ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

আহ্‌ ক্যাম্পাসে শীত

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০

তানভীর আহম্মেদ

আহ্‌ ক্যাম্পাসে শীত

শীতের আমেজে জমে ওঠে আড্ডা - ছবি :তানভীর

'শীত তুমি কি কাকডাকা ভোরে কুয়াশার খেলা, নাকি মিষ্টি নরম রোদের স্নিগ্ধ সকাল বেলা? শীত তুমি কি শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা, নাকি নকশিকাঁথার ক্যানভাসে মনের আনমনা?'

প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এই শীত যেমনই হোক তার সৌন্দর্য অতুলনীয়। মূলত শীতের প্রকৃত সৌন্দর্য গ্রামেই দেখা মেলে। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো ঢেকে যাওয়া অন্ধকারে ফেরিওয়ালার হেঁটে যাওয়া, কৃষকের ক্ষেতে কাজ করা, কাঠখড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহানো, টিনের চালায় কুয়াশা পড়ার টুং টাং ধ্বনি, গাছের পাতা কিংবা ঢাল হতে গড়িয়ে পড়া কুয়াশার টুপটাপ শব্দ কিংবা সূর্য্যি মামার মিষ্টি আলোর আভায় তৈরি হওয়া অপরূপ প্রকৃতি গ্রামীণ সমাজকে অসাধারণ সৌন্দর্যে সাজিয়ে তোলে প্রতিনিয়ত।

প্রকৃতির সবুজ গালিচায় শিশিরে শিশিরে জমা হওয়া মুক্তো দানা, কুয়াশায় ভেজা মেঠোপথে হেঁটে যাওয়া, খেজুরের রসের সঙ্গে পিঠাপুলি খাওয়া কিংবা মিষ্টি রোদের স্নিগ্ধ আলোয় উষ্ণতার পরশ খুঁজে পাওয়ার মতো অসাধারণ অনুভূতি, অসম্ভব ভালো লাগা গ্রামের প্রকৃতির মধ্যে পাওয়া যায়। এসব সৌন্দর্যের কোনো কিছুই শহুরে জীবনে উপভোগ করা না গেলেও শহরের জীবনে শীতের অন্যরকম সৌন্দর্য আছে। ইট-পাথরের আটকে পড়া জীবনে গায়ে চাদর মুড়িয়ে কুয়াশা ভেদ করে ব্যস্ত গন্তব্যে ছুটে চলা, পাড়ার চায়ের দোকানে টুং টাং শব্দ, চায়ের চুমুকে গরম বাষ্পের ধোঁয়ায় উষ্ণতা ছড়ানো, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট অসংখ্য পিঠার দোকানে হরেক রকম ভর্তাযুক্ত গরম গরম পিঠা খাওয়া, কুয়াশার অন্ধকারের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঝাড়ু দেওয়া, গাড়ির হেড লাইটের আবছা আলোর উৎস হতে হেলপারের হাঁক-ডাক শহরের জীবনে শীতের অন্যরকম আবেশ তৈরি করে।

গ্রাম কিংবা শহরের এমন সৌন্দর্যের মতোই শীতের আগমনে অসাধারণ সৌন্দর্য তৈরি হয় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিশালাকৃতির পুকুরে উড়ে আসা সাইবেরিয়ার অতিথি পাখিগুলো দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে একাডেমিক ভবন পর্যন্ত রাস্তার দু'পাশে লাগানো ফুলগাছে ফুটে থাকা ফুলগুলো অসম্ভব ভালো লাগার দৃশ্য তৈরি করে। সকালের মিষ্টি রোদের আভায় ফুলের গায়ে জমা শিশির বিন্দুগুলো মুক্তো দানার মতো ঝলমল করতে থাকে। মাঠের সবুজ প্রান্তরে ঘাসের ওপর হাঁটার সময় শিশিরে ভেজা ঘাসগুলো মনে করিয়ে দেয় গ্রামের মেঠোপথে হাঁটার সেই অনুভূতিকে। শীতের বর্ণনা দিতে গিয়ে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফৌজিয়া আক্তার জুঁই বলেন, শীত একটি রোমাঞ্চকর ঋতু। শীতের সকালে গায়ে চাদর জড়িয়ে কুয়াশার বুক ছিন্ন করে ভার্সিটি যাওয়ার মধ্যে কেমন যেন এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সন্ধান মেলে। মনে হয় কী যেন এক উষ্ণতা সারা গায়ে লেগে আছে। চারদিকে কনকনে হাড় কাঁপানো শীত, নিস্তব্ধতার সময় হালকা একটু উষ্ণতা সবার কাম্য হয়ে ওঠে। শীতের সকালে ক্যাম্পাসের মাঠে বসে রোদ পোহানো এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করে। ক্যান্টিনে বসে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে শীত নিবারণ করার পাশাপাশি গল্প আড্ডায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শীতের সকালে ক্যান্টিনের চা পানের মজার কথা তুলে ধরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী আহমেদ বলেন, শীতের সকালে প্রচণ্ড ঠান্ডায় বিছানা ছেড়ে উঠতেই ইচ্ছা হয় না। তবুও ভার্সিটির প্যারায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেতে হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে আসার পর সব অভিযোগ নিমেষেই মিলিয়ে যায়। ক্যান্টিনে চায়ের বাষ্পের সঙ্গে বন্ধুদের আড্ডার উষ্ণতা সব খারাপ লাগা দূর করে দেয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে প্রবেশমুখে রাস্তার দু'ধারে লাগানো ফুল গাছে শিশিরে ভেজা ফুলগুলো দেখার পরে মন যেন স্বপ্নের কোনো রাজ্যে হারিয়ে যায়।

শীতের অন্যতম আকর্ষণ শীতের পিঠা। আর তাই তো ক্যাম্পাসের পিঠার দোকানে ভিড় আর আড্ডা যেন শেষই হতে চায় না। সকালের সোনা রোদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা এক অন্যরকম দৃশ্যের সৃষ্টি করে। ক্যাম্পাসের মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে শরীর গরম করার আমেজ একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। শীতের সময় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, শীতবস্ত্র বিতরণ ইত্যাদি কর্মসূচি অন্যরকম মাত্রা যোগ করে। া