ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উপকূলের শান্তিনিকেতন

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

তরিকুল শাওন

নামে এক হলেও আজ আপনাদের অন্য এক শান্তিনিকেতনের গল্প শোনাব। এ আমাদের নোবিপ্রবির শান্তিনিকেতন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মূল ফটক পেরিয়ে হাতের বাম পাশে শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন ১ ও ২ এবং হাতের ডান পাশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, আকাশমণির হাট, অডিটোরিয়াম ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ রেখে মুক্তিযুদ্ধ চত্বর পেরিয়ে হতাশা মোড় হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ময়নাদ্বীপ সংলগ্ন কলঙ্কিনী রোডের ব্যাকলগ বনে অবস্থিত ছোট্ট একটি চায়ের টঙ দোকান। এই চা দোকানের নামই শান্তিনিকেতন। নামের পেছনে অবশ্য কারণ আছে একটা। অপেক্ষাকৃত কম গাছপালার ক্যাম্পাসে একটু ছায়ার খোঁজে এখানে ছুটে আসা মানুষকে দক্ষিণা সামুদ্রিক বাতাস স্বস্তি দেয় বলেই এ নামকরণ।

ভাবছেন, সামান্য একটা চায়ের দোকান; কী এমন এর বিশেষত্ব! আসলে বাইরের মানুষের কাছে এটি নিতান্তই একটা চায়ের দোকান। কিন্তু নোবিপ্রবিয়ানদের কাছে এ এক বিশেষ স্থান। কারণ এই চা দোকানকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে নোবিপ্রবিয়ানদের ক্যাম্পাস জীবনের নানান স্মৃতি।

এক পাশে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, সালাম হল, মালেক উকিল হল ও খাদিজা হল; অন্যপাশে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, একাডেমিক ভবন ১, ২ এবং বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা হল হওয়ায় ছেলেমেয়ে উভয়েই আসে আড্ডা দিতে; চা-সিগারেট পান করতে। আবার কেউ কেউ আসে সূর্যাস্ত দেখতে।

শুরুর দিকে শুধু একটি টঙ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখন জুটেছে আরও দু-চারটে। চা- ছাড়াও এখানে পাওয়া যায় শিঙাড়া-সমুচা, ছোলা-মুড়ি, ডাব ও খিচুড়ি।

বইপ্রেমী শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে শান্তিনিকেতনে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট একটি পাঠাগার 'আনন্দ নীড়'। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত। শর্ত একটাই- পড়া শেষে বই রেখে দিতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে। বইপ্রেমীদের আনাগোনা, দর্শনার্থীদের পদচারণা, ক্লাসের ফাঁকে গিটারের ঝংকার, ইনিংস বিরতি বা ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের তর্ক, অবসাদগ্রস্ত মন নিয়ে চার ঘণ্টার যুদ্ধ শেষে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসা ব্যাকলগারের আফসোস কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকার হাজারো স্বপ্নের নীর সাক্ষী নোবিপ্রবির এ শান্তিনিকেতন। ছায়াঘন নির্মল পরিবেশে, চমৎকার এক স্থানে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতন প্রায় প্রতিদিনই থাকে রাত ১০টা পর্যন্ত মুখর। মাঝেমধ্যে চাঁদনি রাতে এখানে বসে চাঁদের হাট। বিসিএস পরীক্ষার্থী আদু ভাই থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের সদ্য জুনিয়ররাও এসে হাজির সে হাটে। ভেদাভেদ ভুলে হেঁড়ে গলায় গান চলে। সিনিয়ররা এক কোনে বসে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে। া