যেখানে দেখিবে ছাই!

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ওহাব ওহী

গ্রামীণ জীবনের অনেক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের জিনিসপত্রও শহর জীবনে অনেক মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়। এই যেমন- ছাই! পাতালতা, লাকড়িতে রান্না করা ছাইয়ে চুলা ভর্তি হলে একসময় এই উচ্ছিষ্টের আশ্রয় হতো বাঁশঝাড় কিংবা উঠোনের ওই শেষ প্রান্তে। কিন্তু গ্রামগঞ্জের রান্নাবান্নাও এখন সিলিন্ডার গ্যাসনির্ভর হয়ে যাওয়ায় এই মাগনা মাগনা ছাইও যেন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। সে যাই হোক, গ্রাম কিংবা শহর যে কোনো জায়গাতেই অত্র বাংলার বিখ্যাত কৈ, শিং কিংবা মাগুর মাছ কাটতে গেলে কিন্তু ছাই লাগবেই লাগবে! ছাই ছাড়া তাদের টিকিটিও ধরা যাবে না! এ ছাড়া ছাই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ হালকা পদার্থ, যা এক সময় প্রতিদিন গ্রামীণ সকালের বাসন-কোসন, হাঁড়ি-পাতিল মাজতে আবশ্যিক ছিল। আফসোস! সেই জায়গা আজ দখল করে ফেলেছে ভিম লিকুইড কিংবা ভিমবার। তাই বউ-ঝিদেরও আনন্দের শেষ নেই; শুধু আরাম আর আরাম! এ ছাড়া ছাই ফসলি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিসহ কিছু সবজি পাতার উপরি অংশে মাত্রাসম প্রয়োগ করলে এক ধরনের ফাঙ্গাল রোগ থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়। এ ছাড়া মা-চাচিদের মুখে গল্প শুনি, এককালে তারা নাকি শুকনো শিমুল ফুলের পোড়ানো ক্ষারক ছাই দিয়ে তাদের ময়লা মাথা পরিস্কার করতেন! আহা, কী মূল্যবান ছিল সেই ছাই! যাক, এখন তবে আসল কথায় আসি! সে অনেক আগের কথা। মেঝ আপার বিয়ে হলো শহরে। ছোট ভাই হিসেবে গ্রামগঞ্জের শাক-সবজিসহ সিজনাল ফলফলাদি আমাকেই বহন করে নিয়ে যেতে হয় বারো মাস। একদিন খবর এলো, ছাই লাগবে। ছাইয়ের অভাবে আপা দুলাভাইয়ের প্রিয় কই-শিং মাছ কাটতে পারছেন না। মা পরের দিনই তড়িঘড়ি করে কেজি পাঁচেক ছাই ছেঁকে সুন্দর একটি পলিথিনে মুড়িয়ে, তার ওপর পেপার স্কচটেপ লাগিয়ে আরও একটি সুন্দর কাপড়ের ব্যাগে ভরে দিলেন। এমনভাবে ভরলেন যেন বোঝা না যায় এর ভেতর ছাই আছে! ওদিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নামতেই আমাকে প্রচণ্ড প্রকৃতির ডাকে (ছোটটা) চাপ দিয়ে বসল! উপায়ান্তর না দেখে আমি দ্রুত একটি সরু চিপা গলির ভেতর ঢুকে পড়ি। রোজিনা কাউন্টারের সামনে ব্যাগটি রেখেই মূত্রজনিত তরল বর্জ্য নির্গত করতে উদ্যত হই। আহা! কী শান্তি! হুদাই কি মুরুব্বিরা কয়া গেছে- রক্ষিতে নয়; ত্যাগেই প্রকৃত সুখ!

কিন্তু একি! আমার ব্যাগ কই? এদিক-ওদিক তাকিয়েও তো কোথাও ব্যাগ দেখছি না! কাউন্টারের ভেতর জিজ্ঞাসা করতেই শেষে জানা গেল, তাদের নিষিদ্ধ জায়গায় প্রস্রাব করার অপরাধে আমাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং তা মাত্র ১০০ টাকা! অনাদায়ে এই মালামালকৃত(!) ব্যাগটি এখানে রেখেই চলে যেতে হবে। এদিকে আমার যেহেতু পকেটে মাত্র ৫০ টাকা আছে এবং এই উগ্র সংঘবদ্ধ চক্রকে তাদের চাহিদামাফিক টাকা না দিলেই নয়, তাই বাধ্য হয়েই আমি আমার ব্যাগটি ওই উগ্রপন্থিদের সম্প্রদান কারকে দান করে সহাস্যে স্থান ত্যাগ করলাম। পরে গলির রাস্তা অতিক্রম করতে করতে হাইস্কুলে পড়া সেই ভাবসম্প্রসারণের খণ্ডাংশটুকুর ঈষৎ পরিবর্তন করে উচ্চস্বরে প্যারোডি গাইতে গাইতে আমি সামনের দিকে এগিয়ে চললাম- 'যেখানে দেখিবে ছাই; উড়াইয়া দেখো তাই! পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন!'

হ সাভার, ঢাকা।

পরবর্তী খবর পড়ুন : কেউ কথা রাখেনি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১৫টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একজনকে ...

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবাকারবারিরা এখন কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে এক ধরনের ...

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি ...

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

কামারপাড়া। ভেবেছিলাম পাড়ায় ঢুকতেই হাঁপর আর লোহা পেটানোর শব্দ শোনা ...

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

'দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ'- এ প্রবাদটিকে ...

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

গঠনতন্ত্রের 'সামান্য বাধা'য় দেয়াল উঠেছে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ...

ক্রমেই বড় হচ্ছে একুশে বইমেলা

ক্রমেই বড় হচ্ছে একুশে বইমেলা

ক্রমে বিকশিত হচ্ছে প্রকাশনা শিল্প। সেইসঙ্গে প্রকাশকের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিবছর। ...

এক কেজি চালের দামে এক মণ ফুলকপি

এক কেজি চালের দামে এক মণ ফুলকপি

বগুড়ায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। ...