ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


উচ্চশিক্ষা

অবারিত সুযোগ বেলজিয়ামে

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

পশ্চিম ইউরোপের একটি উন্নত দেশ বেলজিয়াম। বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসহ অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন বেলজিমায়ের প্রথম

সারির বিশ্ববিদ্যালয় গেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী

আল-আমিন নাইম

বেলজিয়াম ইউরোপের সুন্দর একটি দেশ। পশ্চিম ইউরোপের সেঞ্জেনভুক্ত ছোট এই দেশটির রাজধানী ব্রাসেলস। দেশটিতে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস। মূলত কম খরচে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ এবং কাজের প্রচুর সুযোগ থাকায় দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। ছোট এই দেশটির অফিসিয়াল ভাষা ফ্রেঞ্চ, ডাচ ও জার্মান। সুতরাং আপনি যদি বেলজিয়ামে যেতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা

বেলজিয়ামের শিক্ষার মান খুবই উন্নত এবং এর ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বস্ত্র, স্থাপত্য, আইটি, স্বাস্থ্য ও বিজনেস রিলেটেড কোর্সের জন্য দেশটি খুবই ভালো। উচ্চতর গবেষণার জন্য দেশটিতে অনেক সুযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামে অনেক ইউনিভার্সিটি রয়েছে- যেগুলোর র‌্যাংকিং বেশ ভালো। বেলজিয়ামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সাধারণত ডাচ ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে ইংরেজিতে পড়াশোনা করা যায়।

বেলজিয়ামে পড়াশোনার খরচ

পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে বছরে সাত থেকে আট লাখ টাকা খরচ হয়। নন-ইউরোপিয়ান দেশ থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে খরচ হয় তিন হাজার ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার ইউরো। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগও রয়েছে দেশটিতে। থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ হবে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ ইউরো।

ভাষা দক্ষতা ও আবেদন যোগ্যতা

বেলজিয়ামের বেশিরভাগ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় পড়ানো হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি মাধ্যমেও পড়া যায়। ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ থেকে ৭.০ থাকতে হয়। তবে যেসব শিক্ষার্থীর স্নাতকের মাধ্যম ইংরেজি ছিল তারা আইইএলটিএস স্কোর ছাড়াই মাস্টার্সে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মার্কস থাকা ভালো।

আবেদনের প্রক্রিয়া

বেলজিয়ামে বছরে সাধারণত একবার আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের। আবেদন করার জন্য অবশ্যই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভর্তির তারিখ দেখতে হবে। আবেদন করার জন্য এসএসসি, এইচএসসি এবং অনার্সের সার্টিফিকেট, মোটিভেশনাল লেটার, সিভি, রেফারেন্স লেটার দরকার হয়। উল্লেখ্য, শিক্ষা সনদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার কর্তৃক সত্যায়িত করার পর শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলজিয়াম কনস্যুলেট থেকে সত্যায়িত করাতে হবে। এরপর এসব পেপার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা বরাবর ডাকযোগে পাঠাতে হবে।

ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

বেলজিয়াম সরকারের কনস্যুলেট অফিস বাংলাদেশে থাকলেও কোনো দূতাবাস নেই, তাই ভিসা আবেদন করতে হবে ভারতের নয়াদিল্লির বেলজিয়াম দূতাবাসে। সব একাডেমিক ডকুমেন্টস নিয়ে আপনার ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ভিএফএস ভারতে যেতে হবে। ভিসার জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ইউনিভার্সিটি/ কলেজ অফার লেটার, আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র থাকতে হবে।

বাসস্থান ও পার্টটাইম জব-সংক্রান্ত তথ্য

বেলজিয়ামে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি আছে সামার ভ্যাকেশনে ফুলটাইম কাজ করার অনুমতি আছে। থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে ৪০০-৬৫০ ইউরো লাগতে পারে। উল্লেখ্য, পাঁচ বছর থাকার পর কিছু শর্ত মেনে পিআর/স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বেলজিয়ামের কয়েকটি বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি-

University of Ghent
www.ugent.be/en
Katholieke Universiteit Leuven
www.kuleuven.be/english
Université Catholique de Louvain
uclouvain.be/fr/index.html
Vrije Universiteit Brussel (VUB)
www.vub.ac.be/en/
Universite Libre de Bruxelles
www2.ulb.ac.be/index.html