ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

হিউম্যানিটেরিয়ান রোবটিকস অ্যান্ড অটোমেশন টেকনোলজি চ্যালেঞ্জ ২০১৬

সেরাদের তালিকায় বুয়েট

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬

জাহিদ খান

জাকারিয়া হায়দার, ধীমান চৌধুরী ও মৃণ্ময় সরকার। তিনজনই পড়তেন নটর ডেম কলেজে, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। পরে তারা ভর্তি হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। বিভাগও একই, তড়িৎ প্রকৌশল। প্রথম বর্ষে পড়ার সময় দেখেছেন, সিনিয়ররা দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতেন। তারাও ঠিক করলেন, নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। ফলে দ্বিতীয় বর্ষের শেষদিকে এসে দাঁড়িয়ে গেল 'টিম দিশারি'। অ্যাপ তৈরি, রোবট বানানো শুরু হলো। বলছিলাম টিম দিশারির তিন বন্ধু জাকারিয়া হায়দার, ধীমান চৌধুরী ও মৃণ্ময় সরকারের কথা। ২০১৩ সালে প্রথম অংশ নিলেন 'ইন্টারন্যাশনাল রোবটিকস চ্যালেঞ্জে'র বাংলাদেশ রাউন্ডে। শুরুটা ভালো হলো না। ১৪টি দলের মধ্যে দিশারি ১৪তম! থেমে না গিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে লাগলেন। ২০১৫ সালে 'নাসা স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ ২০১৫' প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ রাউন্ডে দ্বিতীয় রানার্সআপ হলেন। সে বছর একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে 'ব্রেইল অ্যাম্বোসার' নামের কম দামের একটি ব্রেইল প্রিন্টারের মডেল বানালেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছেন একই বিভাগের রিফাত মুস্তাকিম ও মেহেদী হাসান। মৃণ্ময় বললেন, 'আমরা এমন একটি যন্ত্রের কথা ভেবেছি, যেটি প্রিন্টারের মতোই কম্পিউটার থেকে কোনো ফাইল (ডক/পিডিএফ) ইনপুট হিসেবে দিলে তা ব্রেইলে রূপান্তর করে দিতে পারবে।' দলনেতা জাকারিয়া বলেন, 'কম খরচে, দেশীয় সহজলভ্য উপকরণে তৈরি এই প্রিন্টারের বেশির ভাগ জিনিস পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী থেকে কেনা। কিছু জিনিস, যেমন- লিনিয়ার অ্যাকচুইয়েটার বুয়েটের মেশিনশপে আমাদের তৈরি।' ধীমান বলেন,
'লিনিয়ার অ্যাকচুইয়েটারের দাম ৪০ থেকে ৫০ ডলার। খরচ বাঁচাতে প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি অ্যাকচুইয়েটারই আমরা ডিজাইন করে তৈরি করেছি। আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা করে।' কম্পিউটারের সঙ্গে মূল যন্ত্রের সংযোগের জন্য সফটওয়্যারও তৈরি করেছেন মৃণ্ময়। ফলে তাদের মোট খরচ পড়েছে মাত্র আট হাজার টাকা। এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া বললেন, 'অথচ বাইরে থেকে ব্রেইল প্রিন্টার আনতে খরচ পড়বে কমপক্ষে এক লাখ ২০ হাজার টাকা।' এই উদ্ভাবনই গত বছর তাদের 'মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপে'র বাংলাদেশ রাউন্ডে প্রথম রানার্সআপ করেছিল। টিম দিশারির সর্বশেষ কীর্তি 'হিউম্যানিটেরিয়ান রোবটিকস অ্যান্ড অটোমেশন টেকনোলজি চ্যালেঞ্জ ২০১৬' নামের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়া। এই প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'আইইইই রোবটিকস অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি'। জাকারিয়া বলেন, 'স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতায় দলগুলোকে রোবটিকস প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয়, যে প্রোগ্রাম ব্যবহার করে রোবট মাইন বা বিস্ফোরক শনাক্ত করতে পারে। প্রাথমিক বাছাইসহ এটি তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।' তিনি এরপর জানালেন প্রতিযোগিতার বিস্তারিত- 'প্রথম ধাপে প্রজেক্ট পেপার জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। সেখানে রোবট অপারেটিং সিস্টেম [আরওএস] ব্যবহার করে মূল রোবটের মতো ভার্চুয়াল রোবট তৈরি করতে হয়। সেটি চালানোর জন্য প্রোগ্রামও বানাতে হয়। তিন মাস চলা এই রাউন্ড শেষে আটটি দল তৃতীয় রাউন্ডে ওঠে। একে 'ফিল্ড টেস্ট রাউন্ড' বলে। এই রাউন্ডে ভার্চুয়াল রোবট প্রোগ্রামগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করে দেখা হয়। সব শেষে চারটি দল ফাইনালে ওঠে।
এবারের ফাইনাল রাউন্ড হয়েছিল ১৬ থেকে ২১ মে, সুইডেনের স্টকহোমে। সেখানে সেকেন্ড রানার্সআপ হয়েছে টিম দিশারি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, প্রথম রানার্সআপ যুক্তরাষ্ট্র। ছিল রোবট নিয়ে কর্মশালা, প্রদর্শনী।