প্যাচআল

প্যাচআল

ইট পাটকেল

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯

রাফিদুল রাফি

টাকা-পয়সা, জামাকাপড় এমনকি জুতা ধার নিয়েও তা ফেরত না দেওয়ায় বিশেষ কুখ্যাতি আছে আবিরের। আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। একটা টি-শার্ট আর একটা হাতঘড়িও নিয়েছিল, ফেরত দেয়নি। এগুলোর আশা ছেড়ে দিয়েছি আগেই, তার থেকে এখন একশ' হাত দূরে থাকি। এর পরও কীভাবে যেন সে কৌশলে আমাকে এবং আমার মতো অনেককে হাত করে ফেলে। ধারের কথা বলে জিনিসপত্র নিয়ে সে লাপাত্তা হয়ে যায়।

টিউশনি শেষ করে একদিন বিকেলে রুমে এসে দেখি আবির আমার পাঞ্জাবি আর কালো প্যান্ট পরে বসে আছে। তার মানে, এই দুইটা চিরদিনের জন্য যাচ্ছে। এর পরও এগুলোকে বাঁচাতে একটা শেষ চেষ্টা করে দেখি।

আবিরকে বললাম,

'দোস্ত পাঞ্জাবিটা খুলে ফেল, ওটা আমার লাগবে। কালকে একটা বিয়ের দাওয়াত আছে।'

কথা শেষ করার আগেই আবির মায়াকান্নার ভঙ্গিতে বলতে শুরু করল-

'এইটা তুই কেমনে কইলি রে,

আইজকা এহন আমি একটা জানাজায় যামু রে....'

ওর ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হয়ে ফ্রেশ হতে ওয়াশ রুমে চলে গেলাম। ওয়াশ রুমে গিয়ে নাকেমুখে পানি দিতেই মনে পড়ল, আরে আমি তো আমার মানিব্যাগ টেবিলের ওপর ফেলে এসেছি। এটা তো আবিরের হাতে নিরাপদ নয়। ওয়াশ রুম থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম। এসে দেখি আবির নেই। জলদি মানিব্যাগ চেক করলাম। ব্যাস, মানিব্যাগে দুইশ' টাকা ছিল তাও উধাও। ঘণ্টাখানেক পর ফেসবুকে ঢুকে দেখি আবিরকে ট্যাগ করে এক মেয়ে একটা সেলফি আপলোড করেছে। রেস্টুরেন্টে খাবার নিয়ে বসে আছে তারা।

ক্যাপশনে লেখা 'টুগেদার ফরএভার'। এমন মিথ্যা বলল আবির আমার সঙ্গে! যে করেই হোক, তাকে একটা উচিত শিক্ষা দেব বলে ঠিক করলাম।

ক'দিন পরই আবিরের জন্মদিন।

উচিত শিক্ষা দেওয়ারও একটা মোক্ষম দিন।

আমিসহ আবিরের কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগী আরও চার বন্ধু পাওয়া গেল। তাদের নিয়ে প্ল্যান করতে হবে। ফেসবুকে একটা চ্যাট গ্রুপ খুলে আমরা ওটার নাম দিলাম

'ইট-পাটকেল'। ওই গ্রুপেই আমাদের প্ল্যান হলো।

জন্মদিনে আবিরকে সবাই মিলে রাত ১২টার পরই তার সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে, ওগুলোর সঙ্গে তেলময় ক্যাপশন যোগ করে ফেসবুকে উইশ করে দিলাম। সে তো মহা খুশি।

তারপর আমি তাকে ফোন দিয়ে বললাম-

'দোস্ত, কালকে একটু 'ইটালিয়া' রেস্টুরেন্টে আসিস। আমরা একটা কেক কাটব তোর জন্য। পিল্গজ, না করিস না। ট্রিট দিতে হবে না তোর। আমরাই তোকে খাওয়াব। হাজার হোক, আমাদের কত ভালো বন্ধু তুই!'

প্রথমে এমন একটা ভাব নিল যে, আমাদের জন্য সে টাইমই বের করতে পারছে না।

সে বলল-

'দোস্ত আমার তো কাল সারাদিন গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ঘুরতে হবে।

তোদের যে কখন সময় দিই।

আরেকদিন আসি?'

আমার চাপাচাপিতে সে সবশেষ রাজি হলো। তাকে বললাম বেলা ২টায় রেস্টুরেন্টে থাকতে।

আমরা পাঁচজন বারোটা বাজার পরপরই রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম।

প্রচুর খাবার অর্ডার করে পেট+মন ভরে খেয়েও নিলাম। ২টা বাজার পরপরই দেখি আবির এসে হাজির। তার গায়ে আমার সেই পাঞ্জাবি।

আমি তাকে বললাম-

'দোস্ত একটু বস, আমরা কেক, মোমবাতি, পার্টি স্প্রে, মিষ্টি এসব নিয়ে আসতেছি।'

সে 'ওকে' বলে ফোনে গেমস খেলায় মনোযোগী হয়ে পড়ল।

তারপর আবিরের দিকে ইঙ্গিত করে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে আস্তে করে বললাম যে, বিলটা ও দেবে।

আমরা সবাই বের হয়ে গেলাম।

যে যার মতো এদিক-ওদিক চলেও গেলাম।

সন্ধ্যায় ওই রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট হলো।

তাতে দেখা যাচ্ছে, আবির থালাবাসন মাজছে। ক্যাপশনে লেখা- 'দুষ্ট লোক, টাকা-পয়সা ছাড়া নিজে খেতে আসে, অন্যদেরও খাওয়ায়। তাই জনাবকে দিয়ে কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছি।'

আবির আমাদের দিকে ইট ছুড়েছিল। বাছাধন মোক্ষম একটা পাটকেলও খেয়ে গেল বটে!


 
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ