ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

একদল স্বপ্নবাজ তরুণ

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২০

রাজীব হোসেন

ব্যস্তময় এই নাগরিক জীবনে সবাই যখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন কিছু মানুষ মানুষকে ভালোবেসে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) তেমনই একদল স্বপ্নবাজ তরুণ শিক্ষার্থীর রক্তদান সংগঠন 'সঞ্চালন' শুধুই মানুষকে ভালোবেসে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই তরুণরা স্বপ্ন দেখেন রক্তের অভাবে আর একটা মানুষেরও অকালমৃত্যু হবে না। সেই স্বপ্নকে লালন করে রাত কিংবা ভোর অথবা মধ্যদুপুর যখনই প্রয়োজন হোক না কেন, তারা অসহায় রোগীর সেবায় রক্ত সংগ্রহ করে দেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছরে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি ব্যাগ রক্ত দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। 'রক্তের প্রবাহে গড়ি আত্মার বন্ধন'- এই স্লোগানে বলীয়ান সঞ্চালনের প্রতিটি সদস্য। ক্যাম্পাস জীবনে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য আড্ডার মতো বন্ধুদের এক আড্ডায় রক্তদানমূলক একটি সংগঠনের ধারণা দিয়েছিল গণিত বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র আসিফ আহমেদ রাজীব। তার ধারণায় আগ্রহী হয়ে সেই সময়ে সম্মতি দিয়েছিলেন ২৭ স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী। যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে। প্রিয় মানুষের রক্তের সন্ধানে স্বজনরা যখন দিশেহারা, তখন তাদের পাশে দাঁড়ান সঞ্চালনের সদস্যরা। সঞ্চালন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সর্বদা মানবসেবায় নিয়োজিত আছে।

রক্তদানের জন্য রক্তদাতা সংগ্রহ ছাড়াও অর্থাভাবে যারা চিকিৎসা করতে পারেন না, তাদের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য ক্যাম্পাসে বিভিন্ন চ্যারিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং সহযোগিতার বাক্স নিয়ে যায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং প্রতিবছর শাবিতে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদেরও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে সঞ্চালন। সঞ্চালনের ১২তম কমিটির সভাপতি মাহমুদুন নবী উদয় বলেন, আমাদের সংগঠনের অফিশিয়াল মোবাইল নাম্বার সিলেটের বড় হাসপাতালগুলোতে দেওয়া আছে। যখন কারও রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন আমাদের কাছে ফোন দিয়ে জানালে আমরা রক্তদাতা সংগ্রহ করি। এর জন্য আমাদের ডোনারদের তালিকা থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ডোনারের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং রক্তের ব্যবস্থা করে দিই। এসব কাজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে রক্ত দিতে গেলেই বোঝা যায় এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন কতটা। এক ব্যাগ রক্তের জন্য একজন মুমূর্ষু রোগীও সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। রক্ত দেওয়ার পরে রোগী এবং তার স্বজনের মুখে যে স্বস্তির ছাপ দেখতে পাই, সেটা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। া