ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


দ্বীপ রাজ্যে একদিন

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

তারেক রেজা খান

সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ। বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করলাম ভ্রমণে যাব। তাই এবারের ভ্রমণের জন্য বেছে নিলাম নিঝুম দ্বীপকে। ২২ জানুয়ারি, ভোর ৭টায় বন্ধুরা মিলিত হই শেখ রাসেল হল গেটে।

কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন এলো। আমরা ঝিকঝিক শব্দে ট্রেনে করে ছুটে চললাম গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে। এরপর ফেরি পার হয়ে উঠলাম ঢাকাগামী বাসে। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলেছে বাস। আমাদের মনেও শিহরণ। কারণ বাস থেকে নেমেই উঠব হাতিয়াগামী লঞ্চে। সদরঘাটে পৌঁছে তাসরিফ-১ লঞ্চের টিকিট কাটলাম। ছয় বন্ধুর মধ্যে পাঁচজনেরই লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। সারাদিনের ক্লান্তিতে কেবিনেই ঘুমিয়ে পড়েছে ওয়ালি, জিয়া, হাদিস ও ফুরকান। আমি ও আবদুর রাজ্জাক লঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে নিঝুম অন্ধকারে পানির কলকল ধ্বনির আওয়াজ শুনে পুলকিত হচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস আর নদীর কলকল পানির শব্দ যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। একপাশে চর, অন্য পাশে যতদূর দৃষ্টি যাচ্ছে শুধু পানি আর পানি। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে করতে কখন যে নদীর মোহনায় এসে গেছি টেরই পাইনি। পড়ন্ত বিকেলে সৈকতের তীরে খেজুর গাছের সারি ভরা মরুভূমির গায়ে সূর্য অস্তমিত যাওয়া কী অপরূপ দৃশ্য! মনে হবে এ যেন স্বর্গের ক্ষুদ্র নমুনা। এই অপরূপ দৃশ্য অবলোকনের পর হোটেলের দিকে যাত্রা শুরু। আবারও মনের ভেতরে বেজে উঠল স্বরচিত দুটি বাক্য। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আমি

দু'পাশে শুধুই খেজুর গাছের সারি গাছে লাগানো আছে রসের হাঁড়ি। এসব দেখে বন্ধুরা খেজুরের রস খাওয়ার পাঁয়তারা করছে। বলাবলি করছে, সাগর পাড়ের খেজুরের রস খুব মিষ্টি হয়। যেই ভাবনা সেই কাজ। খেজুর গাছের সারি ধরে পৌঁছলাম এক বাড়ি। সবাই মিলে তৃপ্তি সহকারে খেজুর রস খেলাম। সত্যিই সাগর পাড়ের খেজুরের রস অতুলনীয়। এরপর হোটেলে পৌঁছে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাশতা সেরেই একটি সিএনজি ভাড়া করলাম। উদ্দেশ্য নিঝুম দ্বীপ। সিএনজিচালক আলী মামা আমাদের বেশকিছু পরামর্শ দিলেন। বনে ঢুকে কোনো কথা বলা যাবে না, ধীর পায়ে চলতে হবে। কারণ আওয়াজ পেলে হরিণ পালিয়ে যায়। পথ পাড়ি শেষে পৌঁছে গেছি আমাদের স্বপ্নের ম্যানগ্রোভ বনে। আলী মামাও আমাদের সঙ্গ দিলেন। বনে নানা ধরনের গাছগাছালি আর কুয়াশা ছাড়া কিছুই যেন নেই। হাঁটছি তো হাঁটছি। হঠাৎ আলী মামার সংকেত! ইশারায় বললেন- বসে পড়ুন। মামার ইশারায় আমরা বসে পড়লাম। মামা একটু নিচু হয়ে আমাদের সঙ্গে একত্র হলেন আর দেখাতে লাগলেন হরিণের পালের দলবদ্ধভাবে ছুটে চলা। এই কুয়াশা ভরা সকালে বনে এসে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর আমরা সফল হয়েছি। এই খুশিতে সবার মুখ হাস্যোজ্জ্বল। কিছু ছবি তুলে অনেকটা মনের বিরুদ্ধেই বিদায় জানালাম নিঝুম দ্বীপকে। ইচ্ছে হচ্ছিল যদি পাখি হয়ে জন্ম নিতাম, তবে আজীবন থেকে যেতাম এই চরে...া