ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

চা-কন্যা শ্রীমঙ্গলে...

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২০

তানভীর আহমেদ রাসেল

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শীতকালীন অবকাশ। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাই অজানাকে জানতে ও আনন্দের জোয়ারে গা ভাসিয়ে নিজেদের ফুরফুরে করে নিতে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব নাঙ্গলকোটের (কুসান) শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ফলে সংগঠনটি আয়োজন করল বার্ষিক শিক্ষা সফর। ভেন্যু নির্ধারণ হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চা বাগান আর ছোট-বড় পাহাড়-পর্বতের নগরী শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলীয় পর্যটনবহুল ভূ-প্রকৃতির কোলঘেঁষে মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। নির্ধারিত দিনে ২০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে আমরা সবাই জড়ো হলাম কুমিল্লা রেলস্টেশনে। কনকনে শীতের রাতে খানিকটা কষ্ট হলেও সকালে শ্রীমঙ্গলের শ্রী চোখে অবলোকন করা মাত্রই সবার মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো। সকালের নাশতা করা মাত্রই চান্দের গাড়িতে করে আমরা বের হলাম আনারস বাগানের উদ্দেশে। পথে দিগন্তজুড়ে সবুজের গালিচা আর নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন মুহূর্তেই দূর করে দিল সবার ভ্রমণকান্তি। সমতল ভূমি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে দীর্ঘ সারিজুড়ে আনারসের বাগান মুগ্ধ করে সবাইকে। এরপর আমরা রওনা হলাম শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন পাহাড়-টিলাঘেরা সবুজ চা বাগানের উদ্দেশে। সবুজ গালিচার মতো বিস্তৃত মনমাতানো সারিবাঁধা ছোট ছোট চা গাছের সমাহার অভিভূত করে সবাইকে। কৃষ্ণবর্ণের চা কন্যাদের পিঠে বিশেষ ধরনের ঝুড়ি বহন করে চা সংগ্রহের ব্যস্ত কর্মতৎপরতার দৃশ্যগুলো অন্যরকম অনুভূতি যোগ করেছে। তারপর দীর্ঘ লাইনজুড়ে সুউচ্চ রাবার গাছের চিত্র দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সবার। এরপর রওনা হলাম মাধবপুর লেকের উদ্দেশে। প্রায় ৫০ একরের লেকটির স্বচ্ছ জলরাশির বুকে ফুটন্ত নীল পদ্ম, দু'পাশের সুউচ্চ টিলার ওপর ছোট ছোট চা গাছের সবুজ সমারোহ বিমোহিত করে উপস্থিত সবাইকে। অবশেষে আমরা চলে গেলাম লাউয়াছড়া উদ্যানে। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের উঁচুনিচু ছোট ছোট টিলায় বেড়ে ওঠা অসংখ্য বৃক্ষে আচ্ছাদিত পুরো উদ্যানটি। সারাদিনের বিরামহীন চমৎকার ট্যুর শেষে রাত ১২টায় আমরা ফিরে এলাম কুমিল্লায়। া