মতো বড় মানের নির্মাতার সঙ্গে যদি কাজের সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু বিদ্যা সিনহা মিম সে সুযোগ পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, খটকা লেগেছে ছবির গল্প নিয়ে। যেখানে নিজ দেশকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে কি কাজ করা যায়? এই প্রশ্ন মনে কাঁটা দিয়েছে বলেই মিম নিদ্র্বিধায় ফিরিয়ে দিয়েছেন বলিউড ছবির প্রস্তাব। এই হলেন মিম, যার কাছে নিজ দেশের প্রতি আছে অগাধ ভালোবাসা। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজেকে পরিণত শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করতে পারলে বড় সুযোগের অভাব হবে না। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এ তারকার কাছে কাজই মুখ্য। তাই যে কাজই করেন, তা নিয়ে কিছুটা বাছ-বিচার তার করা চাই। এতে অবশ্য লাভ ছাড়া ক্ষতি হয়নি তার ক্যারিয়ারের। দর্শক-হৃদয় জয় করতেও তার চিন্তাধারা অনেকটা কাজে লেগেছে। যে জন্য তার নতুন ছবিগুলো নিয়ে দর্শক আশাবাদী হতেই পারেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত 'দামাল', নিখাদ ভালোবাসার গল্পের 'পরাণ' ছবিতে নতুন এক মিমের দেখা পাওয়া যাবে- এটুকু প্রত্যাশা করা যায় বৈকি। এর মধ্যে 'অন্তর্জাল' নামের নতুন আরেকটি ছবির কাজ শুরু করেছেন তিনি। মিম জানালেন, শিগগিরই এ ছবির শুটিং শুরু হবে। একই সঙ্গে 'ইত্তেফাক' নামে যে ছবিটির কাজ অসম্পূর্ণ, সেটাও শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। সিনেমার কাজের বাইরেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান 'লেটস গো মার্ট'-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে তার ব্যস্ততা তো সব সময়ই।

স্রোতের জোয়ারে গা ভাসাতে সব সময় নারাজ ছিলেন মিম। চেষ্টা করেন প্রতিবার নিজেকে ভেঙে পর্দায় নতুন রূপে তুলে ধরতে। তিনি বলেন, ''শিল্পীরা কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন- এ উপলব্ধি থেকেই চাইছি এমন কিছু কাজ করতে, যা আমাকে অনেক দিন দর্শকের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। যে জন্য একই ধরনের চরিত্রে বারবার কাজ করতে চাই না। তবে চরিত্র যদি একই রকম হয়, গল্প ভিন্নরকম কিনা তা যাচাই করে দেখি। এখন যে কাজগুলো করছি তার সব চরিত্রই একেবারে নতুন, এটা বলা যাবে না। যেমন 'পরাণ' ছবিতে কলেজছাত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। এমন চরিত্র আমার জন্য নতুন নয়। কিন্তু এর গল্প ভালো বলেই চরিত্রে গভীরতা এসেছে, যা আগের ছবিগুলো থেকে নতুনভাবে পরিচালক পর্দায় তুলে ধরেছেন আমাকে। আবার 'অন্তর্জাল' ছবিতে দর্শক আমাকে দেখবেন একজন আইটি বিশেষজ্ঞের চরিত্রে। এ ধরনের চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করিনি। গল্পেও ভিন্নতা আছে। আসলে সিনেমার বাঁকবদলের জন্য যে ধরনের গল্প প্রয়োজন, তেমনই গল্প নিয়ে ছবিটি তৈরি হচ্ছে। আর 'দামাল' ছবির গল্প কী নিয়ে, তা এতদিনে সবার জানা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি ফুটবল দল নিয়ে ছবির গল্প। একই সঙ্গে এটি মুক্তিযুদ্ধ ও খেলা নিয়ে নির্মিত একটি ছবি। এর আগে এ ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা হয়েছে বলে মনে হয় না।''

মিমের এ কথা থেকে বোঝা গেল, অভিনয় বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের চেয়ে কতটা আলাদা। শুধু নাটক, টেলিছবি বা সিনেমা নয়, ওয়েব সিরিজ এবং ওয়েব ছবিতেও দর্শক মিমকে নতুন রূপে আবিস্কার করেছেন। 'নট হার ফল্ট' ও 'হোয়াট দ্য ফ্রাই' ছিল তার অনলাইন দুনিয়ার প্রশংসিত কাজ। এর বাইরে মডেল হিসেবে তাকে মানসম্পন্ন কাজ করতে দেখা গেছে সবসময়। এখন কথা হলো অভিনয় ও মডেলিংয়ের বাইরে আমরা যে মিমকে উপস্থাপক ও প্রযোজক হিসেবে দেখেছি, তার চিন্তাভাবনা কী, কেমন। এর উত্তরে মিম হেসে বলেন, ''আমি নিজেকে প্রযোজক ও উপস্থাপক কোনোটাই ভাবি না। করোনার ঘরবন্দি সময়ে নিজের ও দর্শকের জন্য কিছু করা যায় কিনা, সেই ভাবনা থেকেই 'কানেকশন' নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি প্রযোজনা করা। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে জন্য নতুন কিছু করার প্রয়াসে 'মিম'স কাস্টডি' অনুষ্ঠানটি নির্মাণ ও উপস্থাপনা। যেখানে আমি আমার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে গল্প করেছি। তাই যারা নিয়মিত উপস্থাপনা করেন, তাদের সঙ্গে আমাকে মেলানো ঠিক হবে না।''

মিমের এ কথা থেকে বোঝা গেল, নিজের কাজের বিষয়ে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি আছে তার। অহমের জন্য কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা তার নীতিতে নেই। হয়তো সে কারণেই গত কয়েক বছরে মিমের ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে, যা দেখে জানতে ইচ্ছা করল, শুধু কি কাজেই ডুবে থাকতে চান, নাকি নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করার ইচ্ছা আছে? মিম বলেন, 'কাজ নিয়ে যেমন ডুবে থাকতে চাই, তেমনি নিজের জন্য কিছুটা সময় চাই। এ জন্য দুর্গাপূজায় ছুটে যাব গ্রামের বাড়ি রাজশাহী। শিশির ভেজা শরতে মেতে উঠব জীবনের উল্লাসে।'

মন্তব্য করুন