ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


মানবতার জন্য

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০      

কাজী আশফিক রাসেল

'জননী গো জন্মভূমি তোমারি পবন, দিতেছে জীবন মোরে নিশ্বাসে নিশ্বাসে!'- জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাবোধ আবহমানকাল থেকেই। দেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আমরা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার অভিপ্রায়ে গড়ে তুলি 'স্পর্শ বাংলাদেশ' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 'স্পর্শ মানবতায়, স্পর্শ মানবতার' স্লোগানে আমাদের সংগঠনটির পথচলা শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ মে। শুরুতে আমাদের সদস্য সংখ্যা ছিল ২১ জন। এখন ১২৫ জন। কাজী আশফিক রাসেল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। আমরা সদস্যরা প্রত্যেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হলেও আমাদের সবার জন্মস্থান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান, দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ঈদ, পূজা বা বড়দিনে নতুন জামা বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, রক্তদান কর্মসূচি, মাদক প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের সংগঠন 'স্পর্শ বাংলাদেশ' সমাজের অনাথ, অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে।

সদস্যরা বিভিন্ন বিদ্যাপীঠের হলেও এখানে দূরত্ব কোনোরকম বাধা নয়। সংগঠনের সদস্যদের মাঝে আন্তঃসম্পর্ক আরও দৃঢ় ও মজবুত করার জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ প্রক্রিয়া। রয়েছে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে চ্যাটিং গ্রুপ।

অধিকাংশ কার্যক্রম হয় সাধারণত আমাদের ছুটিনির্ভর। সদস্যদের মত ও সুবিধানুযায়ী ভিন্ন সদস্য দ্বারা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমরা সদস্যরাই সম্মিলিতভাবে বহন করি। সদস্যবহির্ভূত কারও কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নেওয়া হয় না। আমাদের সম্মিলিত চাঁদা পরিমাণে ছোট হলেও আমরা স্বপ্নালু চোখে স্বপ্ন দেখি এবং বিশ্বাস করি আমরা সবাই যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবো, সেদিন চাঁদার পরিমাণ নিশ্চয়ই এত ছোট অঙ্কের হবে না। স্পর্শ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ যেমন উপকৃত হচ্ছে, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগ্যতা, নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা সদস্যরাও উপকার পাচ্ছি। া