প্যাচআল

প্যাচআল

যদি লাইগা যায়

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯

রুহুল আমিন রাকিব

সেদিন দেখলাম অফিসের ক'জন কলিগ মিলে চাঁদা তুলছে সবার কাছ থেকে। খুশিমনে যে যত টাকা দিচ্ছে তাই নিচ্ছে। বিষয়টা কী, জানার জন্য ওদের কাছে গেলাম। একজনকে ডাক দিয়ে বললাম, কী কাজের জন্য চাঁদা ওঠানো হচ্ছে? উত্তর শুনে আমি তো বোকা বনে গেলাম। আমাদের সেকশনের সব থেকে সিনিয়র যে ভাইয়া ওনার নাম মফিজ। কে যে এই নাম রাখছে বড় ভাইয়ার! ওনার দেখা পাইলে বগুড়ার ঝাল লাল মরিচের টাটকা একগল্গাস শরবত খাওয়াতাম। নামেও যেমন মফিজ, কাম কাজ আর কথাবার্তায়ও সেইরকম মফিজ। মাথার চুল উঠে যেন শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম হয়ে গেছে।

মফিজ ভাইয়ের তবু বিয়ে করার কোনো নাম নেই।

দু-এক মাস পরপর, কনে দেখার নাম করে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি গেলেও আজ অবধি মফিজ ভাইয়ের ঠাডাপড়া কপালে একটা মেয়েও জুটল না।

রোজ অফিসজুড়ে মফিজ ভাইকে নিয়ে নানারকম কথা বলে নানান জনে। কেউ কেউ তো মুখের ওপর তিন নম্বর বলতেও দ্বিধা করে না। সে যাই হোক, আমাদের সামনে মফিজ ভাইকে সবাই আজেবাজে কথা বলবে, এইডা কি সহ্য করা যায়?

তাই অফিসের কলিগ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে- সবার কাছ থেকে কিছু টাকা চাঁদা তুলে এক খতম মিলাদ পড়াবে মফিজ ভাইয়ের নামে।

কারণ, মফিজ ভাইয়ের এই ব্যাচেলর লাইফ দেখতে দেখতে সবার জীবন অতিষ্ঠ।

দু-একজন তো এরই মধ্যে অফিস থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছে! কারণ, মফিজ ভাই নাকি আটকুড়া, ওনার মুখ দেখে বাসায় ফিরলে নাকি সেদিন রাতে কপালে বউয়ের হাতের রান্না করা ভাত জোটে না। এমনকি রাতে ঝগড়া করার একপর্যায়ে বউ নাকি স্বামীকে বাইরে রেখে দরজা দিয়ে ঘুমায়ে পড়ে। এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে মফিজ ভাইয়ের নামে এক খতম মিলাদ পড়াবে। বাকি টাকা দিয়ে মফিজ ভাইয়ের নতুন সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেবে।

আমার কলিগদের এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে আমি বেশ খুশি হলাম। ইচ্ছা করছিল একখান লুঙ্গি ড্যান্স দিই! তয় দুই পা তুইলা নাচতে পারি না বলে তা আর হয়ে উঠল না।

এত খুশির কারণ হলো, আমারও এখন ব্যাচেলর লাইফ চলছে।

মফিজ ভাইয়ের পরে হয়তো আমার পালা!

ভাবা যায়! নতুন বউয়ের সঙ্গে আমিও হয়তো এমন করে নগদ নগদ কিছু টাকাও পাব, যদি কপালে লাইগা যায়।



হ দুর্গাপুর, কুড়িগ্রাম