ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


মেডিকেল ছাত্রদের বিজয়

অটিজম পোস্টার প্রদর্শনী

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২০      

আরাফাত বিন হাসান

মেডিকেল ছাত্রদের বিজয়

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করা দলগুলোকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তারা ছবি : আরাফাত

অটিজম শিশুর বিকাশজনিত একটি সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের অটিজম সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাবিশ্বে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ মানুষ অটিস্টিক। বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা অটিজম আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন। এই অটিজম আক্রান্তদের চিকিৎসায় সর্বাধুনিক গবেষণা এবং উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতিতে আধুনিক গবেষণা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার প্রতি বছর 'আন্তর্জাতিক অটিজম কনফারেন্স'-এর আয়োজন করে থাকে। এ বছরও 'আন্তর্জাতিক অটিজম কনফারেন্স-২০২০'-এর আয়োজন করেছে ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার। গত ১০-১২ জানুয়ারি কলকাতার ইমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছে 'ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর মেডিকেল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ' (আইএফএমএসএ বাংলাদেশ)-এর একটি দল। সেই দলে ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আলভী আহসান, মুমতাহিনা ফাতিমা, রাইসা নাওয়াল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা আরাফাত ইসলাম। এ কনফারেন্সে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. রোনাল্ড রিফ, কেভিন গার্স, লরি উম্বসহ বিশ্বের বেশ কয়েকজন সুপরিচিত গবেষক। প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টেরও আয়োজন করা হয় কনফারেন্সটিতে। এর মধ্যে একটি ছিল অটিজমবিষয়ক গবেষণামূলক পোস্টার প্রদর্শনী।

আর এই পোস্টার প্রদর্শনীতেই মূলত 'আইএফএমএসএ বাংলাদেশ'-এর দলটি অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হলে প্রাথমিকভাবে ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টারকে গবেষণাপত্র জমা দিতে হয়; পরবর্তী সময়ে গবেষণাপত্র যাচাই-বাছাই করে মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করে প্রতিষ্ঠানটি। অটিজম বিষয়ে গবেষণামূলক পোস্টার প্রদর্শনীর এই ইভেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২২টি দল মনোনয়ন পেয়ে অংশগ্রহণ করে। গবেষণাপত্র জমা দিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার পর 'আইএফএমএসএ বাংলাদেশ'-এর দলটিও 'নলেজ অব অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার অ্যামং সেকেন্ড-ফোর্থ ফেজ এমবিবিএস স্টুডেন্টস অব বাংলাদেশ' বিষয় নির্ধারণ করে একটি পোস্টার জমা দেয় ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টারে। আর এতেই বিচারকদের রায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করা দলগুলোকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তারা। বিজয়ী দল হিসেবে তাদের পুরস্কারস্বরূপ ১০ হাজার রুপি এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে রীতিমতো বাজিমাত করার অনুভূতি জানতে চেয়েছিলাম অংশগ্রহণকারী দলের সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা আরাফাত ইসলামের কাছে। তিনি জানান, 'এ রকম একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। অটিজম নিয়ে গবেষণা করে যারা বিশ্বখ্যাত হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে দেখতে পারা আমাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করি। আর পোস্টার কম্পিটিশনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন অনেকটা স্বপ্নের মতো। এই অর্জন আমদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।'

এ ছাড়া অটিজম নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা ফাতিমা বলেন, 'বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে বেশ কিছু কাজ হয়েছে, কিন্তু এখানে অটিজম নিয়ে গবেষণামূলক কাজের পরিসরটা খুব একটা বড় নয়। ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনেও অটিজম নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করতে চাই। তাছাড়া দেশের ভেতরের মেডিকেল কলেজগুলোয় অটিজম নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অটিজম নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি করতে চাই।'া