ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


টিএসসিতে খুনসুটি

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০      

প্রিয়াংকা পিংক

আড্ডা! আড্ডা মানেই মনে অন্যরকম ভালো লাগা। আর এই আড্ডা যদি সন্ধ্যায় শুরু হয়ে রাত অবাধ চলে, তাহলে তো ভালো লাগার মাত্রাটা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। জায়গাটি যদি আবার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, তাহলে তো কোনো কথাই নেই, এ যেন সোনায় সোহাগা। আড্ডা জমে ওঠার জন্য এর চেয়ে আর সুন্দর কোনো কিছু হতেই পারে না। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তন্বী ফেসবুকে পোস্ট দেয়। 'কই তোরা? টিএসসিতে আছি, সবাই চলে আয়।' তন্বীর পোস্ট দেখে টিএসসিতে একে একে উপস্থিত হয় মেহেদী, রেজাউল, রিফাত, নিপা, রানা, সাদিক, বৃষ্টি, নুসরাত, সাইফুলসহ অনেকে। আমি তখনও হলে। বন্ধু আশিকের ফোনকল। দোস্ত কই তুই? টিএসসিতে চলে আয়, আমরা সবাই চলে আসছি। রুম থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বন্ধুত্বের টানে একরকম বাধ্য হয়ে আমিও যোগ দিই আড্ডায়। দেরি করে যাওয়ায় সম্মিলিত চা পর্বটা মিস করি। তবে বন্ধু ইমতিয়াজ তা পুষিয়ে দেয়। বাদ পড়া কয়েকজন একসঙ্গে চা পর্বটা সেরে ফেলি। এর পর শুরু হয় মন খুলে কথাবার্তা, হাসি-তামাশা আর খুনসুটি। আশিকের স্যুট-টাই-শু পরা সাজগোজ, নিপার হাসিমাখা খুনসুটি, বৃষ্টির দুষ্টুমি, মেহেদীর মধুমাখা কথাবার্তা, ইমতিয়াজের আপ্যায়ন, তন্বীর ফটোসেশন, নুসরাতের অমায়িক সৌন্দর্যই ছিল আড্ডার মূল টপিক। ধীরে ধীরে উপস্থিতি যত বাড়তে থাকে, আড্ডা জমে ওঠে তত গভীরভাবে। সময় যে কখন চলে যায়, কেউ বুঝতেই পারে না। সবার মনে তখন একটাই ভাবনা- ভালোই তো লাগছে, চলুক না আর কিছুক্ষণ। সত্যি বলতে বন্ধুত্ব আসলে এমনই এক নির্মল সম্পর্কের নাম, যার কাছে জীবনের অনেক কিছুই শেয়ার করা যায়, যাকে বিশ্বাস করা যায়, যার সঙ্গে সময় কাটালে শুধু ভালোই লাগে না, জাগরিত কিছু বিশেষ অনুভূতি। সেদিনের আড্ডার উপলব্ধিটাও ছিল তেমনই। একবাক্যে বললে অসাধারণ। সবাই কত কিছু বলছে অথচ কারও মুখে বিরক্তির কোনো ছাপ নেই। সবার চোখে-মুখে শুধু আনন্দরই ছাপ। সত্যিকার বন্ধুত্ব এমনই। সবার চাওয়া শুধু একটিই- এই বন্ধুত্ব যেন নষ্ট না হয়ে যায়, টিকে থাকে যেন যুগ যুগ ধরে। রাত সাড়ে ৯টা, তবুও আড্ডা শেষ হওয়ার নাম-গন্ধ নেই। কিন্তু বাস্তবতা মেনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাত পৌনে ১০টার দিকে আড্ডার ইতি টানতে হয়। া