প্যাচআল

প্যাচআল

মশক রাজার সিংহাসন পুনরুদ্ধার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯

সিরাজুল মোস্তফা

একবার মশক রাজার দেশে এক ভয়াবহ দ্বন্দ্ব বাধল। এতে পুরনো কানা-লেংড়া মশারা হয়ে গেল নতুন রাজা। আর পুরনো এলিট নাগরিক মশারা সব গেল যে যার মতো পালিয়ে। কে পায় কার খোঁজ! যখন মারদাঙ্গা শুরু হলো, সঙ্গে ধরপাকড়, তখন ছেলে, জামাই, শ্বশুর এসবের ধার ধারা নেই; যে যেদিকে পেরেছে ছুটেছে। কেউ কেউ দৌড়াতে দৌড়াতে আর পেছন ফিরে তাকায়নি। শত্রুদের তারা যে ইতিমধ্যে অনেকদূর ফেলে এসেছে, সে খেয়ালও ছিল না অনেকের। যখন দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে তারা থামল, দেখল পেছনে লেখা আজিমপুর, মগবাজার এসব অদ্ভুত নাম। একজন আরেকজনকে শুধায়, এটা রুয়ান্ডা না! আরে না, এটা উগান্ডা। সবার ওপর এক তরুণ ভালো করে টেরেটুরে একটা সাইনবোর্ড পড়ে বলে, ঘোড়ার আণ্ডা, এটা হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি। কেউ কেউ ছেলে বেয়াদব, বেশি বোঝে বললেও যুক্তিতে হার মানতে বাধ্য হলো- এটা ঢাকা শহর। তারপর সবার ভেতর শোরগোল শুরু হলো, কীভাবে এ দেশে বসবাস নিরাপদ করা যায়। সভা হলো একদিন সিটি করপোরেশনের সেমিনার হলে। এতে এক মশা বক্তৃতা করে-

প্রিয় এডিস ভাইয়েরা! আমরা তো বাপ-দাদার দেশের সেই সুখস্মৃতি গৌরবান্বিত সিংহাসন হারিয়েছি। এখন আমরা এক প্রকার যাযাবর। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নয় তো পৃথিবী থেকে একসময় আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। আমরাও ডাইনোসর বা সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো বিলুপ্ত হওয়া কিংবা এর কাছাকাছি পৌঁছে যাব। সবাই এক হওয়ার এই তো সময়। আমরা যদি এক হই, তবে এখানেও আমরা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবো। ঠিক কি-না ভাইয়েরা? সমস্বরে ঠিক ঠিক। পরিকল্পনামতো আমাদের কাজ করতে হবে। শত্রুদের আমরা নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে প্রতিহত করতে চেষ্টা করব। বড়দের নির্দেশ মেনে চলব। হঠাৎ একটা মশা চট করে কথার মাঝখানে বলে উঠল, বড়রা যদি গাধার মতো পরামর্শ দেয়! তখন তো মানা সম্ভব নয়। সভার ভেতর হট্টগোল বাধল। চেয়ার ছোড়াছুড়ি হলো। যেহেতু মশক রাজার দেশ আর ঢাকা অনেক দূরের পথ, তাই পালিয়ে এখানে যারা আসতে পেরেছিল তাদের বেশিরভাগই তরুণ। তাই সিদ্ধান্ত হলো বুড়োরা উপদেষ্টা হিসেবে থাকবে, কিন্তু মূল নেতৃত্ব তরুণদের হাতে থাকবে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তরুণ মশারা বসে পরিকল্পনা আঁটতে লাগল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিতে লাগল, তাদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ল তথ্য সংগ্রহে। সেখানে বেরিয়ে এলো নানা গোপনীয় তথ্য, মশক নিধনের ফাঁকফোকর। এখানকার রাজনীতিবিদরা মশার বিস্তার ঘটলে যতটা না মশা মারতে যাবে, ততটা গাল মারতে যাবে। রাস্তায় বালু উড়িয়ে ঝাড়ূ দিয়ে মশা নিবারণ কাজ করবে। আর সিটি করপোরেশনের ভেতর তো গণ্ডগোলের আধার। কিছুতেই সিটি করপোরেশনের কোনো নিরীহ লোকের ওপর অন্যায়ভাবে কামড় বসানো যাবে না। কেননা, তারা মশাবান্ধব। সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা মশা মারতে নিলেও বরং তারা মশা না মেরে মশার উন্নয়নে কাজ করে। তাই তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এবার কাজের পালা। কয়েক ভাগে কাজ শুরু করার কয়েক বছরের ভেতরেই পুরো বাংলাদেশ এডিস রাজার দখলে।