প্যাচআল

প্যাচআল

হবু সুপুত্র

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯

তাহসিন আহমেদ

দুধওয়ালা যুবকটি বলল, 'ভাই কোনো দামাদামি নাই। এক দাম ৬০ টাকা। দুধ খাওয়ার পর তারপর যদি খারাপ হয় তাইলে টাকা ফেরত নিয়া যাবেন।'

আমি বললাম, 'যদি আমি নিজেই দুধের ভেতর নদীর পানি মিশিয়ে আপনার থেকে টাকা ফেরত নিতে আসি তখন কী করবেন?'



দুধওয়ালা কিছুটা থমকে গেল। চোখ বড় বড় করে বলল, 'আপনে কি দুধ কিনতে আইছেন?'

আমি এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বললাম, 'আপনার ফেসবুক আইডির নাম বলেন। আপনাকে আমি ভাইরাল করে দেব। আপনি দুধের মধ্যে চাল ধোয়া পানি মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করতেছেন।'



অনেকক্ষণ ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আরেক দুধওয়ালা ঘটনাপ্রবাহে কান খাড়া করে যুক্ত ছিলেন। তিনি এগিয়ে এসে বললেন, 'দুধে যে চাল ধোয়া পানি দিছে- তার প্রমাণ কী?'

এবার তিনিও বললেন, 'সহমত, প্রমাণ কী?'



আমি পকেট থেকে আমার নোকিয়া ফোন বের করে অ্যালার্ম সেট করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম, 'আপনার গরুর গায়ের রঙ কী?'

তিনি থতমত খেয়ে বললেন, 'সাদা-কালা রঙের গাই। অস্ট্রেলিয়ান গরু।'

'ও আচ্ছা। লেজ কতটুকু? দুই হাত হবে নাকি আরেকটু ছোট?'

'ছোটই হবে মনে হয়।'



আমি আমার নোকিয়া ফোনটা দুধের বালতির মধ্যে অর্ধেক ডুবিয়ে ফেললাম। যুবক দুধওয়ালা অসহায়ের ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর অ্যালার্ম চালু হলো। ভাইব্রেশন আর ক্যা... চু ক্যা...চু শব্দ। আমি চিৎকার করে বললাম, 'ওহ নো, চাল ধোয়া পানি না। টিউবওয়েলের পানি মিশাইছেন।'



দুধওয়ালা পেছন দিকে ফিরে দৌড় দিল। পাশে দাঁড়ানো তিনিও আগেই বালতি নিয়ে পগারপার। আমি ফোনটা বালতির মধ্যে চুবায়া বসে রইলাম। সাত-আটজন দুধওয়ালা সবাই চলে গেল। এক মুরব্বি তখনও বসে আছেন টিনের জগটা সঙ্গে করে। আমি উঠে মুরব্বির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'চাচা কেজি কত?'

তিনি বললেন, 'ষাইট টাকা বাবা।'

'চার কেজি দেন, এই নেন বোতল।'



দুধ নিয়ে বাসায় আসার সময় দেখি পাশের বাসার মোতাহার আঙ্কেল আয়েশ করে বাজারের ব্যাগ ঝোলাতে ঝোলাতে আসছেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। তিনি গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়ে বললেন, 'কী খবর তুহি? সকাল সকাল বাজারে? দুধ কিনলে নাকি?'

'জি আঙ্কেল, গতকাল রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে, এ জন্য সকাল সকাল দুধ কিনতে চলে আসলাম।'

'বৃষ্টি আর দুধের মধ্যে রিলেশনটা কী?'

'বৃষ্টি বেশি, খরিদ্দার কম, দুধের দামও কম।'

'কী বলো? তাই নাকি? কত টাকা করে কিনলে?'

'২৫ টাকা চাইছিল। বেশি কিনলাম তাই ২০ টাকা করে রাখল।'

মোতাহার আঙ্কেল জোরে হাঁটতে শুরু করলেন। আমি আরেকটু সামনে এসে পেছনে তাকাতেই দেখি তিনি দৌড় শুরু করেছেন।



মোতাহার আঙ্কেলকে আঙ্কেল বলা ঠিক না। কঠিন সমীকরণ হিসাব করলে তিনি আমার হবু শ্বশুর। আমি তার জ্যেষ্ঠ কন্যা নুরুন্নাহার সুলতানা চৈতীর সঙ্গে প্রেম করি। এই সম্পর্ক প্রেম থেকে বিয়েতে গড়াবে কি-না সেটা নিশ্চিত না, তবে আপাতত শ্বশুর হিসেবে মেনে নিতে দোষ নেই। হবু শ্বশুরের স্বাস্থ্যের প্রতিও আমার যত্ন নিতে হবে। এ জন্যই মূলত তাকে দৌড় দেওয়ালাম। আমি আবার হবু সুপাত্র কি-না!



হ উত্তরা, ঢাকা