ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


বালি ডেমোক্রেসি ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যা

অন্যরকম আয়োজন

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

রাজীব হোসেন

বিশ্ব যখন যুদ্ধ, সংঘাত ও সংকটের মুখে তখন ৫০টি দেশের ১৪৭ জন ক্ষুদে রাষ্ট্রদূত বসেছিলেন কীভাবে বিশ্বে গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তি এবং সবার জন্য বিশ্বে পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। শুধু গণতন্ত্র নয়, আলোচনা করেছেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বালি শহরে বালি ডেমোক্রেসি ফোরামের আয়োজনে এমনই একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫০টি দেশের রাষ্ট্রদূত বসেছিলেন কীভাবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাদের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা নিজেদের রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা রাখতে পারেন। 'ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটি' (গণতন্ত্র ও ব্যাপকতা) স্লোগান সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বালির সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে তিনজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তারা হলেন- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হোসাইন নাসিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র খান রাসূল বিন ওয়ালি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের নাহিয়ান রেজা সাবরিয়েত। কিন্তু নাহিয়ানের ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় তার অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খরচে বাংলাদেশের হয়ে ক্ষুদে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরই দু'জন। সম্মেলনে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের গণতন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হন এবং নিজ দেশের গণতন্ত্রকে তুলে ধরেন।

গণতন্ত্রের পাশাপাশি বেশ জোরের সঙ্গে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে বলতে মাহমুদুল বলেন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন তখন আমরা রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরি। আমরা জানাই রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাদের ওপর চালানো হয়েছে পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনে অনেকেই মারা গেছে এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছে।

এই সমস্যায় বাংলাদেশ বারবার মিয়ানমারের সঙ্গে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করেছে কিন্তু মিয়ানমার কোনো সমাধানে আসেনি। এমন অবস্থায় আমরা সব রাষ্ট্রদূত এবং ক্ষুুদে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাশে থাকার জন্য। তারা আমাদের সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন।

সম্মেলন নিয়ে তিন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, আমরা এই সম্মেলন থেকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি। আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। অন্য দেশের শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদের সাথে কাজ করার ফলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয়েছে। এই ধরনের আয়োজনে অংশ নিতে পারা বেশ সৌভাগ্যের ও আনন্দের।

তিন দিনের সম্মেলনের শেষ দিনের কথা বলতে গিয়ে ওয়ালি বলেন, শেষ দিন ছিল অন্য সময়ের চেয়ে একটু আলাদা। আমাদের সবাইকে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানো হয়। বিশেষ করে ইসলাম, খ্রিষ্টান ও সনাতন ধর্মের মতো পাঁচ ধর্মের মসজিদ, গির্জা ও মন্দিরের পাঁচটি স্থান দেখানোর মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। া