প্যাচআল

প্যাচআল

নতুন অফিসে ইকলু ভাই

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯

নীরব চন্দন

ইকলু ভাই নতুন চাকরি পেয়েছেন। অফিসে আজ তার দ্বিতীয় দিন। সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে তার ডেস্কে বসে আছেন। ঠিক ওই সময় অফিসের পিয়ন এসে ইকলু ভাইকে বলল, 'বড় স্যার আপনাকে সালাম দিয়েছেন।' ইকলু ভাই কিছু না বলে চুপ করে বসে রইলেন। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পর পিয়ন এসে আবার বলল, 'আপনাকে বড় স্যার জরুরি ডেকেছেন।' ইকলু ভাই এই কথা শোনার পর অতি দ্রুত বড় স্যারের রুমে গেলেন।

ইকলু ভাই : ভেতরে আসতে পারি স্যার?

বড় স্যার : হ্যাঁ, আসো। ভেতরে আসার জন্যই তো ডেকেছি। আগে বলো, এতক্ষণ কী করছিলে? তোমাকে তো অনেক আগেই সালাম দেওয়া হয়েছে। পিয়ন গিয়ে বলেনি, যে আমি তোমাকে সালাম জানিয়েছি?

ইকলু ভাই : জি স্যার, বলেছে।

বড় স্যার : তাহলে এত দেরি হলো কেন?

ইকলু ভাই : স্যার, আমি তো এক মুহূর্ত দেরি করিনি।

বড় স্যার : কী বলতে চাও তুমি!

ইকলু ভাই : স্যার, আমি বলতে চাই, আপনি সালাম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সালামের উত্তর দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে আমি ওয়ালাইকুম আসসালাম বলেছি।

বড় স্যার : (বিরক্ত হয়ে) বুঝেছি। শোনো, একটা পত্র লিখতে হবে। তুমি কি জানো, কীভাবে পত্র লিখতে হয়?

ইকলু ভাই: জি স্যার, জানি।

বড় স্যার : গুড। তাহলে একটি পত্র লিখে নিয়ে আস। এই নাও ফাইল।

ইকলু ভাই ফাইল নিয়ে চলে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পর ইকলু ভাই বড় স্যারের রুমে প্রবেশ করে বললেন, 'স্যার, আমি পত্রটি লিখেছি।'

বড় স্যার : বেশ, বেশ। দেখি পত্রটি।

ইকলু ভাই স্যারের হাতে পত্রটি দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। স্যার পত্রটি পড়ে চিৎকার দিয়ে উঠে বললেন, এটা পত্র?

ইকলু ভাই : জি স্যার, এটা তো পত্রই। আমি তো জীবনে এমন পত্র অনেক লিখেছি। সকলেই আমার প্রশংসা করেছেন।

বড় স্যার : তা তুমি পত্রগুলো কাকে লিখেছিলে?

ইকলু ভাই : (লজ্জা মুখে) স্যার, ইয়ে মানে, তারা সবাই আমার প্রাক্তন প্রেমিকা।

বড় স্যার : (চরম বিরক্ত হয়ে) বুঝেছি। এখন তুমি রুম থেকে বের হয়ে যাও এবং তুমি তোমার প্রাক্তনদের পত্র পাঠাও।

ইকলু ভাই রুম থেকে বের হতে হতে ভাবলেন, বড় স্যার কত রোমান্টিক, প্রাক্তনদের পত্র লেখার পরামর্শ দিলেন।



বিনীত নিবেদক