ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আনন্দের প্রথম সমাবর্তন

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২০      

এস এম আল-আমিন

প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেই দেখা মিলল হাজারো শিক্ষার্থীর এক মহামিলন। কালো গাউন আর টুপি পরিহিত শিক্ষার্থীদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ। স্বপ্ন পূরণের এক মাহেন্দ্রক্ষণে তারা দাঁড়িয়ে। এ দৃশ্য প্রথম সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এ যেন এক মহাসমারোহ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য সাফল্যের সঙ্গে সমাপন করা হাজারো টগবগে তরুণ-তরুণী গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপন শেষে এখন সনদ নেওয়ার পালা। গত ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। এ উপলক্ষে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জমে উঠতে থাকে ধুপখোলা খেলার মাঠ। হাজারো শিক্ষার্থীর মহাউল্লাস- আহা কী আনন্দ...। এ উৎসব চলছিল ক্যাম্পাসব্যাপী।

ক্যাম্পাস সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। গাউন পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। দিনভর ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈচৈ ও কোলাহলে মেতে থাকে সবাই। ওই দিন দুপুরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে সনদ গ্রহণ করেন।

ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা, ১১ দফা, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অনেক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ তার ভাষণে জাতির প্রত্যাশা পূরণে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সমাবর্তন বক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

মূল অনুষ্ঠান শেষে দিনভর উল্লাসের পর পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার মিশা জানান, সমাবর্তনের এই একটি দিনের জন্য আমাদের অপেক্ষা ছিল অনেক দিনের। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর আমাদের নির্দিষ্ট পোশাক আর বিশেষ 'গ্র্যাজুয়েট ক্যাপ' পেয়ে কতটা গর্বিত লাগছিল, ভাষায় প্রকাশ করার নয়। এ এক অন্য রকম অনুভূতি। এ সময় সমাবর্তনে আসা দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নন্দিতা, পারমিতা, মুক্তা, সালমান, মানসী প্রথম সমাবর্তনের আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। দর্শন বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রুখসানা নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, অনুভূতিটা অসাধারণ; অনেক গর্বের। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে কোর্স সম্পন্ন করার পর সমাবর্তনে উপস্থিত থাকাটা অনেক বড় পাওয়া। া