ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


গণবিশ্ববিদ্যালয়

শুরু হোক নতুন দিন

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২০      

আশিকুর রহমান

শুরু হোক নতুন দিন

বিগত বছরের সব কষ্ট পানিতে ভাসিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান শিক্ষার্থীরা ছবি :সাজ্জাদ সাজু

অতীতের কোনো ভুল এসে যেন প্রভাব ফেলতে না পারে। অতীত নয়, বরং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমার ছোট নৌকায় আজ অতীতের সব কষ্ট ভাসিয়ে দিলাম



মানুষের জীবনে যেমন আনন্দের বিভিন্ন উপলক্ষ থাকে, তেমনি থাকে বিরহ ক্লিষ্ট কিছু স্মৃতি! এসব পেছনে ফেলেই সামনের পথে এগিয়ে যায় জীবন।

চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী যখন সময়ের আবর্তনে একটি বছর বিদায় নেয়, তখন মানুষ সেটাকে উৎসবের আবহে পরিণত করে। হোক সেটা আনন্দ কিংবা দুঃখের আবহ! এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে না দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। বছরের শেষ সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর ধুম পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তারাও ভিন্ন রূপে এই অঘোষিত উৎসবকে পালন করে থাকেন। বিগত বছরের সব কষ্টকে পানিতে ভাসিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান তারা। কাগজের তৈরি নৌকায় দুঃখ ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রতীকী হলেও নানান অর্থ বহন করে এটি।

শিক্ষার্থীরা বোঝাতে চান, এই কাগজের নৌকাতে আমার জীবনের সমস্ত খারাপ, অন্যায়, অবিচার ভাসিয়ে দিলাম অজানার পথে, যেন আর কখনও ফিরে আসতে না পারে। এরপর নিজেকে একজন পরিপূর্ণ ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে তারা হতে চান একজন সুনাগরিক।

কাগজের নৌকা ভাসানোর এই প্রতীকী বিষয়টার সঙ্গে একেকজনের চিন্তাভাবনা একেক রকম। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ানিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, 'অতীতকে মনে করে বর্তমানকে কখনও ব্ল্যাকমেইল করতে দেবেন না। আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। আমি চাই সামনের দিনগুলোতে অতীতের কোনো ভুল এসে যেন প্রভাব ফেলতে না পারে। অতীত নয়, বরং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ছোট নৌকায় আজ অতীতের সব কষ্ট ভাসিয়ে দিলাম।'

নতুন বছরের সূচনালগ্নে সবারই চাওয়া থাকে আগামীর দিনগুলো যেন ভালো হয়। অনেক ভালো লাগা, মন্দ লাগা, সুখ-দুঃখের গল্পের বহর নিয়ে স্মৃতির খাতা থেকে বিদায় নেয় একটি বছর। তবে নতুন বছরের আগমনে সবাই অনেক আশাবাদী থাকে। সবারই চাওয়া থাকে, আগামী দিনগুলো হয়ে উঠুক সুস্থ, সুন্দর, আনন্দময়, মঙ্গলময় ও কল্যাণে পরিপূর্ণ। অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, 'অতীতের অজস্র গ্লানি জীবন থেকে মুছে ফেলতে চাই, কষ্টগুলো ফানুসে উড়িয়ে দিতে চাই। নতুনের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়ে পৌঁছাতে চাই স্বর্ণালি গন্তব্যে। সাফল্যগুলোকে সম্বল আর ব্যর্থতাগুলোকে শিক্ষা ও শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। চলো কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে যাই, বিশ্বমঞ্চে বেজে উঠুক বাংলার জয়গান।'

নতুন নতুন ভাবনা আর মত প্রকাশের স্থান হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তাই একেক বিভাগের শিক্ষার্থীর মতও একেক রকম। বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরজাহান চৌধুরী বলেন, 'ক্যালেন্ডারের পাতা জানান দিচ্ছে আরও একটি বছর শেষ হয়ে গেল। চলে এলো নতুন এক বছর। বাংলা নববর্ষ নিয়ে বাঙালি হিসেবে অনেক সংস্কৃতিমনা হলেও ইংরেজি বছরকে বরণেও কোনো কার্পণ্য করে না বাঙালি। নতুন বছরে আশা করি নতুন কিছু করতে পারব।'

শত ব্যস্ততার মাঝেও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের আগমনকে পালন করেছেন উৎসবের আবহে। অতীত জীবনের কথা তুলে ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ বপনের জন্য বদ্ধপরিকর তারা। আর তাই তো তীব্র শীতও তাদের পানিতে নামার মতো সময়োপযোগী যুদ্ধে হার মানাতে পারেনি। া